দেশে ‘করোনা’ সংক্রমনে দায়ী কে? প্রবাসী না সরকার?

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৪, ২০২০
দেশে ‘করোনা’ সংক্রমনে দায়ী কে? প্রবাসী না সরকার?

সৈয়দ বেলালী: বর্তমান সময়ে বিশ্বে আতঙ্কের নাম ‘করোনা’৷ ভাইরাসটির উৎপত্তি গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে৷ যা আজ বিশ্বের প্রায় ১৮০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাসটি খুবই ভয়ংকর, যার প্রতিষেধক এখনো কেউ তৈরী করতে পারেনি৷

সাম্প্রতিক সময়ে এই ভাইরাসটি বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে৷ কারন হিসেবে প্রবাসীদেরকে দায়ী করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের মাঝে প্রবাসীদের নিয়ে যথেষ্ট বিরোপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রবাসীদের হেয় করে বলেন, “প্রবাসীরা দেশে এসে নবাবজাদা হয়ে যান”৷ বিভিন্ন দোকানে “প্রবাসী প্রবেশ নিষেধ” লেখা ফেস্টুন টাঙানো দেখা যায়৷ এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, আসলে দায়ী কে? সরকার না প্রবাসীরা?

করোনা ভাইরাসের আক্রমন শুরু হয়েছে গত ডিসেম্বরে৷ প্রায় তিন মাসের বেশি সময় হতে চলেছে। এই তিন মাস সময় পাওয়ার পরও সরকার কী উদ্যোগ নিয়ে ছিল জাতি জানতে চায়৷ তিন মাস কী যথেষ্ট ছিলনা প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য? যদি সময়মত সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হত, তাহলে এত সমস্যা সৃষ্টি হত?

এয়ারপোর্ট দিয়ে কী শুধু প্রবাসীরাই এসেছে? দেশি-বিদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী, সরকারী কর্মকর্তা, মন্ত্রী, এমপি আসা যাওয়া করেনি? করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয় মানুষের মাধ্যমে। এটা জানার পরও এয়ারপোর্ট দিয়ে আসা ব্যক্তিদের চেক করা হয়নি কেন? করোনা সনাক্তকরণ যন্ত্র রাখা হয়নি কেন ? হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়নি কেন ? এ বিষয়গুলো কে দেখা উচিত ছিলো? সরকার না অন্য কেউ?

মূলত সরকার এই ব্যপারে সামন্যতম ভ্রুক্ষেপ করেনি। সরকারের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপুর্ন ছিল শেখ মুজিবের জম্মশতবার্ষিকী উদযাপন৷ যার কারনে করোনাভাইরাসের আক্রমন থেকে জাতিকে বাচানোর কোনই আগাম ব্যবস্থা ছিলনা। এখন সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে নিরিহ প্রবাসীদের দায়ী করছে৷ এজন্য মিডিয়াকে ব্যবহার করেছে। কিছু হলুদ মিডিয়া কোন কিছু যাচাই না করে সরকারের আজ্ঞাবহ হিসেবে প্রবাসীদের বিরুদ্ধে নানান কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে জনগণের মাঝে প্রবাসীদের হেয় প্রতিপন্ন করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে৷ যার ফলে এই প্রবাসীরা আজ নিজ পরিবার, সমাজ ও দেশে নিরাপদ নয়৷

বিশ্বের প্রায় ১৮০টি দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে৷ কোন দেশ প্রবাসীদের দায়ী করেনি৷ পার্শ্ববর্তি দেশ ভারত বিমান পাঠিয়ে ইরান, ইতালি, চীন থেকে প্রবাসীদের নিজ দেশে নিয়ে এসেছে৷ দেশের সকল সেক্টরে দুর্নীতি৷ যারা মিডিয়ার সামনে কথা বলছে, অধিকাংশ দুর্নীতিবাজ৷ দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচারকারী। এই দুর্নীতিবাজদের মুখে প্রবাসীদের হেয় করে কথা বলা মানায়না৷ কারন প্রবাসীরা বিদেশ থেকে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতি সচল রাখে৷ আর দুর্নীতিবাজরা দেশের টাকা পাচার করে বিদেশে সেকেন্ড হোম গড়ে তোলে৷ সুইস ব্যাংকে জমা করে৷

