ফার্মেসিতে ওষুধের গলাকাটা দাম, দেওয়া হচ্ছে না বিক্রয় রশিদও

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুন ৪, ২০২০
ফার্মেসিতে ওষুধের গলাকাটা দাম, দেওয়া হচ্ছে না বিক্রয় রশিদও
  • আলমগীর ইসলামাবাদী
  • চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধির পর যেসব সাধারণ ওষুধ সব ফার্মেসিতেই পাওয়া যেত হঠাৎ করে সেসব ওষুধ বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে। চট্টগ্রামে ওষুধের পাইকারি বাজার হাজারি গলিতেও পাওয়া যাচ্ছে না এসব ওষুধ। তার ওপর গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে গলাকাটা দাম। সঠিকভাবে অভিযান চালানো হলে এটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যেত বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। অনেক ক্ষেত্রে দেওয়া হচ্ছে না বাড়তি দামে বিক্রি করা ওষুধের রশিদও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়ানো হয়েছে বেক্সিমকোর নাপা, স্কয়ারের ফেক্সো, জিমেক্স, সিভিট ট্যাবলেটের দাম। এই তালিকায় আছে অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন জাতীয় ওষুধসহ জীবাণুনাশক সামগ্রীও।

ফার্মেসি মালিকরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে প্যারাসিটামল, অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যান্টিম্যালেরিয়াল, ভিটামিন সি ট্যাবলেট ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন জাতীয় ওষুধের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ওইসব ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

আওয়ার বাংলাদেশ টোয়েন্টিফোর ডটকম চট্টগ্রাম প্রতিনিধি সরেজমিনে তদন্ত করে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ মৌসুমি জ্বর ইনফ্লুয়েঞ্জা। এ অবস্থায় চিকিৎসকদের চেম্বার বন্ধ থাকায় এবং অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল রোগী ভর্তি করতে অনীহার কারণে অনেকে ফার্মেসির ওষুধ বিক্রেতাদের পরামর্শ নিচ্ছেন। পাশাপাশি চলছে টেলিমিডিসিন সেবাও।

আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া চিকিৎসকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও জেনে নিচ্ছেন তার রোগের ওষুধের নাম। এছাড়া অনেক চিকিৎসক করোনা সহ নানান রোগের জন্য রোগীকে কী কী ওষুধ খাওয়াতে হবে-তার বিবরণ সহ প্রেসক্রিপশন স্ক্যান করে তুলে দিচ্ছেন ফেসবুকে।

ডা. আলম নামের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল মেডিসিন ইভারমেকটিনের সিঙ্গেল ডোজের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ডক্সিসাইক্লিন প্রয়োগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মাত্র তিন দিনে ৫০ শতাংশ লক্ষণ কমে যাওয়া আর চার দিনে করোনা ভাইরাস টেস্টের রেজাল্ট নেগেটিভ আসার বিস্ময়কর সাফল্য পেয়েছেন। এরপর এ ওষুধ কিনতে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়ে যায়।

করোনাভাইরাসজনিত রোগের (কোভিড-১৯) এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো ওষুধ না থাকলেও অনেক চিকিৎসক ফেসবুক লাইভে এসে জানিয়েছেন, ট্যাবলেট ইভারমেকটিন (৬ মিলিগ্রাম) রোগীর ওজন ৬০ কেজির নিচে হলে ২টি একসঙ্গে খালি পেটে খেতে হবে। আর ওজন ৬০ কেজির ওপরে হলে ৩টি ট্যাবলেট একসঙ্গে ১ বার খেতে হবে।

এই ট্যাবলেট বাজারে স্ক্যাবো, ইভরা, প্যারাকিল ইত্যাদি নামেও পাওয়া যায়। ওজন ৪০ কেজির উপরে হলে ট্যাবলেট ফ্যাভিপিরাভির (২০০ মিলিগ্রাম) সকালে ৮টি ও রাতে ৮টি ১ম দিন, পরবর্তীতে সকালে ৩টি ও রাতে ৩টি করে ৭-৯ দিন খেতে হবে। এই ট্যাবলেট বাজারে অ্যাকারভিয়া, ফ্যাভিপিরা, অ্যাভিগান ইত্যাদি নামে পাওয়া যায়। ম্যালেরিয়ার ওষুধ ট্যাবলেট হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন বাজারে পাওয়া যায় রিকোনিল সহ বিভিন্ন নামে। সহজেই এই প্রেসক্রিপশন পেয়ে করোনার উপসর্গ থাকা অনেকে ওষুধ সংগ্রহ করছেন।

জানা গেছে, দেশীয় কোম্পানিগুলোকে করোনার পরীক্ষামূলক বেশ কয়েকটি ওষুধ তৈরির অনুমোদন দেয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এগুলোর মধ্যে আছে এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, জিসকা ফার্মাসিউটিক্যালস, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস প্রভৃতি। এগুলোর বাইরে এসব কোম্পানির অন্য ওষুধের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।

সম্প্রতি করোনাজয়ী চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. লক্ষ্মীপদ দাশ বলেন, “করোনার চিকিৎসা একটি গাইডলাইন অনুসারে চলে কিন্তু অনেকে স্ক্যাবো ট্যাবলেট ও ডক্সিসাইক্লিন ক্যাপসুলসহ নানান ওষুধ ফার্মেসি থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব ওষুধ করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় কার্যকর বলে এখনও প্রমাণিত হয়নি।” এদিকে এই সুযোগে ওষুধের দোকানীরাও হাতিয়ে নিচ্ছেন অধিক দাম।

আওয়ার বাংলাদেশ টোয়েন্টিফোর ডটকম চট্টগ্রাম প্রতিনিধি তদন্ত করে বলেন, “এক পাতা স্ক্যাবো ট্যাবলেট (৬ মিলিগ্রাম) এর দাম ছিল ৫০ টাকা। এখন সেই ওষুধের দাম নেওয়া হচ্ছে সাড়ে ৪শ’-সাড়ে ৬শ’ টাকা।”

আবু বকর সিদ্দিকী (৬৬) নামের একজন হৃদরোগী বলেন, “ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, বুকে ব্যথা, চর্বি নিয়ন্ত্রণ, শরীরের বাড়তি পানি কমানোর জন্য ব্যবহার করা ওষুধ অ্যাসপ্রিন, ডিলটিয়াজেম, গ্লিক্লাজাইড, গ্লিবেনক্লামাইড, আইসোসরবিড, লিসোনোপ্রিল, নাইট্রোগ্লিসারিন, পটাশিয়াম ক্লোরাইড, রেমিপ্রিল

Sharing is caring!