প্রথম কাতারে সালাত আদায়ের মর্যাদা

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১, ২০২০
প্রথম কাতারে সালাত আদায়ের মর্যাদা

قال الله تعالي: “وأقيموا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَاركَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ”
অর্থাৎ, আর সালাত তথা নামায কায়েম কর, যাকাত প্রদান কর এবং রুকুকারীদের সাথে রুকু কর। (সূরা বাকারাঃ৪৩)

ইসলামের মৌলিক পাঁচটি ভিত্তির মধ্যে অন্যতম ভিত্তি এবং ফরয ইবাদাতগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত হলো সালাত তথা নামাজ। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করা প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের উপর ফরজ। পবিত্র কুরআনে ৮২টি স্থানে আল্লাহু সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা সালাতের কথা উল্লেখ করেছেন। সালাতের মাধ্যমে মহান প্রতিপালকের প্রতি বান্দার আনুগত্য প্রকাশ পায় এবং সিজদার মাধ্যমে বান্দা তাঁর মহান রবের নৈকট্য লাভ করে। এছাড়া, রাসূলুল্লাহ (সা:) এর হাদীস মোতাবেক জান্নাতে প্রবেশের চাবি হলো সালাত। সালাতের মধ্যে প্রথম কাতারে দাঁড়িয়ে সালাত আদায়ের ফযীলত অত্যাধিক। হাদীসে নববীর বিভিন্ন স্থানে নবীজি (সাঃ) এ ব্যাপারে বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন। কিন্তু, অনেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। কেননা, কুরআন ও হাদিসের যথাযথ অধ্যয়ন না করাই এর মূখ্য কারন। ফলে, প্রতিনিয়ত অসংখ্য মুসলিম হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন ফযীলত থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যেমন প্রথম কাতারে সালাত আদায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করে নবী করিম (সাঃ) বলেছেন,

عَن أَبِي هُرَيرَةَ (رضى) أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:
“‏ لَو يَعلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الأَوَّلِ، ثُمَّ لَم يَجِدُوا إِلاَّ أَن يَستَهِمُوا عَلَيهِ لاَستَهَمُوا، وَلَو يَعلَمُونَ مَا فِي التَّهجِيرِ لاَستَبَقوا إِلَيهِ، وَلَو يَعلَمُونَ مَا فِي العَتَمَةِ وَالصُّبحِ لأَتَوهُمَا وَلَو حَبوًا ‏”‏‏

হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন, আযান ও প্রথম কাতারের মর্যাদা মানুষ যদি জানত আর কুর‘আ তথা লটারী নিক্ষেপ ব্যতীত সে সুযোগ তারা না পেত, তাহলে কুর‘আ তথা লটারী করত, তেমনি আগে ভাগে জামা‘আতে শরীক হবার মর্যাদা যদি তারা জানত তাহলে তারা সেদিকে ছুটে যেত। তেমনি ঈশা ও ফজরের জামা‘আতে হাজির হবার মর্যাদা যদি তারা জানত তাহলে হামাগুরি দিয়ে হলেও তারা তাতে হাজির হত।(১)

আবার, প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারীর প্রতি মহান
আল্লাহ তা’য়ালার রহমত নাযিল হওয়ার কথাও হাদীসে বর্ণিত রয়েছে। যেমনঃ

عَن إِبرَاهِيمَ بنِ عَبدِ الرَّحمَنِ بنِ عَوفٍ، عَن أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: “‏ إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الأَوَّلِ ‏”‏

হযরত ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ প্রথম কাতারের লোকদের উপর রহমত নাযিল করেন।(২)

এছাড়া, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও স্বয়ং প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারী ব্যক্তির জন্য বিশেষভাবে দোয়া করেছেন। যেমনঃ

عَنِ الْعِربَاضِ بنِ سَارِيَةَ عَن رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيهِ وَسَلَّمَ: “كَانَ يُصَلِّي عَلَى الصَّفِّ الْأَوَّلِ ثَلَاثًا وَعَلَى الثَّانِي وَاحِدَةً”

হযরত ইরবায ইবনে সারিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি অর্থাৎ
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রথম কাতারের জন্য তিনবার (রহমত ও মাগফিরাতের) দোয়া করতেন, তারপর দ্বিতীয় কাতারের জন্য একবার।(৩)

কিন্তু অনেক সময় বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায় মুসল্লিগণ সালাতের সময় অলসতাবশত প্রথম কাতার পূর্ণ না করেই দ্বিতীয় কাতারে দাঁড়িয়ে যায়। অথচ হাদিসে এসেছে,

عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: “أَتِمُّوا الصَّفَّ الْأَوَّلَ ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ، وَإِن كَانَ نَقصٌ فَليَكُن فِي الصَّفِّ الْمُؤَخَّرِ”

হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, প্রথম কাতার পূর্ণ কর, তারপর পরবর্তী কাতার। যদি খালি থাকে, তবে তা থাকবে শেষ কাতারে।(৪)

আর সালাতে আলস্যতা প্রদর্শনকারীর ব্যাপারে আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

“فَوَیۡلٌ لِّلۡمُصَلِّیۡنَ- الَّذِیۡنَ همۡ عَنۡ صَلَاتِهمۡ سَاهوۡنَ”

অর্থ: অতএব সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা তাদের সালাতে অমনোযোগী।(৫)

অথচ প্রথম কাতারে সালাত আদায়কারীর মর্যাদা বর্ণনায় আবু দাউদ শরীফের ৫৪৫নং হাদীসে এসেছে,
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,

“وَإِنَّ الصَّفَّ الأَوَّلَ عَلَى مِثلِ صَفِّ المَلاَئِكَةِ”

অর্থাৎ, “জামা’আতের প্রথম কাতার মালায়িকাহ্‌ তথা ফেরেশতাদের কাতারের সমতুল্য।”

এভাবে বিভিন্ন প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থসমূহ যেমন সহিহ বুখারী, মুয়াত্তা মালিক, আবু দাউদ, মুসলিম শরীফ, সুনানে ইবনে মাজাহ, সুনানে নাসায়ী, মিশকাতুল মাসাবিহ, রিয়াদুস সালেহীন, সুনানে আহমদ ইত্যাদি গ্রন্থে বিভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সালাতের মধ্যে প্রথম কাতারে সালাত আদায়ের অসংখ্য ফযীলত বর্ণনা করেছেন। অতএব, আমাদের সকলের উচিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামা’আতের সহিত প্রথম কাতারে আদায় করা এবং অপরকে এই ব্যাপারে উৎসাহিত করা।

তথ্যসূত্রঃ-
১| সহীহ বুখারি, হাদিস নংঃ ২৬৮৯
২| সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নংঃ ৯৯৯
৩| সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নংঃ ৮১৭
৪| সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নংঃ ৮১৮
৫| সূরা আল-মাউন, আয়াত নংঃ ৪-৫

লেখকঃ
মোঃ হাসিব উল্লাহ
শিক্ষার্থী
দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম

Sharing is caring!