দীর্ঘস্থায়ী বন্যার পথে বাংলাদেশ

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুলাই ১৪, ২০২০
দীর্ঘস্থায়ী বন্যার পথে বাংলাদেশ
  • রফিকুল ইসলাম
  • বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশে এখন ভরা বর্ষাকাল। প্রতিদিনই বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও চলছে টানা বৃষ্টি;  মুষলধারায় বৃষ্টি। নদী-নালা, নিম্নাঞ্চল, জলাভূমি আগেই পানিতে টইটুম্বুর হয়ে গেছে।

ওদিকে সীমান্তের ওপারে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে চলছে টানা বৃষ্টি। গত তিন দিন ধরে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের কারণে প্রচণ্ড বেগে পাহাড়ি ঢল নেমে আসছে বাংলাদেশে। ইতোমধ্যেই দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ১৫ জেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় একে একে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা ও মেঘনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে গেছে। পদ্মার পানিও দ্রুত বাড়ছে। চট্টগ্রাম বিভাগের নদ-নদীর পানি দুই কূল ছাপিয়ে উপচে পড়ার অবস্থা। সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে আরও ১০টি জেলা সয়লাব হয়ে পড়তে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া আজ গণমাধ্যমকে বলেছেন, উত্তরের জেলাগুলিতে ১৭ দিন ধরে বন্যা চলমান রয়েছে। এ অবস্থা জুলাই মাসজুড়ে চলতে পারে। উজানে বৃষ্টি আরো বেড়ে গেলে বাংলাদেশে বন্যার স্থায়িত্ব আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে। এমন আশঙ্কাই বেশি। ফলে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে।

এদিকে জামালপুরে প্রথম দফার রেকর্ড ভেঙে পানি বেড়েছে

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিপাতে জামালপুরে যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। সেখানে প্রথম দফার রেকর্ড ভেঙে পানি বেড়েছে। দ্বিতীয় দফার এ বন্যায় জামালপুরে দুই লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, জেলার সাতটি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাতটার দিকে যমুনা নদীর বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রথম দফার থেকে এখন পর্যন্ত ১০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

আগাম বন্যায় ৫০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি

অতিবৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে এরই মধ্যে দেশের ১৪ জেলায় আউশ ও আমনসহ বিভিন্ন ফসলের ৪৩ হাজার হেক্টর ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন ফসলের উৎপাদনে এই ক্ষতির পরিমাণ ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৬ টন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ কৃষক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর হিসেবে মওসুমের আগাম বন্যায় কৃষকের ৪৯৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ফসল কেড়ে নিয়েছে।

Sharing is caring!