পরীক্ষা স্থগিত: ছাত্র ভায়েরা কি করবে.?

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ৮, ২০২০
পরীক্ষা স্থগিত: ছাত্র ভায়েরা কি করবে.?

প্রিয় ছাত্র ভায়েরা:

তোমরা জানতে পেরেছ যে, বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারণে হাইআতুল উলয়া ও বেফাক বোর্ডের অধীনে সকল কেন্দ্রীয় পরীক্ষা মাহে রমজানের শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। রমজানের পর পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন তারিখ ঘোষণা করে পরীক্ষা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেফাক বোর্ডের সম্মানিত মহাসচিব শাইখুল হাদীয আল্লামা আব্দুল কুদ্দুস(দাঃ বাঃ)
ইতিমধ্যে হাইআতুল উলয়া ও বেফাক বোর্ড কর্তৃক তাদের অফিসিয়াল পেইজে এনিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে বিশেষ নোটিশও প্রকাশ করেছে।

হাইআতুল উলয়া ও বেফাক বোর্ডের অনুসরণে বিভিন্ন মাদ্রাসাও তাদের মাদ্রসাকেন্দ্রীক বার্ষিক পরিক্ষা রমজানের শেষ পর্যন্ত স্থগিত করেছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অন্যরাও তাই করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রিয় ছাত্র ভায়েরাঃ

তোমরা বুকভরা আশা নিয়ে দীর্ঘ এক বছর জানতোড় মেহনত করে পড়া-লিখা করেছ। তোমাদের ইচ্ছে ছিল গত ২৮শে মার্চ ২০২০ ইং থেকে বার্ষিক ও কেন্দ্রীয় পরিক্ষা দিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষের ইতি টানবে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবে এবং তার জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছিলে।

কিন্তু কি হল.? মুরুব্বিদের কি করার আছে.? বর্তমান করোনা ভাইরাসের তান্ডবে সারদেশ লকডাউন হয়ে পড়েছে, যাতায়াত ব্যবস্থা স্থীর হয়ে গিয়েছে এবং দিনদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়েই চলেছে। ফলে তোমাদের সে নেক আশা ভরসাও এক অনিশ্চিত পথে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তোমাদেরকে হয়ত আরো বেশ কেছুদিন ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হবে ।