এ প্রসঙ্গে.-আওয়ার বাংলাদেশ২৪.কম এর কাছে কয়েকজন প্রবাসীর মতামত পৌছেছে৷

সৌদি আরবের রাহিমায় অবস্থানরত ইমাম মাও. তৈয়ব বলেন, ‘আমরা দেশ ও পরিবারের সুখের জন্য নিজেদের সুখ বিসর্জন দিয়ে বিদেশে পড়ে আছি৷ বাইশ বছর দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছি৷ আজ আমাদেরকেই দায়ী করে গালি দেওয়া হচ্ছে৷ এটা অত্যান্ত দুঃখজনক’।

সৌদিআরবের রাহিমায় অবস্থানকারী ব্যবসায়ী নাছির শিকদার বলেন, যিনি ১৯ বছর ধরে সৌদীতে আছেন, বলেন, ‘বাংলাদেশ যদি প্রবাসীদের কারনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তা হলে আমার প্রশ্ন, ১৮০টি দেশ কাদের মাধ্যমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে?

সৌদিআরবের খোবার এলাকার চাকরীজিবি প্রবাসী সৈয়দ আব্দুর রহিম বলেন, আমরা কি শুধু রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্যই প্রবাসী? দেশের মানুষ হিসেবে দেশে যাওয়ার অধিকার কী নেই আমাদের?

এছাড়াও সৌদিআরব খামিছ মুশিতের সৈয়দ এনাম, ওয়াদি দোয়াসের একজন ইমাম মাও. তৈয়ব উল্লাহ, কুয়েত প্রবাসী মাওঃ কাজী সফি উল্লাহ, সৌদিআরব রাহিমা’র প্রবাসী আবু তাহের, কামরুল ইসলাম, মাও. মজিবুল হক, মাও.নজরুল ইসলাম, জেদ্দা’র ইমাম মাওলানা হাবীবুল্লাহ, মাওলানা সাদুল্লাহ, মক্কার মাওঃ আব্দুর রহমান তামীম, মাওঃ মুতাসিম বিল্লাহ রাসেলসহ অসংখ্য প্রবাসী এ ব্যপারে আপত্তি জানিয়ে বলেন,

আমরা বিশ্বাস করি, এ ভাইরাস আল্লাহর হুকুমে বাংলাদেশে দেখা দিয়েছে৷ এতে কাউকে অনর্থক দায়ী করা ঠিক না৷ প্রবাসীরা যেকোন বিপদে দেশে যাবে এটাই স্বাভাবিক৷ তাদের পুর্ন নিরাপত্তা ও চিকিৎসা দেয়া সরকারের দায়িত্ব৷ যেহেতু সরকারের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারনে দেশে ভাইরাসটি সংক্রমিত হয়েছে, তাই এর সম্পুর্ন দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে৷

 

লেখক:-

সৈয়দ বেলালী (সৌদীআরব)

বিশিষ্ঠ লেখক, গবেষক ও সংগঠক

 

[আওয়ার বাংলাদেশের মতামত বিভাগে প্রকাশিত যে কোনো লেখার দায় লেখকের নিজের। আওয়ার বাংলাদেশের সম্পাদনা পরিষদ এ লেখার দায় গ্রহণ করে না। তাই এই লেখার জন্য আওয়ার বাংলাদেশের সম্পাদনা পরিষদকে দায়ী করবেন না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে আওয়ার বাংলাদেশের সম্পাদনা পরিষদের নীতির সাথে অসামঞ্জস্য লেখাও এখানে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। কেবল ধর্ম এবং রাষ্ট্রবিরোধী কোনো লেখা প্রকাশ করা হয় না। চাইলে আপনিও তথ্য বা যুক্তিসমৃদ্ধ লেখা এখানে পাঠাতে পারেন।]

Sharing is caring!