পতাকা বিকৃতিতে সমালোচনার ঝড় বেরোবিতে

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৭, ২০২০
পতাকা বিকৃতিতে সমালোচনার ঝড় বেরোবিতে

সবুজের মধ্যে লাল বৃত্তের বাইরে চারকোণা লাল আকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে শিক্ষকরা।

মহান বিজয় দিবসে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা বিকৃতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষোভে ফুসে উঠেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ রংপুরের সাধারণ মানুষ।

সবুজের মধ্যে লাল বৃত্তের বাইরে চারকোণা লাল আকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে শিক্ষকদের কয়েকটি ছবি নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস দায়সারাভাবে পালন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে করা হয়নি কোন আলোকসজ্জা। এদিন ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধা জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেদিনও ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিলেন উপাচার্য। এ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। ক্ষোভে প্রতিবাদ জানায় বিশ্ববিদ্যালয় অধিকার সুরক্ষা পরিষদ। এই ক্ষোভে আগুন ঢেলে দেয় স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে বিকৃত জাতীয় পতাকা হাতে শিক্ষকদের কয়েকটি ছবি। যেখানে দেখা যায় জাতীয় পতাকার নকশা পরিবর্তন করে সবুজের ভেতর লাল বৃত্তের পরিবর্তে চারকোণা লাল আকৃতি নিয়ে পোজ দিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ তুলে পোস্ট দেওয়া হলে বিষয়টি ভাইরাল হয়।

ছবিতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান, বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. পরিমল চন্দ্র বর্মন, অর্থ ও হিসাব দফতরের পরিচালক, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শামীম হোসাইন, ইতিহাসের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রভাষক সোহাগ আলী, মার্কেটিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাসুদুল হাসান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রাম প্রসাদ, সহকারী অধ্যাপক কাইয়ুম এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রহমতউল্লাহ একটি বিকৃত পতাকা ধরে দাঁড়িয়ে আছেন।

তবে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. পরিমল চন্দ্র বর্মন বলেন, স্মৃতিসৌধ থেকে ফেরার পথে আমি শিক্ষকদের সঙ্গে দাঁড়াই, সেখানে কেমন পতাকা সামনে ছিল তা আর খেয়াল করিনি।

বিষয়টি নিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক মাহমুদুল হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে লজ্জিত, কারণ এরা সবাই ‘শিক্ষক’!

তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিজয় দিবসে জাতীয় পতাকাকে অবমাননা! পতাকার ডিজাইন পরিবর্তন করা হয়েছে। বৃত্ত না দিয়ে, চারকোণার মতো আকৃতি দেওয়া হয়েছে। নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। …এটা কোন খেলনা নয় যে পরিবর্তন করা যায়। জাতীয় পতাকা আইন অনুযায়ী এটা অপরাধ। রাষ্ট্রবিরোধী কাণ্ড। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এটাই প্রধান কর্মসূচি! আলোকসজ্জাও হয়নি ক্যাম্পাসে। ছবিতে যারা আছেন তাদের একজন ডিন, একজন প্রভোস্ট, একজন সহকারী প্রক্টর, দু’জন সহকারী প্রভোস্ট। এরা সবাই দায়িত্বশীল, উপাচার্যের নিয়োগপ্রাপ্ত ও ঘনিষ্ঠজন! এরাই বিশ্ববিদ্যালয় চালায়। ’

বিষয়টি সম্পর্ক ছবিতে উপস্থিত শিক্ষকদের একাধিকবার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তারা রিসিভ করেননি। তবে ওই ছবিতে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সেক্রেটারি তাবিউর রহমান এক স্টাটাসে এটাকে ‘পতাকা নয়’ উল্লেখ করে ‘কাপড়’ হিসেবে দাবী করেন। জাতীয় পতাকার সাথে এই কাপড়কে তুলনা না করতেও আহবান জানান তিনি। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চান তিনি। এটিকে অনভিপ্রেত বলেও দাবি করেন।

এদিকে জাতীয় পতাকা বিকৃতি করে অবমাননার প্রতিবাদে বিকেলে ক্যাম্পাস এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশে করেছে শিক্ষার্থীরা।

Sharing is caring!