প্রিয় ছাত্র ভায়েরাঃ

এই দীর্ঘ সময়টুকু তোমরা কি করবে এবং কি ভাবে কাটাবে.? এ নিয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করো এবং নিম্মে উল্লেক্ষিত ১২ টি পরামর্শগুলো মেনে চলতে পারো….
১। এই অতিরিক্ত সময়কে গনীমত ও বোনাস হিসেবে মনে করো। একটি মুহূর্তও যেন অহেতুক নষ্ট না হয় সতর্ক থাকো।
২। দরসী কিতাবের সংখ্যা অনুযায়ী দিন তারিখ ও সময় ভাগ করে একটি রুটির প্রস্তুত করো এবং তদনুযায়ী পড়া লিখায় নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করো।
৩। হাইআহ ও বেফাক বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত গাইডগুলোকে জীবন সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করো এবং তা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুখস্থ করে নাও সময় মত কাজে আসতে পারে।
৪। পরিক্ষায় আসতে পারে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, অধ্যায় ও জায়গাগুলো চিহ্নিত করো এবং তাতে কিভাবে প্রশ্ন আসতে পারে চিন্তা ফিকির করো।
৫। কিতাবের কোন বিষয় অস্পষ্ট মনে হলে এবং নিজে হল করতে অক্ষম হলে সংশ্লিষ্ট উস্তাদের সাথে মোবাইল বা মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করে তা হল করে নাও।
৬। অনেকের হাতের লিখা অসুদ্ধ ও অসুন্দর, তাই বেশি বেশি হাতের লিখা লিখতে থাকো এবং পরিক্ষায় আসতে পারে এমন বিষয়,অধ্যায় ও পয়েন্টগুলোকে প্রশ্ন উত্তর সাজিয়ে নিজের মত করে লিখে কিতাবের সাথে মিলিয়ে সংশোধন করে নাও পরীক্ষার সময় কাজে আসবে বলে আমি পরিক্ষিত ।
৭। রমজানের পর যারা অন্য মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়া ইচ্ছা করেছো (বিশেষ করে তাখাছ ছুছাতের ছাত্র ভায়েরা) দাখেলা দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কিতাবগুলো মুতালাআ করে পুর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করো।
৮। যারা হাফেজে কুরআন আছো, সকাল বিকাল নির্দিষ্ট পরিমানে কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত করো এবং নিজ পরিবারে যারা কুরআন পড়তে পারে না তাদেরকে তা শিক্ষা দিয়ে নিজের গুরুদায়িত্ব আদায় করো।
৯। নামাজসহ দৈনন্দিন সকল আমলের প্রতি যত্নবান থাকো, এখন যেহেতু মসজিদে যাওয়া হচ্ছে না তাই ঘরের সকলকে নিয়ে নামাজের জমাত কায়েম করো। নামাজের পর দু একটি হাদীস পড়ে তাদেরকে কিছু নসীহত করো এবং যারা নামাজ পড়তে জানেনা তাদেরকে সহীহ তারতীবে নামাজ শিক্ষা দাও।
৯। তোমার শিক্ষকদের সাথে সর্বদা যোগাযোগ রাখবে ও তাদের থেকে দুআ নিবে এবং তাদের জন্যও দুআ করবে।
১০। সকলের সাথে আদব শিষ্টাচার বজায় রাখো, কারো সাথে বেয়াদবি মুলক আচরণ করবে না। যাতে তোমার শিক্ষা, তোমার শিক্ষক ও তোমার মাদ্রাসার প্রতি কারো বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়।
১১। শিক্ষাজীবনের বেশ অংশ মাদ্রাসায় কাটিয়েছো, অতীতে বাসা বাড়ীতে দীর্ঘ সময় থাকার সুযোগ না হলেও এখন কিন্তু সুযোগ হয়েছে। তাই নিজের মাতা পিতার খেদমত কর, তাদের কাজে সহযোগীতা কর, ভাই বোন আত্নীয়সজনদের প্রতি শ্রদ্ধা সম্মান ও আদর স্নেহ মায়া মমতার মুআমালা করো এবং পরিবারে ইলমী আমলী পরিবেশ ক্বায়েক করো।
১২। বর্তমান পরিস্থিতে বাহিরে নাগিয়ে ঘরেই অবস্থান করো এবং নিজের শরীর স্বাস্থ্য সুস্থ রাখার জন্য সরকারী/বেসরকারী স্বাস্থ্যসংস্থার নিয়ম নিতী মেনে চলো। দেশ জাতি ও বিশ্ববাসী বিশেষ করে মুসলিম মিল্লাতের হেফাজতের জন্য রাব্বে কারীমের দরবারে কান্নাকাটি ও দুআ করো (তোমাদের মাক্ববুল দুআয় আমাকেও স্বরণ রাইখো)

প্রিয় ছাত্র ভায়েরা:

পরিশেষে তোমাদের বলতে চাই, যেখানেই থাকো ভালো ও নিরপদ থাকো, উল্লেক্ষিত পরামর্শগুলো মেনে চলার চেষ্টা করো। করোনা যেমনি ভাবে তোমাদের পরিক্ষায় আঘাত হেনেছে “এখনো সময় আছে” এমন আগামীর চক্কর যেন তোমাদের সময় বিনষ্টে আঘাত হানতে না পারে সতর্ক থাকো। আমার এটাই কামনা। আল্লাহ তোমাদেরকে তাওফিক দান করুন আমীন।

মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ রিজওয়ান
খতীবঃ উত্তর আদাবর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা।

Sharing is caring!