দশমিনায় সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কয়েক গ্রামের মানুষ, দ্রুত মেরামতের দাবী

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ১৯, ২০২০
দশমিনায় সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কয়েক গ্রামের মানুষ, দ্রুত মেরামতের দাবী

মোঃ ইসমাইল (বিশেষ প্রতিনিধি):
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার সানকীপুর গ্রামের সুতাবাড়িয়া খালের ওপর
নির্মিত সেতুটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে ওই
উপজেলার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের
দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে৷

দীর্ঘ দিন ধরে সেতুটি ভাঙা পড়ে থাকায়
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ের কোমলমতি
শিক্ষার্থী ও সাধারন মানুষ নৌকায় চড়ে খাল পার হতে হচ্ছে৷

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে সাধারণ জনগণের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে উপজেলার ঠাকুরেরহাট সংলগ্ন পরিত্যাক্ত লোহার সেতুটি তুলে নিয়ে সানকিপুর ইউনিয়নের জমির মৃধা বাজার সংলগ্ন এলাকায় স্থাপন করা হয়েছিল।

জানা যায়, এই পরিত্যাক্ত সেতুটি পুনরায়
স্থাপন করতে ব্যয় হয়েছিল ১০ লাখ টাকা।

দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সুতাবড়িয়া শাখা নদী। নদীর পূর্বপাড়ের গ্রামগুলো হচ্ছে মরদানা, গরমআলী, জাফরাবাদ, খারিজা বেতাগীর
একাংশ এবং তাফালবাড়ীয়ার একাংশ।

আর পশ্চিমপাড়ের গ্রামগুলো হচ্ছে রামবল্লভ, দাবাড়ি, চিংগরীয়া, চন্দ্রাবাজ ও
খারিজাবেতাগীর একাংশ এবং তফালবাড়ীয়ার একাংশ।

এই ১১ গ্রামের বাসিন্দাদের সহজ যাতায়াতের মাধ্যম ছিল হাজী জমির মৃধা
বাজার এলাকার খারিজা বেতাগি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন লোহার ভিমের উপর আরসিসি কংক্রিট ঢালাই প্লেট বসানো এই
সেতু।

সেতুটি ব্যবহার করে পূর্ব পাড়ের লোকজন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী, জরুরী স্বাস্থ্য সেবা, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের
লেখাপড়ার জন্য পশ্চিম পাড়ে আসতে হয়।

অপরদিকে পশ্চিম পাড়েরর লোকজনদের সরাসরি উপজেলা সদরে যোগাযোগের মাধ্যম ও এই সেতু।

গুরুত্বপুর্ন এ সেতুটি ভাঙার পর বহুদিন মেরামত না হওয়ায় বিদ্যালয়ে পাঠদান নিতে ছোট্ট একটি ডিঙ্গি খেয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় শিক্ষার্থীদের। এই শিক্ষার্থীরা নদীর পূর্ব পাড়ের বাসিন্দা। এরা পশ্চিমপাড়ের খারিজা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, নদীর পশ্চিম পাড়ে খারিজা বেতাগী
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩২০ জন শিক্ষার্থী ও খারিজা বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১৩ জন শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে অন্তত ১৫০ শিক্ষার্থী নদীর পূর্ব
পারের বাসিন্দা। সেতুটি বিধ্বস্ত হয়ে পরায়
এখন শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার
কমে গেছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সেতুটি যখন ভেঙে পড়েছিল, তখন একটি শিশু মারাও গিয়েছিল।

এলাকাবাসীর দাবী, এত গুরুত্বপুর্ন ব্রিজটি মেরামত করতে কেন সরকার গড়িমসি করছে, আমরা জানিনা৷ আমরা দ্রুত এ ব্রিজটির মেরামতের দাবী জানাই৷

Sharing is caring!