নরসিংদীতে ফের সংঘর্ষ, হয়নি মামলা

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত নভেম্বর ৫, ২০২১
নরসিংদীতে ফের সংঘর্ষ, হয়নি মামলা

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক: ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকবালীতে ফের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আলোকবালী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের (উত্তরপাড়া গ্রাম) চার ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। অন্যদিকে, সংঘর্ষের প্রায় ৪০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও হয়নি মামলা।

মামলা না হওয়ার বিষয়টি শুক্রবার রাত গনমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন নরসিংদী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি তদন্ত) হারুনুর রশিদ। অন্যদিকে পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন সরকার।

তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত ওই এলাকা থেকে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। গতকালের তিনটি মৃত্যুর ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই আবার তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল।

এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আলোকবালী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে (নেকজানপুর গ্রাম) সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। নিহতরা হলেন- আশরাফুল (২০), আমির হোসেন (৫০) ও খুশি বেগম (৫৫)। গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তিনজনই আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন সরকারের কর্মী-সমর্থক।

এ ছাড়াও গুলিবিদ্ধ ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহত হন ২০ জনের অধিক। তাদের মধ্যে ৭ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মর্মান্তিক ওই ঘটনার একদিন পর ৩ নং ওয়ার্ডে (উত্তরপাড়া গ্রাম) আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লেন তারা।

স্থানীয় লোকজন বলেন, শুক্রবার ৩ নং ওয়ার্ডে (উত্তরপাড়া গ্রাম) ইউপি সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জব্বার মিয়া, নাসির মিয়া, আমির হোসেন ও মামুন মিয়া। এ নির্বাচনে মো. আসাদুল্লাহ সমর্থিত প্রার্থী জব্বার মিয়া ও নাসির মিয়া। অন্যদিকে বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন সরকার সমর্থিত প্রার্থী হলেন আমির হোসেন ও মামুন মিয়া। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে থেকেই আমির হোসেন ও মামুন মিয়া এলাকাছাড়া ছিলেন।

গতকালের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় পুলিশ পাহারা থাকার সুযোগে আমির হোসেন ও মামুন মিয়া এলাকায় ঢুকতে চেয়েছিলেন। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার খবর পেয়ে মো. আসাদুল্লাহ সমর্থিত প্রার্থী জব্বার মিয়া ও নাসির মিয়ার সমর্থকরা তাদের ধাওয়া দেন। এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে থেমে থেমে ৫০টিরও বেশি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

আলোকবালী ইউপি ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের ইউপি সদস্য ফাতেমা বেগম বলেন, আজ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আলোকবালী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা গেলেও এখন অব্দি কেউ আহত হয়নি। কোনো প্রকার মারামারি এবং হতাহত হওয়ার আগেই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নরসিংদী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি তদন্ত) হারুনুর রশিদ বলেন, এখন পর্যন্ত (শুক্রবার রাত ৯. ৪৫ মি) কোনো মামলা হয়নি। এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাহেব আলী পাঠান বলেন, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোকবালীতে দুই পক্ষের চার ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে পুলিশ তাদের সংঘর্ষে জড়াতে দেয়নি। এরপরও যারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।

আইস/আবা২৪

Sharing is caring!