ফেনীতে প্রিন্সিপালের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ফেসবুকে ঝড়

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুন ১৫, ২০২০
ফেনীতে প্রিন্সিপালের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ফেসবুকে ঝড়

আওয়ার বাংলাদেশ নিউজ :

ফেনী শহরস্থ দারুল ঈমান ক্যাডেট মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও স্থানীয় জামে মসজিদের সম্মানিত খতীব মাওলানা মামুনুর রশীদ গতকাল ১৪জুন ( রবিবার) বিকাল ০৫.৪২মিনিটে নিজ মাদ্রাসার সামনে ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন।

এ ঘটনায় অফলাইনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। প্রত্যেকে ঘটনার সাথে জড়িত স্থানীয় সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর আলমের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবী জানাচ্ছে।

প্রিন্সিপাল মামুনুর রশিদের উপর হামলার ঘটনায় দারুল ঈমানের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ২মিনিট ২০সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যায় প্রিন্সিপাল মামুনুর রশিদ নিজ প্রতিষ্ঠানের সামনে বসে আছেন, হঠাৎ সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর আলম এসে একটি চুরি দিয়ে তার উপর আঘাত করতে থাকে, একপর্যায়ে মামুনুর রশিদ সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীরের হাত থেকে চুরিটি চিনিয়ে নিয়ে দূরে ফেলে দিলে সন্ত্রাসী তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এবং শেষে সিসি ক্যামেরার অস্তিত্ব বুঝতে পেরে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাদ্রাসার আঙ্গিনায় নিয়ে গেলে সেখান থেকে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

হামলার ঘটনায় সমবেদনা জানিয়ে প্রিন্সিপাল মামুনুর রশিদের সাথে আওয়ার বাংলাদেশ টোয়েন্টিফোর ডটকমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অন্যায়ভাবে সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর আমার উপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালিয়েছে। আমি থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেছি। জাহাঙ্গীর আলমের এই হামলায় আমি ব্যক্তিগতভাবে আতংকিত, আমি এর কঠোর শাস্তি চাই, এবং আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চাই।

প্রিন্সিপাল মামুনুর রশিদের উপর হামলার ঘটনায় ফেসবুকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ফেনী জেলার ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আলহাজ্ব একরামুল হক ভূঞা, ইশা ছাত্র আন্দোলন ফেনী জেলার সাবেক সভাপতি মাওলানা গোলাম সরোয়ার সিরাজী, ছাগলাইয়া আজিজিয়া প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সেক্রেটারি সৈয়দ হাবিব উল্লাহ বেলালী, ইশা ছাত্র আন্দোলন ফেনী জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম ও ফেসবুক সেলিব্রিটি তারেক সিদ্দিকীসহ অনেকেই নিন্দা ও প্রতিবাদ করে প্রশাসনের প্রতি সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর আলমকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।

তারেক সিদ্দিকীর ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

ফেনীতে প্রকাশ্য দিবালোকে মাদরাসা প্রিন্সিপালের উপর সন্ত্রাসী হামলা
#আমরা_ফেনীবাসী_লজ্জিত
#প্রশাসন_ও_সাংবাদিকবন্ধুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

মামুনুর রশীদ। যিনি একজন হাফেজ, আলেম, প্রিন্সিপাল, সংগঠক, খতীব। পড়ালেখা করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে। কওমী ও আলিয়াতে সমানতালে তাঁর মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। এছাড়াও তিনি ফেনীর এক শীর্ষ আলেম ফ্যামিলির সন্তান।

ফেনীতে মানুষগড়ার লক্ষ্যে প্রায় ১যুগ আগে ফেনী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড আরামবাগ সুইমিংপোলের পাশে “দারুল ঈমান মাদরাসা” প্রতিষ্ঠাতা করেছিলেন। অল্পসময়ে সুশিক্ষার আলো ছড়াতে দারুল ঈমানের ভূমিকা অনন্য। পাশাপাশি স্থানীয়দের ভূমিকাও প্রশংসনীয়।

কিন্তু দুঃখের বিষয়! গতকাল জাহাঙ্গীর আলম নামক এক স্থানীয় সন্ত্রাসী প্রিন্সিপাল মামুনুর রশীদের উপর প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা করে ও তাঁকে চুরি দিয়ে রক্তাক্ত করে।

জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম দারুল ঈমানের সাবেক ছাত্র শান্তর বাবা। যে সমাপনী পরীক্ষা শেষ করে বর্তমানে ফেনীর ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান ফালাহিয়াতে ৭ম শ্রেণিতে পড়েলেখা করছে।
শান্তর কাছে মাদরাসার বকেয়া টাকা ছিলো। সেগুলো চাওয়ার পর থেকে সে প্রিন্সিপালের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ও ফেসবুকে প্রিন্সিপালের পোস্টে অরুচিকর কমেন্ট করে। প্রিন্সিপাল সাহেব সুরুচিপূর্ণ কমেন্ট করে প্রতিউত্তর দিলে সে আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। তার জের ধরে গতকাল মাদরাসা প্রাঙ্গণে তার উপর প্রকাশ্যে হামলা করে।

একজন অভিভাবক হয়ে অন্যায়ভাবে প্রিন্সিপালের উপর সন্ত্রাসী হামলা ছিলো অমানবিক।

এছাড়াও জানা যায়, তার ছেলে পড়াকালীন সে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রদের মারপিঠ করত ও শিক্ষকদের সাথে অশালীন ব্যবহার করত।

অামরা প্রশাসনের কাছে এই সন্ত্রাসী হামলার বিচার চাই। সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীরের যথোপযুক্ত শাস্তি চাই।

Sharing is caring!