নারীর অধিকার সঠিকভাবে ফিরিয়ে দিন

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুলাই ৮, ২০২০
নারীর অধিকার সঠিকভাবে ফিরিয়ে দিন
  • তাজুল ইসলাম ওসমানী  

গত ৫ – ৭ – ২০২০ তারিখে একটি জাতীয় দৈনিকের হেডলাইন চোখ আটকে গেল “নারীর ক্ষমতায়নে রেকর্ড বাংলাদেশ”চোখটা কপালে উঠে গেল! বাহ্!
যেখানে গতকাল অর্থাৎ ৪-৭-২০২০তারিখে ভোলা টু ঢাকা গামি কর্ণফুলী ১৩ লঞ্চের কেবিনে স্টাফদের যৌন নির্যাতন থেকে বাঁচতে নদীতে ঝাঁপ দেয়া ১৬ বছরের কিশোরীকে না তুলে ঢাকায় চলে আসা লঞ্চের খবর টক অফ দ্যা কান্ট্রি হল, এক দিনের ব্যবধানে নারীর আকস্মিক উন্নয়ন(!) সত্যিই লক্ষ্য করার মতো ।

নারীর প্রতি জুলুম, অত্যাচার, অবিচার নির্যাতন বাংলাদেশের একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র বিষয় কে কেন্দ্র করেও এদেশে নির্যাতিত হয় নারী সমাজ। গ্রাম থেকে শহরে , ঘর থেকে বিদ্যালয়ে , এমনকি নিরাপত্তা সূতিকাগার প্রসাশনেও নারীর কোনরকম সুরক্ষা নেই।

একদিকে নারী যেমন ক্ষমতাসীন হচ্ছে; রাষ্ট্রের উচ্চপদ থেকে শুরু করে সমাজের সর্বত্রে নারীর অবদান লক্ষ্য করার মতো, মন্ত্রি, এমপি রাষ্ট্রদূত , সচিব, পুলিশ, সেনাবাহিনী, এমনকি বিমানবাহিনীতেও নারীর অংশগ্রহণ; এবং দক্ষতার সাথে পরিচালনা সত্যিই ঈর্ষণীয়।

তেমনি অন্যদিকে ৬ মাস থেকে শুরু করে বছরের ৮০ বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত ইভটিজিং,যৌনহয়রানী, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, এসিড সন্ত্রাস , অগ্নিদগ্ধ, পাচার, পতিতালয়ে বিক্রি সহ সর্বপ্রকার কুরুচিপূর্ণ পরিস্থিতির শিকার হতে হয় এদেশের নারী সমাজ কে। ৫০ বছরের বৃদ্ধের হাতে ৭ বছরের শিশু ধর্ষিত হয়, ৫৬ বছরের নরপশুদের হাতে পাঁচ মাসের শিশু ধর্ষিত হওয়ার ঘটনাও বাংলাদেশে ঘটে, ধর্ষিত হয়ে অভিযোগ করতে থানায় গিয়ে পুলিশ অফিসার, ইনচার্জের হাতে দ্বিতীয় দফা ধর্ষিত হয়ে বাড়ি ফিরার ঘটনাও এদেশে পুরাতন। ক্রমে বেড়েই চলেছে নারী নির্যাতনের ঘটনা, গেল ২০১৯সালে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে পূর্বের বছরের থেকে দ্বিগুণ বেশি,যাহা সংখ্যায় ৩৯১৮।

তথ্য ভিত্তিক বিশ্লেষণে রূপ এমন; ধর্ষণ ৯৪২ এরমধ্যে গণধর্ষণ ১৮২ ধর্ষণের পর হত্যা ৬২জন। এসিড সন্ত্রাসের শিকার ১৯ এর মধ্যে মৃত ৩ জন। অগ্নিদগ্ধ ৭৩ এরমধ্যে মৃত্যু ১৯। যৌতুকের দায়ে নির্যাতন ২১২এর মধ্যে হত্যা ১০২। গৃহপরিচারিকা নির্যাতন ৮৭ এরমধ্যে মৃত্যু ৫৮ বাকিগুলো বিভিন্ন কারণে। ২০-৪-২০১৯তারিখে বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি প্রতিবেদনে বলা হয় ২০১৯ এর প্রথম চার মাসে নারী নির্যাতনের মামলা হয় ১১৩৯, কি অদ্ভুত কথা!!এর পরেও কোন প্রকার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

নাটক সিনেমার অশ্লীলতা, উদ্ভট পোশাকে নারীর চলাফেরা, পর্দা হীনতা সহ যে সমস্ত কারনে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে তা চিহ্নিত করে প্রতিকারের সুষ্ঠু পদক্ষেপ নিতে পারলে এমন পরিস্থিতির লাঘব হবে।

সকল নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, সুতরাং দায়িত্ব পালনে কোন প্রকার অবহেলা করা যাবেনা, নিষ্ঠাবান শাসনের মাধ্যমে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সর্বপ্রকার বিরূপ পরিস্থিতির মুকাবেলা করতে হবে, এবংজাতীয় জীবনে নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করতে হবে

Sharing is caring!