পুনর্গঠন হচ্ছে হেফাজত ! পদ হারাচ্ছেন বাবুনগরী !

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুলাই ৩, ২০২০
পুনর্গঠন হচ্ছে হেফাজত ! পদ হারাচ্ছেন বাবুনগরী !
  • আলমগীর ইসলামাবাদী
  • চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

পুনর্গঠন হতে যাচ্ছে হেফাজতে ইসলামের কার্যকরী কমিটি। নতুন কমিটিতে মহাসচিব পদ থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে জুনায়েদ বাবুনগরীকে। নতুন মহাসচিব পদে আলোচনায় আছেন সংগঠনের দুই যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ সলিমুল্লাহ ও মুফতি মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ। তবে সংগঠনের আমীর পদে আল্লামা শাহ আহমদ শফি বহাল থাকছেন। হেফাজতের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত সংগঠনটির দায়িত্বশীল এক নেতা এবং সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র আওয়ার বাংলাদেশ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি গঠিত হয়েছিল কওমি আক্বীদাপন্থি অরাজনৈতিক ইসলামী সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা। ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষানীতির বিরোধিতার মধ্য দিয়ে হেফাজতের আত্মপ্রকাশ হলেও সংগঠনটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসে ২০১৩ সালে ১৩ দফা দাবিতে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।

জানা গেছে, কমিটি পুনর্গঠন করতে চার বছর আগে তৈরি করা হেফাজতের খসড়া গঠনতন্ত্র সপ্তাহ খানেক আগে কাটছাঁট করা হয়। হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফি কয়েক দিন আগে এ গঠনতন্ত্র অনুমোদন দিয়েছেন। হেফাজতের কার্যকরী ও শূরা কমিটির সভায় নেতৃত্বে পুনর্গঠনের ঘোষণা দেওয়া হবে। এখন এই সভা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তবে এখনো দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়নি।

জানতে চাইলে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সলিমুল্লাহ আওয়ার বাংলাদেশ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কয়েক দিন আগে হেফাজতের আমির সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুমোদন দিয়েছেন। কমিটি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে তিনি যে কোনো সময় সভা আহ্বান করতে পারেন।

হেফাজতের একজন নায়েবে আমির এবং সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র আওয়ার বাংলাদেশ কে জানান, নেতৃত্ব পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় মহাসচিব পদ থেকে বাদ পড়ছেন জুনায়েদ বাবুনগরী। এ পদে সংগঠনের দুই যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা সলিমুল্লাহ ও মুফতি ফয়জুল্লাহর কথা আলোচনা হচ্ছে। তবে দুজনের মধ্যে কারো নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আর শূন্য সিনিয়র নায়েবে আমির পদে স্থান হতে পারে হাটহাজারী দারুল উলূম মাদ্রাসার নবনির্বাচিত সহযোগী পরিচালক আল্লামা শেখ আহমদ কিংবা মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা আহমদ দিদার কাসেমীর। আগে এ পদে ছিলেন আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি আল্লামা শফির সাংগঠনিক কর্মকান্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সিনিয়র নায়েবে আমির পদ থেকে ইস্তফা দেন। তবে আমির পদে আপাততে পরিবর্তন হবে না। আল্লামা শফি আমৃত্যু এ পদে থাকবেন।

জুনায়েদ বাবুনগরী গত ১৭ জুন হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালকের পদ হারান। ওই দিন মাদ্রাসার মজলিশে শূরার বৈঠকে তাঁকে এ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এবার তিনি হেফাজতের মহাসচিবের পদ হারাতে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জুনায়েদ বাবুনগরীর বক্তব্য জানতে তাঁর সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

হেফাজতের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত সংগঠনটির একজন যুগ্ম মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ার বাংলাদেশ কে জানান, বাবুনগরীকে মহাসচিব পদে রাখতে চান না আল্লামা শফি। তিনি বাবুনগরীকে নিয়ে খুবই অস্বস্তিবোধ করছেন। তিনি মূলত হেফাজতে তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরী ও মহাসচিব পদে পরিবর্তন আনতে এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।

কে হচ্ছেন নতুন মহাসচিব
হেফাজতের নতুন মহাসচিব পদে আলোচনায় এগিয়ে আছেন জামেয়া নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার নবনির্বাচিত পরিচালক মাওলানা সলিমুল্লাহ। তাঁর পরে রয়েছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট ছেড়ে যাওয়া ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ। তাঁরা দুজনই আল্লামা শফির ঘনিষ্ট।

মুফতি ফয়জুল্লাহর গ্রামের বাড়ি রাঙ্গুনিয়া হলেও তিনি থাকেন ঢাকায়। হাটহাজারী ও ফটিকছড়ির হেফাজতের নেতারা চান, মহাসচিব পদে চট্টগ্রামে বসবাসকারী নেতাকেই স্থান দেওয়া হোক। মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ চট্টগ্রামের বাইরে চলে গেলে হেফাজতের ঘাঁটি হাটহাজারী দারুল উলূম মাদ্রাসার কতৃর্ত্ব খর্ব হয়ে যাবে বলে মনে করছেন তারা।
এই সমীকরণে মহাসচিব পদে এগিয়ে আছেন ফটিকছড়ি নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার নবনির্বাচিত পরিচালক মাওলানা সলিমুল্লাহ।

জানতে চাইলে মাওলানা সলিমুল্লাহ আওয়ার বাংলাদেশ কে বলেন, হেফাজতের আমির একক ক্ষমতাবলে যাকে ইচ্ছা মহাসচিব নির্বাচিত করতে পারেন। দেখা যাক, সভায় তিনি কাকে এ পদের জন্য যোগ্য মনে করেন।
জানা গেছে, হেফাজতের কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায়ও নেপথ্যে ভূমিকা রাখছেন ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য ও তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যন সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। হাটহাজারী দারুল উলূম মাদ্রাসার সহযোগী পরিচালক পরিবর্তনের পেছেনও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে হেফাজত নেতারা জানিয়েছেন।

Sharing is caring!