নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশে আসলে আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে; আল্লামা বাবুনগরী

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৯, ২০২০
নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশে আসলে আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠবে; আল্লামা বাবুনগরী

এম ডি এ কে সৈকত

হাটহাজারী প্রতিনিধি:

ভারতে মুসলিম বিরোধী নাগরিকত্ব আইন সিএএর প্রতিবাদ করায় দেশটির রাজধানী দিল্লিতে উগ্র হিন্দু সন্ত্রাসীবাদী কর্তৃক মুসলমানদের উপর বর্বরোচিত হামলা,নৃশংস হত্যা,মসজিদে ভাংচুর ও পবিত্র কুরআন শরীফে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাটহাজারী মাদরাসার সহযোগী পরিচালক আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। আজ শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) শনিবার সংবাদমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আল্লামা বাবুনগরী বলেন, নরেন্দ্র মোদি উগ্রবাদী ও কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী। ভারতের মুসলমানদের উপর রাষ্ট্রীয়ভাবে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। আল্লামা বাবুনগরী বলেন, গো-হত্যার মিথ্যা অভিযোগ তোলে বিভিন্ন সময়ে মুসলমানদের উপর মোদি যেই অত্যাচার, নির্যাতন চালিয়েছে, চালাচ্ছে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কাশ্মীরে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম বর্বরতা চালাচ্ছে এই জালেম মোদি সরকার. মুসলমানদেরকে দেশছাড়া করার হীন উদ্দেশ্যে মুসলিম বিরোধী নাগরিকত্ব বিল পাশ করেছে। যখন তখন যাকে তাকে হত্যা, গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হচ্ছে । এই মোদি সরকার বর্তমান সময়ের ইন্টারন্যাশনাল টেরোরিস্ট। তিনি বলেন, সম্প্রতি ভারতে মুসলিম বিরোধী নাগরিকত্ব আইন সিএএর প্রতিবাদ করায় দেশটির রাজধানী দিল্লিতে যেভাবে মুসলমানদেরকে শহীদ করা হচ্ছে, আল্লাহ তায়া’লার ঘর মসজিদকে ভেঙে তাতে গেরুয়া পতাকা উড়াচ্ছে এর নিন্দা ও ধিক্কার জানানোর ভাষা আমাদের নেই। আমরা লক্ষ্য করছি, গুজরাটের কসাই খ্যাত মোদি সরকার আবারো মুসলিম হত্যায় মেতে উঠেছে। আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, পত্রিকার ভাষ্যমতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জন মুসলমানকে শহীদ করাসহ অসংখ্য মুসলমানদের উপর হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে। মসজিদগুলোতে আগুন দেওয়াসহ মুসলমানদের বাড়িঘর ও দোকান-পাটে লুটপাট চালানো হচ্ছে। অনতিবিলম্বে এসব বন্ধ না হলে ঐক্যবদ্ধভাবে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মাত্র দু’তিন দিনে প্রায় ৪০ জন মুসলমান হত্যা করা হলেও, আরবলীগ,ওআইসি সহ মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ এর বিরুদ্ধে কার্যকরী কোন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। বিশ্ব মুসলিম এক দেহ এক প্রাণের ন্যায় তাই বিশ্বের কোন প্রান্তে একজন মুসলমানও আক্রান্ত হলে সকল মুসলমান এর জন্য ব্যথিত হতে হবে। মসজিদ পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই হোক না কেন তা সকল মুসলমানদের। মসজিদে হামলা হলে বিশ্বের সকল মুসলমান এর প্রতিবাদ জানাতে হবে। ভারতের মুসলমানদের এই নাজুক পরিস্থিতিতে বিশ্বমুসলিম নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

হেফাজতের এই মহাসচিব আরো বলেন, এই জালিম মোদি সরকারকে মুজিববর্ষে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এ ব্যপারে আমাদের বক্তব্য সুস্পষ্ট,ভারতের মুসলমানদের রক্তে হাত রঞ্জিতকারী এই সন্ত্রাসী মোদিকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া যায় না। জালিম মোদিকে ৯০% মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের জনগন রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে দেখতে চায় না। আশা করি এ ব্যাপারে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। জনতার ভাষা না বুঝলে,কঠিন কোন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে। লক্ষ কোটি তৌহিদী জনতার দাবী উপেক্ষা করে সন্ত্রাসী মোদিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি করে বাংলাদেশে আনলে আন্দোলনের দাবানল জ্বলে উঠতে পারে বলে কঠিন হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন হেফাজত মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী।

Sharing is caring!