ফেনীতে করোনায় মৃতের লাশ দাফনে অংশ নেয়ায় ইমামকে অব্যহতি

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুন ২১, ২০২০
ফেনীতে করোনায় মৃতের লাশ দাফনে অংশ নেয়ায় ইমামকে অব্যহতি

হাফেজ শেখ ফরিদ

 বিশেষ প্রতিনিধি

ফেনী জেলার সোনাগাজী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বক্সআলী ভূঁইয়া বাড়ী জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নূরুল্ল্যাহ করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির দাফনকার্যে অংশগ্রহণ করার কারনে চাকুরী থেকে অব্যহতি দিয়েছে উক্ত মসজিদ কমিটি।

জানা যায়, সোনাগাজী উপজেলার ৪নং ইউনিয়নের সুলাখালী গ্রামের বাসিন্দা ফেনী-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর চাচা সোনাপুর ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাওলানা জিয়াউল হক গত ১৭ই জুন বুধবার করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণ করেন। যার কাফন-দাফনে অংশগ্রহণ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোনাগাজীর কাফন-দাফন টিম। সে টিমের একজন সদস্য হিসেবে মাওলানা নূরুল্যাহও দাফনকার্যে উপস্থিত ছিলেন।

যার কারনে ইমামকে ১৯ইজুন শুক্রবার ইমাম ও খতীবের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যহিত দেয় মসজিদ কমিটি। এবং তিনি মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে তাকে সেখান থেকেও বের করে দেয়া হয়।

মাওলানা নূরুল্যাহ ২০১৪ সাল থেকে উক্ত মসজিদে সুনামের সহীত ইমাম ও খতীবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মসজিদটি ওয়াকফ সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় কমিটি ও মুতাওয়াল্লিদের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলাউল বলেন, মাওলানা নুরুল্লাহর বিষয়ে কমিটির অভিযোগ, ইমাম সাহেব কমিটির অনুমতি না নিয়ে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত দুইজন ব্যক্তির দাফন-কাফনে (গোসল ও আনুষঙ্গিক কাজ) অংশগ্রহণ করেন, তাই তাকে ইমামের দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

মসজিদের মুতাওয়াল্লী আলমগীর বলেন, আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় মসজিদে উপস্থিত ছিলাম না। তাই এ বিষয়ে সবকিছু আমার জানার বাহিরে।

অপরদিকে সাধারণ মুসুল্লিদের বক্তব্য, করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তির দাফনকার্যে অংশ নেয়ার কারণে ইমাম সাহেবকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি প্রদান নির্দয় আচরন। মুসল্লীদের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এবং সকলেই দ্রুত ইমাম সাহেবকে তার দায়িত্বে বহাল করার দাবি জানায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুল্লাহ বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় করেনাকালীন এই মহাসংকটময় সময়ে সারাদেশে ওলামায়ে কেরাম সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে করোনায় আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিদের দাফনকার্যে এগিয়ে এসেছে। যার ধারাবাহিকতায় সোনাগাজী উপজেলাতেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সোনাগাজী উপজেলা কাফন- দাফন টিমের পাশাপাশি ইসলামিক ফাউন্ডেশনও কাফন-দাফন টিম নিয়ে কাজ করছে। যার একজন সদস্য হিসেবে আমিও সে কাজে অংশগ্রহণ করি। সোনাগাজী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা অজিদ দেব স্যারের নির্দেশে আমরা সর্বোচ্চ সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করেছি। যদি এ কারনে আমার চাকরি চলে যায়, তবে তাতে আমার দুঃখ নেই, মানবতার কল্যাণে আমি নিজেকে সর্বদা নিয়োজিত রাখবো।

তবে সুচিন্তিত মহলের নিকট আমার দাবি থাকবে,আমার ব্যপারে মসজিদ কমিটির নেয়া সিদ্ধান্ত মানবিক কিনা তা আপনাদের বিবেচনায় রাখলাম। এবং তিনি এ ব্যপারে ফেনী-৩ আসনের সাংসদ লেফটেন্যান্ট মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোনাগাজীর ফিল্ড সুপারভাইজার আলমগীর জানান, মাওলানা নুরুল্লাহ ইসলামিক ফাউন্ডেশন সোনাগাজী উপজেলা করোনা/উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু বরণ কারীদের দাফন কমিটির একজন সদস্য। উনাকে মসজিদে প্রবেশ করতে না দেয়ার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব স্যার ও সোনাগাজী পৌর মেয়র এডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন সাহবকে অবগত করেছি। উনারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।

মতিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু বলেন, এটি সত্যিই অনেক দুঃখজনক। যেখানে পরিবারের লোকজনকেও অনেক সময় পাশে পাওয়া যায়না। সেখানে উনারা সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে এমন কাজ করছে। তাদের চাকুরীচ্যুত না করে দেখা শুনা করা উচিত। তারা বর্তমান সময়ের বড় যোদ্ধা।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অজিত দেব জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি। মসজিদ কমিটি, ইসলামীক ফাউন্ডেশনের সোনাগাজীর ফিল্ড সুপারভাইজার ও মতিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বসে সিন্ধান্ত নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

Sharing is caring!