ফেনীতে ঠিকাদার অপহরণ মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম রিমান্ডে

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জানুয়ারি ৬, ২০২১
ফেনীতে ঠিকাদার অপহরণ মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম রিমান্ডে

ফেনী প্রতিনিধিঃ  – ফেনীতে ঠিকাদার অপহরণ মামলায় শর্শদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি জানে আলম দুলালকে একদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।গতকাল মঙ্গলবার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেনের আদালতে তাকে হাজির করা হয়।এ সময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিনের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।জানে আলমকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পেতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গত ১ জানুয়ারি এ মর্মে আদালতে আবেদন জানিয়েছে। এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া অপর আসামি শহরের পূর্ব উকিলপাড়া এলাকার মুন্সি পুকুরপাড় সংলগ্ন বাড়ির শাহাদাত হোসেনের ছেলে মো. রাসেল হোসেনের একদিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি পান তদন্ত কর্মকর্তা।এর আগে গ্রেফতার হওয়া সম্রাট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।গত বৃহস্পতিবার ভোরে দক্ষিণ জাহানপুর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে জানে আলমকে গ্রেফতার করা হয়।ঠিকাদার খলিলুর রহমান বাদী হয়ে শর্শদি ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম দুলাল ও গ্রেফতার চারজনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজনেক আসামি করে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। অপর দুই আসামি হলেন- উত্তর জাহানপুর এলাকার মোয়াজ্জেম বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে মো. সালাউদ্দিন ও জোয়ারকাছাড় এলাকার সাহাব উদ্দিন মোল্লা বাড়ির কবির আহম্মদের ছেলে কামরুল হাসান সাব্বির। তারাও বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।এর আগে গত রোববার ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার গ্রাম পুলিশদের পোশাক সরবরাহের দরপত্র জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। ৫৪ লাখ টাকার ওই কাজ পেতে নির্ধারিত দিনে দরপত্র জমা দেওয়ার জন্য ফেনী আসেন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার ইনপিঞ্জারপুর এলাকার বাসিন্দা রাজধানীর ব্যবসায়ী ঠিকাদার খলিলুর রহমান। বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত ‘মাটি আর মানুষ’ নামীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খলিলুর রহমানকে গতিরোধ করে দরপত্র জমা দিতে নিষেধ করেন। তিনি তাদের নিষেধ অমান্য করে নির্ধারিত বাক্সে দরপত্র জমা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে মারধর করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সম্মুখস্ত একটি কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে আটকে রাখে। খবর পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশির পর দুপুরে তাকে উদ্ধার করে।

Sharing is caring!