নারায়নগঞ্জে করোনা ঝুঁকিতেও খোলা হলো পোশাক কারখানা, নেই সুরক্ষা সরঞ্জাম

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ৬, ২০২০
নারায়নগঞ্জে করোনা ঝুঁকিতেও খোলা  হলো পোশাক কারখানা, নেই সুরক্ষা সরঞ্জাম

ফজলে রাব্বি (নারায়নগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি):
নারায়নগঞ্জ করোনার হটস্পট হিসেবে পরিচিত একটি স্থান । প্রতিদিন এখানে শনাক্ত হচ্ছে নতুন নতুন করোনা রোগী । এমন অবস্থায়ও চালু হলো দুইশতাধিক গার্মেন্টস কারখানা । আশ্চর্যের বিষয় হল চালু হওয়া গার্মেন্টস গুলোর শতকরা ৩২ ভাগ গার্মেন্টেস এ পর্যাপ্ত স্বাস্থ সুরক্ষা ব্যাবস্থা নেই বলে দাবি শিল্প পুলিশের । দ্রুত ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য মালিক পক্ষকে চিঠিও দিয়েছেন তারা ।

সদর(ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ), রুপগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাও উপজেলায় গত রোবরার সকাল ৭ টা থেকে কারখানাগুলো চালু হয় ।
শিল্প পুলিশ-৪ এর ইন্টেলিজেন্স(পরিদর্শক) শেখ বশির আহমেদ জানান, চালু হওয়া গার্মেন্টস গুলোর মধ্যে বিজিএমই এর সদস্যভুক্ত ২৬টি, বিকেএমই এর ১৭০ টি, বেপজার ইপিজেডে ২৫ টি এবং বিটিএম এর ১৭টি ।

বশির আহমেদ বলেন, প্রতিদিন গার্মেন্টস চালু হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে । তবে গার্মেন্টসগুলোতে শ্রমিকদের সুরক্ষার ব্যাবস্থা করা হচ্ছে । শ্রমিকদের স্বাস্থ সচেতনতা বাড়ানোর জন্য কথা বলা হচ্ছে । এখন পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি ভালো রয়েছে । কোথাও কোনো শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি ।

সদর উপজেলার বিসিক শিল্পালাকায় ঘুরে দেখা গেছে, চালু হওয়া ফ্যাক্টরিগুলোতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ সুরক্ষার সরঞ্জাম নেই । কোনো রকম হাত ধোয়া ও তাপমাত্রা পরিমাপ করে ভিতরে প্রবেশ করানো হলেও ব্লিচিং বা ক্লোরিন মিশ্রিত পানি স্প্রে করা হচ্ছে না । হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যাবহারও চোখে পড়ছে না । শ্রমিকদের নিম্নমানের মাস্ক ব্যাবহার করতে দেখলেও হ্যান্ড গ্লাভস নেই । অন্য দিকে হাত ধোয়া, তাপমাত্রা পরিক্ষা ও কারখানায় প্রবেশের সময় কোনো ভাবেই সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত হচ্ছেনা । কারখানা গেইটে তাই ভীড় লেগেই থাকছে ।

শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যে ব্যাবস্থা করা হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয় । গার্মেন্টস থেকে কোনো মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস দেয়া হচ্ছেনা । একটিমাত্র জীবানুনাশক টানেল স্থাপন করায় সেখানেও ভীড় জমে যাচ্ছে । ঠিক ভাবে হেক্সিসল দেয়না । বাসা ভাড়া বকেয়া, সামনে ঈদ তাই ঝুকি নিয়েই কাজে এসেছি আমরা ।

বিভিন্ন কারখানায় পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই শ্রমিকদের এমন অভিযোগ শোনার পর বিকেএমই এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলভ চৌধুরী বলেন, অভিযোগটি সম্পর্কে অবগত রয়েছি । বিকেএমই এর পক্ষ থেকে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে । তারা প্রতিটি কারখানা পর্যবেক্ষন করে রিপোর্ট জমা দিবেন । যাদের সুরক্ষা ব্যাবস্থা থাকবেনা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নিবো । প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের সহায়তায় লক ডাউন করে দেয়া হবে নতুবা বিকেএমই এর সদস্যপদই বাত্বিল করা হতে পারে।

Sharing is caring!