দেশে লকডাউন শিথিল, বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ৩১, ২০২০
দেশে লকডাউন শিথিল, বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ যখন বেড়েই চলছে, তখন লকডাউন শিখিল করে অফিস আদালত ও গণপরিবহন একযোগে খুলে দেবার ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর ঝুঁকি বৃদ্ধির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এমনকি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও।

বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতির দেশ বাংলাদেশ। যতই সীমিত পরিসরে অর্থনীতি সচল করা হোক না কেন দূরত্ব এড়ানো কঠিন হবে বলে মনে করেন সাধারণ নাগরিকরা।

ওদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের অভিমত হচ্ছে, ধরে নিতে হবে সংক্রমণ বাড়বে- তাই বাড়াতে হবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা। এমনটিই বলেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজির আহমেদ।

তিনি মনে করেন, যাদের পরামর্শে বা যাদের স্বার্থে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে তাদেরকে করোনা ঝুঁকি ঠেকানোর দায়দায়িত্বও নিতে হবে। সর্বত্র স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. তৌফিক জোয়ার্দার গণমাধ্যমকে বলেছেন, কোভিড-১৯’র সংক্রমণ যদি দীর্ঘদিন থাকে এবং তা যদি ভয়ানক রূপ নেয় তাহলে বাংলাদেশিদের ওপর এমনকি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে।

সবরকম ঝুঁকি জেনেও সরকার যখন লকডাউন শিথিল করতে যাচ্ছে তখন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ থেকেও কিছু স্বাস্থ্য সুরক্ষা গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে বলে  জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান খান গণমাধ্যমকে বলেছেন, জনগণকে অনেক দিন ধরে সচেতন করা হচ্ছে। অফিস-আদালতে নিজস্ব কর্তৃপক্ষ রয়েছে। পদে পদে চোখে রাখার মতো লোকবল সরকারের নেই। তবে স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মানতে হবে।

Image Caption

 

আইএলও’র সতর্কতা

এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও এ বিষয়ে আগে ভাগেই বেশ কিছু সতর্কতা পরামর্শ দিয়ে রেখেছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা পরামর্শের ভিত্তিতে সম্প্রতি ‘নিরাপদে কাজে ফেরা’ শীর্ষক একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে আই্এলও।

আইএলও পরামর্শের মধ্যে রয়েছে প্রত্যেক কর্মীর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, কর্মস্থল পরিচ্ছন্ন করা, কর্মস্থলে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা, কর্মীদের বাসা থেকে কর্মস্থলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে গণপরিবহন ব্যবহারকে নিরুৎসাহিত করা, কর্মস্থলে প্রবেশের আগে উপসর্গ পরীক্ষা করা। তাছাড়া, কোনো কর্মীর বাড়ির সদস্যদের কেউ আইসোলেশনে (বিচ্ছিন্নকরণ) থাকলে তাকে কাজে আসতে বিরত রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

Sharing is caring!