পাকিস্তানে আলেমদের ঐক্যমত, করোনা পরিস্থিতিতে দশটি প্রস্তাব

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ১৫, ২০২০
পাকিস্তানে আলেমদের ঐক্যমত, করোনা পরিস্থিতিতে দশটি প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তান “ইত্তিহাদে তানজিমাতে মাদারিসে দ্বীনিয়া”র আয়োজনে দারুল উলুম করাচীতে অনুষ্ঠিত বৈঠক হতে  রমযানে মসজিদ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে৷

করাচী প্রেস কনফারেন্স হলে সরকারের নিকট সকল উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন পাকিস্তানের সাবেক বিচারপতি, বিশ্ববরেন্য আলেম আল্লামা ত্বাকী উসমানী৷ নিচে তার অনুবাদ দেয়া হলো৷

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা!

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের চলমান পরিস্থিতিতে মসজিদ ও জামাতে নামাজ বিষয়ে উপর গভীর পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের প্রসিদ্ধ দীনি শিক্ষাকেন্দ্র জামিয়া দারুল উলুম করাচিতে সকল মতাদর্শের শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের  বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আজ ১৪ এপ্রিল ইত্তিহাদে তানজিমাতে মাদারিসে দ্বীনিয়ার আয়োজনে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে পাকিস্তানের মসজিদসমূহ সম্পর্কে সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তা হলো-

১. সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে মসজিদ খুলে দেওয়া হবে। সকল মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং জুমআর নামাজ জামা’আতের সাথে যথারীতি চলবে। সরকারের নেয়া সিদ্ধান্ত তিনজন অথবা পাঁচজন মুসল্লির অংশগ্রহণ বাস্তবে আমলযোগ্য ব্যবস্থা মনে হচ্ছে না। রমজানে মসজিদ খোলা থাকবে।

২. যারা অসুস্থ অথবা ভাইরাসে আক্রান্ত অথবা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেবায় নিয়োজিত তারা মসজিদে আসবেন না। ইনশাআল্লাহ তারা ঘরে নামাজ পড়লেও জামাআতের সওয়াব পেয়ে যাবেন।

৩. বয়স্ক ব্যক্তিদের ব্যাপারে যেহেতু ডাক্তারদের মত হচ্ছে, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। যার কারণে তারা এই রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। সুতরাং তারা মসজিদে আসার ব্যাপারে নিজেদেরকে মা’জুর মনে করবেন। ঘরে নামাজ পড়বেন।

৪. মসজিদ থেকে চাটাই, কার্পেট ইত্যাদি  সরিয়ে দিবে এবং সব নামাজের পরে যথাসম্ভব ভাইরাস ধ্বংসকারী মেডিসিন ব্যবহার করবে।

৫. মসজিদের দরজায় যথাসম্ভব sanitizing (জীবানুনাশক স্প্রে) লাগানোর ব্যবস্থা করবে এবং মহল্লার দানবীর ব্যক্তিরা এটাকে নিজের উপর শরয়ী দায়িত্ব মনে করবে।

৬. মসজিদে কাতারের ব্যাপারে এই বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিবে যে দুই কাতারের মাঝখানে যেনো এক কাতার পরিমাণ দূরত্ব থাকে। এবং প্রতি কাতারে মুসুল্লিরা পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াবে। যদিও স্বাভাবিক অবস্থায় এমনটা করা মাকরুহে তাহরীমী। তথাপিও বর্তমানে ওজরের কারণে ইনশাআল্লাহ মাকরুহ হবে না।

৭. সকল মুসল্লিবৃন্দ ঘর থেকে অজু করে আসবেন।

৮. মুসল্লিবৃন্দ সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে আসবেন। যথাসম্ভব মাস্কও পরিধান করে আসবেন।

৯. সুন্নত নামায সবাই ঘর থেকে পড়ে আসবেন এবং পরবর্তী সুন্নতও সবাই ঘরে গিয়ে পড়বেন।

১০. জুমার নামাজের পূর্বে উর্দু বয়ান বন্ধ করে দিন। বেশি প্রয়োজন হলে পাঁচ মিনিট মুসল্লীদেরকে সতর্কতার প্রতি গুরুত্বারোপ করুন।

১১. জুমআর খুতবায় শুধু জরুরি বিষয় অর্থাৎ হামদ ও সালাত এবং তাকওয়ার ব্যাপারে একটি আয়াত এবং মুসিবত থেকে মুক্তির জন্য দোয়ার উপরেই ক্ষান্ত করুন।

১২. নামাজের পরেও সকল মুসল্লিবৃন্দ ভীড় না করে সতর্কতার সাথে ঘরে ফিরে যাবেন।

১৩. মসজিদের ইমাম সাহেবরা মুসল্লিদেরকে সর্তকতা অবলম্বনের প্রতি গুরুত্বারোপ করবেন তবে সেগুলো আমল করানোর জিম্মাদারী প্রশাসনের  দায়িত্বশীলদের। এব্যাপারে মসজিদের ইমাম সাহেবদের সাথে পীড়াপীড়ি বা বাড়াবাড়ি করা যাবেনা।

বৈঠকে পাকিস্তানের সর্বমতের যেসব সংগঠন অংশ নিয়েছে: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে পাকিস্তান, জামায়াতে ইসলামী, তানযিমে ইসলামী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম (সিন),
আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত, জমিয়তে ইশাআতুত তাওহীদ,
মারকাজি জমিয়তে আহলে হাদিস, জামাতে গোরাবা আহলে হাদিসসহ বিভিন্ন মতাদর্শ ও সংগঠনের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম৷

এছাড়াও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমীর মাওলানা ফজলুর রহমান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তান এর নাযেম
মাওলানা হানিফ জালন্দরি বৈঠকে উপস্থিত হতে না পারলেও টেলিফোনের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন।

Sharing is caring!