নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসা নেন খরচ বাঁচাতে

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুন ১২, ২০২০
নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসা নেন খরচ বাঁচাতে

কে এম শরীয়াতুল্লাহ

লেখার শিরোনামটা দেখে অনেকেই চমকে যাবেন, কিন্তু বাস্তবতা এমনটিই। বিবিসি বাংলার রিপোর্টে এমন অবিশ্বাস্য চিত্রই উঠে এসেছে।

তবে দেশের প্রথম সারির বিত্তবান ও মন্ত্রী এমপিদের মধ্যে যারা চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যান তারা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে না পেরে গিয়ে থাকেন। কিন্ত দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত করবার জন্য তাদের কোনো চেষ্টা ছিল বলে মনে হয় না। করোনা হয়তো তাদেরকে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে যে সব সময় বিদেশি নামি দামি হাসপাতালগুলো আপনার জন্য খোলা থাকবে না। পরিস্থিতি আপনাকে দেশের মাটিতেই আটকে রাখবে। করো না পরবর্তী সময় হয়তো তাদের মধ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির চিন্তা কাজ করবে। কিন্তু সে চিন্তা কতক্ষণ লালন করতে পারবেন তা ভাবার বিষয়।

এলিট শ্রেণী ব্যতীত যেসব বাংলাদেশী চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যায় তাদের বড় একটি অংশই যায় ভারতে। ঢাকার ভারতীয় হাই কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে ১৫ লাখ বাংলাদেশীকে ভারতের ভিসা দেয়া হয়েছে এদের বড় একটি অংশই চিকিৎসার জন্য ভিসা নিয়েছেন।

বিবিসি বাংলার সাক্ষাৎকারে বরগুনার জয়দেব সরকার বলেন, “বরগুনা থেকে ঢাকা গিয়ে হোটেলে থেকে ভালো হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যে খরচ হয় তার চেয়ে কম খরচে কলকাতায় চিকিৎসা করানো সম্ভব” সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা তুলনামূলক ভালো ও কম খরচ বলে তিনি মনে করেন।

এর কারণ হিসেবে বলা যায় বাংলাদেশে স্বাস্থ্যের পেছনে যে ব্যয় হয়, তার ৬৭ শতাংশ বহন করে রোগী বা তার পরিবার। আর ৩৩ শতাংশ আসে সরকার ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে। আর প্রাইভেটে তো কথাই নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়। কি বীভৎস রূপ বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার।

অথচ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের দেওয়া ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ও পরিকল্পনার মধ্যে স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবার উন্নতি করার কথা বলা হয়েছে। তাতে এক বছরের কম বয়সী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী সব নাগরিককে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। আমরা এখনও আশা রাখলাম তা বাস্তবায়িত হোক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মানসম্পন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক, নার্সসহ ২৩ জন স্বাস্থ্যকর্মীর একটি দল থাকা দরকার। কিন্তু
বাংলাদেশে ১০ হাজার মানুষের জন্য রয়েছে ৩ দশমিক ৩ জন। অর্থাৎ ৮ লাখের অধিক স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি আছে দেশে। ব্রিটিশ চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য সাময়িকীর বিশেষ একটি সংখ্যায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

অপরদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি মানসম্পন্ন সেবার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর ২১ জানুয়ারি দুদক কর্মকর্তারা দেশের ৮ জেলার ১১টি সরকারি হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছিলেন। ওই দিন হাসপাতালগুলোতে ২৩০ জনের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বাস্তবে ছিলেন ১৩৮ জন। অর্থাৎ ৪০ শতাংশ চিকিৎসক অনুপস্থিত। এমনিতেই ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তার ওপর আবার ৪০% চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকলে কেমন স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া যাবে তা সহজেই অনুমেয়।

আইন প্রণয়নকারী এবং প্রয়োগকারী উভয়ই যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয় তবে তাদের মাধ্যমে দেশকে এই অচলাবস্থা থেকে বের করে আনা সম্ভব নয়। সচেতন ও চিন্তকদের বিকল্প ভাবতে হবে। যারা প্রকৃতপক্ষেই দেশের জন্য কাজ করে। দেশকে ভালোবাসে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য চিন্তা গবেষণা করে। তাদের নেতৃত্বে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখতে হবে।

পরিশেষে এই আশা রাখছি, করোনা পরবর্তী বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত সহ সকল পর্যায় থেকে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ হোক। তাহলে দেশের মানুষ স্বস্তিতে বসবাস করতে পারবে। সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। দেশ পরিচালনায় জনগণের স্বার্থ প্রাধান্য পাবে।

লেখক:-
কে এম শরীয়াতুল্লাহ
শিক্ষার্থী, সম্মান শেষ বর্ষ
কলা অনুষদ
সরকারি বিএম কলেজ, বরিশাল

Sharing is caring!