টানা ২৫ দিন ধরে দিল্লি সীমান্তে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কৃষকরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২০, ২০২০
টানা ২৫ দিন ধরে দিল্লি সীমান্তে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কৃষকরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ

ভারতে গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যেই আন্দোলনরত কৃষকরা তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। বিতর্কিত আইনগুলো বাতিল না হলে ফিরবেন না বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তারা। টানা ২৫ দিন ধরে দিল্লি সীমান্তে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কৃষকরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। এ সময়ে ৩৩ জন কৃষক মৃত্যুবরণ করেছেন বলে জানিয়েছে অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভা (একেএস)। এছাড়া বেশ কয়েকজন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই অচলাবস্থার সমাধান হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার। এদিকে কৃষক আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন হরিয়ানার বিজেপি নেতা বিরেন্দ্রর সিংহ। খবর ইন্ডিয়া টাইমসের।
অন্যদিকে হরিয়ানা মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খাত্তার এক বিবৃতিতে বলেছেন, কৃষকরা হ্যাঁ অথবা না ছাড়া এগিয়ে আসলে সরকার আলোচনার জন্য প্রস্তুত আছে।
এদিকে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করা কৃষকদের স্মরণে ভারতজুড়ে আজ শ্রদ্ধঞ্জলি দিবস পালনের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।
একেএস নেতৃবৃন্দ বলছেন, ভারতের অন্তত এক লক্ষ গ্রামে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি দিবস পালন করা হবে। রোববার (২০ ডিসেম্বর) ভারতের স্থানীয় সময় বেলা ১১টার থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- মৃত কৃষকদের স্মরণসভা, মানববন্ধন, কৃষি আইনবিরোধী প্রচার এবং প্রার্থনা।
কৃষক আন্দোলন চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালেও সুরাহা করতে পারছে না বিজেপি সরকার। সরকারের আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয় কৃষকরা। কৃষি আইন বাতিলে অনড় অবস্থানে তারা।
শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) দেশটির কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার বলেছেন, ‘সরকার ন্যূনতম সমর্থন মূল্য নিয়ে লিখিত আশ্বাস দিতে রাজি।’ আর পশ্চিমবঙ্গের সভা থেকে অমিত শাহ বলেছেন, তার বিশ্বাস, কৃষকরা দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসে বিষয়টি সুরাহা করবেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কৃষকদের কাছে হাতজোড় করে আলোচনা বসতে অনুরোধ করেছিলেন।
তবে কৃষকরা বলছেন, মোদি সরকার যে আলোচনার প্রস্তাব দিচ্ছে, তাতে লাভ হবে না। সরকার বৈঠকে যুক্তিনির্ভর আলোচনা করতে রাজি নয়। সূত্র : আনন্দ বাজার, ইন্ডিয়া টাইমস।

Sharing is caring!