পোশাক শ্রমিক ছাটাইয়ের ঘোষণা বিজিএমইএ’র: বিভিন্ন মহলের ক্ষোভ

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুন ৬, ২০২০
পোশাক শ্রমিক ছাটাইয়ের ঘোষণা বিজিএমইএ’র: বিভিন্ন মহলের ক্ষোভ
  • আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে বংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানায় চলতি মাস থেকে শ্রমিক ছাটাইয়ের ঘোষণায়  শ্রমিকদের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক মহল এ ঘোষণাকে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির কৌশল বা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের মতলব বলে মনে করছেন।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক ছাটাইয়ের এ ঘোষণা দেন। এ সময় রুবানা হক জানান, ‘জুন থেকে শ্রমিকদের ছাঁটাই হবে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত বাস্তবতা। কিন্তু করার কিছু নেই। কারণ, শতকরা ৫৫ শতাংশ ক্যাপাসিটিতে ফ্যাক্টরি চলছে। আমাদের ছাঁটাই ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।’

 

এ প্রসঙ্গে সরকার সমর্থক বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী লীগ-এর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি রেডিও তেহরানকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক ছাটাই বা বেতন পরিশোধ না করে কারখানা বন্ধ করে দেবার ঘটনা ঘটছিল গত দুমাস ধরেই। কিন্তু হঠাৎ করে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কারণে শ্রমিকদের মধ্যে একটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং দারুণ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শ্রমিক ছাটাইয়ের এ সিদ্ধান্ত কোনো অবস্থাতেই শ্রমিকরা মেনে নেবে না।

তিনি দাবি করেন, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এই পোশাক শিল্পকে রক্ষা করার স্বার্থে এবং শ্রমিক অসন্তোষের কারণ নিরসন করে পরিস্থিতি সামাল দিতে  সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে।

ওদিকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়ে  পোশাক শ্রমিকেরা মালিকদের জন্য মুনাফা আর রাষ্ট্রের জন্য বৈদেশিক মূদ্রা আয়ের সুযোগ করে দিতে এগিয়ে এসেছে। সরকার মালিকদের জন্য আর্থিক প্রণোদনাও বরাদ্ধ করেছে। এ অবস্থায় শ্রমিক ছাঁটাই করার ঘোষণা অত্যন্ত অমানবিক কাজ এবং দেশের প্রচলিত আইনেরও পরিপন্থি।

সাইফুল হক মনে করেন আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে সরকারের কাছ থেকে বাড়তি কিছু সুবিধা আদায় করার কৌশল হিসেবেও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিষয়টি প্রচার করা হতে পারে। তবে রপ্তানি আয়ের এ বিরাট খাতকে শ্রমিক আসন্তোষের মুখে ঠেলে দিতে না চাইলে সরকারকে অবশ্যই দ্রুত মালিকদের এরকম খামখেয়ালি তৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

Sharing is caring!