টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্টের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২২, ২০২০
টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্টের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম

টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত রিপোর্টের প্রতিবাদ

টাইমস অব ইন্ডিয়ায় গত ১৭ ডিসেম্বরে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে ইসলামী চরমপন্থার উত্থানে উদ্বিগ্ন ভারত’ শীর্ষক এক রিপোর্টের প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

গতকাল (২১ ডিসেম্বর) সোমবার লিখিত প্রতিবাদ পত্রটি টাইমস অব ইন্ডিয়ার এডিটর-ইন-চীফ বরাবরে ই-মেইল করা হয়েছে।

চিঠিটির হুবহু বাংলা অনুবাদ…….

“বরাবর-
মি. জয়দীপ বোস
এডিটর-ইন-চীফ, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বিষয়: টাইমস অব ইন্ডিয়ায় ‘বাংলাদেশে ইসলামী চরমপন্থার উত্থানে উদ্বিগ্ন ভারত’ শীর্ষক প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের প্রতিবাদপত্র।

মি. বোস, গত ডিসেম্বর ১৭ তারিখে টাইমস অব ইন্ডিয়ায় ‘বাংলাদেশে ইসলামী চরমপন্থার উত্থানে উদ্বিগ্ন ভারত’ শীর্ষক প্রকাশিত একটি রিপোর্ট আমাদের নজরে এসেছে। দুঃখের বিষয় হলো, রিপোর্টটি ভিত্তিহীন ও অসত্যে ভরপুর এবং সেই সাথে বিভ্রান্তিকর ও কুৎসাপূর্ণ। তাই এই প্রতিবাদপত্র পাঠানো হলো।

বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনীতি ও জনজীবন সম্পর্কে অবহিত এমন যে কারো কাছে শুরুতেই রিপোর্টটিকে মনে হবে যে, এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে লেখা হয়েছে এবং রিপোর্টটিতে বাংলাদেশের সবচে জনপ্রিয় ধর্মীয় প্লাটফর্ম হেফাজতে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা সুস্পষ্ট।

প্রতিবেদনটিতে দুঃজনকভাবে হেফাজতের নতুন নির্বাচিত আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যসমূহ ভেঙ্গেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এমন উদ্দেশ্যপূর্ণ দাবি কোনোভাবেই সত্য নয় এবং এক্ষেত্রে কোনো বাস্তবভিত্তিক তথ্য বা বিশ্বাসযোগ্য রেফারেন্সও উল্লেখ করা হয়নি প্রতিবেদনটিতে। যদি এটা সত্য হতো, তাহলে প্রশ্ন আসে, বাংলাদেশের মূলধারার কোনো মিডিয়ায় কেন এমন অভিযোগ আসেনি?

আরও পড়তে পারেন-
ঋণ বা ধারকর্য পরিশোধে ইসলামের বিধান
ইতিহাসে আল্লামা আহমদ শফী
মেধাবী, আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়
ইগো প্রবলেম নিয়ে যত কথা
সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখতে ইসলামের নির্দেশনা
অন্যদিকে, বাস্তবতা হলো, এর সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ, গত ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তি ভাঙার ঘটনার পর হেফাজতের বর্তমান যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক জোরালোভাবে এমন কাজের নিন্দা জানিয়েছেন এবং তিনি একই সাথে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ব্যক্ত করেছেন আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের একজন মহানায়ক হিসেবে এবং একজন গুণবান মুসলিম ব্যক্তিত্ব হিসেবে।

এটা খুবই দুঃখজনক যে, হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য, মিথ্যাচার ও ঘৃণাব্যঞ্জক প্রপাগান্ডা প্রচারের জন্য আপনার প্রসিদ্ধ সংবাদপত্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আমরা জানি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ভারতের লিডিং সংবাদপত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। সে কারণে আমরা আশা করি, আপনার পত্রিকাটি রিপোর্টিং ও কভারেজের ক্ষেত্রে আরো পেশাদার, নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ হবে। আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করবে এবং বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার মধ্যে একটি পিপল-টু-পিপল সম্পর্ক গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।

হেফাজতে ইসলাম আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এমন ভাঙ্গচুর সমর্থন করে না এবং অনুমোদনও দেয় না। বরং, আমাদের মতে, এমন ভাঙচুরকে স্যাবোট্যাজ মনে করার যথেষ্ট বাস্তবতা রয়েছে এবং আমাদের ওপর দায় চাপানোর উদ্দেশ্যেই এমন স্যাবোট্যাজ ঘটানো হয় বলে আমরা মনে করি।

ইতোমধ্যে কুষ্টিয়ায় আরেকটি মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা মিডিয়ায় এসেছে; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে বাঘা যতীনের মূর্তি ভাঙার অভিযোগে। এটাও এখন সবার জ্ঞাত যে, গ্রেপ্তারকৃত তিনজনের একজন যুবলীগের নেতা (ডেইলি স্টার, ডিসেম্বর ২০, ২০২০)।

এছাড়া, আপনার উক্ত রিপোর্টটি আমাদের সংগঠনকে ‘চরমপন্থী দল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এমন অমানবিক ভাষা সরাসরি ‌‌’ওয়ার অন টেরর’-এর ভোকাবুলারি থেকে ধার করা হয়েছে।

আমরা হেফাজতের জন্য এমন মিসনোমার তথা অনুপযুক্ত পরিভাষা ব্যবহারের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা একটি অরাজনৈতিক ও সামাজিক ধর্মীয় সংগঠন। আমরা ইসলামোফোবিয়া এবং উপনিবেশিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইস্বরূপ শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের ঈমান-আকিদা ও নৈতিকতা সংরক্ষণের লক্ষ্যে কাজ করি।

সুতরাং, আপনার উক্ত আপত্তিকর রিপোর্টটির কারণে আমাদের সংগঠনের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা চাই আপনার পত্রিকায় আমাদের এই প্রতিবাদপত্রটি সম্পূর্ণ প্রকাশ করে আপনার পাঠকদের মধ্যে আমাদের সংগঠনটি সম্পর্কে প্রচারিত ভুল ধারণা নিরসন করার অনুরোধ রইলো।

নিবেদক- মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
তাং- ২১ ডিসেম্বর, ২০২০ ইং”।

Sharing is caring!