টাংগাইলে আমের বাম্পার ফলন সত্বেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে চাষীরা হতাশ

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ১৩, ২০২০
টাংগাইলে আমের বাম্পার ফলন সত্বেও  প্রাকৃতিক দুর্যোগে চাষীরা হতাশ

মোঃ ইসমাইল (বিশেষ প্রতিনিধি):
এবছর টাংগাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মৌসুমি ফল ঝুলন্ত আমের দৃশ্য যেন মন কেড়ে নেয়। সারি সারি আম গাছের ডালে ডালে হরেক রকমের আম ঝুলে আছে৷ চাষীরা ব্যস্ত পরিচর্যায়৷ প্রতিদিন গাছের দিকে এক বুক আশা নিয়ে তাকায়, কবে আম পাকবে, সে অপেক্ষায়৷

অন্য বছরের তুলনায় এবছর আমের ফলন ভালো হয়েছে৷ তবে প্রাকৃতিক দূর্যোগে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। প্রতিদিন ঝড়ো হাওয়া আর শীলা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে ঝরে পড়ছে অসংখ্য আম। আমগুলো পাকার সময়ে এমন দুর্যোগ তাদের হতাশ করে দিচ্ছে৷

মোঃ আনোয়ার হোসেন নামে এক চাষীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছরের তুলনায় এ বছর আমের ফলনটা একটু বেশিই ছিল। কিন্তু শীলা বৃষ্টি আর প্রাকৃতিক দূর্যোগ, কালবৈশাখী ঝড়ো হাওয়ার কারনে প্রতিদিন ঝরে পড়ছে অসংখ্য কাঁচা আম।
এতে আমার মতো অনেক চাষীরাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে৷

তিনি আরও বলেন, বাগানে আমের মুকুল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত যে অর্থ ব্যায় করেছি, তা আম বিক্রি করে তুলতে পারবো বলে মনে হচ্ছে না।

প্রথম দিকে ফলন ভালো দেখে পরিচর্যাও একটু বাড়িয়ে দিতে হয়েছে। অর্থও ব্যায় করেছি অনেক। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়ে প্রতিনিয়ত যে পরিমাণ আম ঝরে যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে ব্যায় করা টাকা-ই ফিরে পাবো না।

তবে একজন আলেম তার অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, ফল দেন ও আল্লাহ, দুর্যোগও দেন আল্লাহ৷ ফলন যদি ভালো হয়, আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করিনা৷ গাছে বিভিন্ন ঔষধ প্রয়োগ করি আমরা চাষীরা, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর৷ কাচা, খাওয়ার অযোগ্য আম পেড়ে ফরমালিন ও মেডিসিন নামক বিষ দিয়ে তা বাজারজাত করি আমরা, যা মানুষের শরিরে বিষপ্রয়োগের মত৷ ফল থেকে দান, সদকা, যাকাত দিইনা আমরা৷ তাই এসব গুনাহর কারনে আল্লাহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়ে ফসল নষ্ট করে দেন৷ আমাদের কারনেই এমন হয়৷

এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চাষীদের পরামর্শ ও ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার অনুরোধ করেন।

Sharing is caring!