জুমা’র নামায: আলেমদের উপর আস্থা রাখুন

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ৩, ২০২০
জুমা’র নামায: আলেমদের উপর আস্থা রাখুন
  • মুফতি মুহাম্মদ উল্লাহ রিজওয়ান

ভারত উপমহাদেশের প্রায় জামে মসজিদে জুমার নামাজে আরবী খোতবা দেয়ার পুর্বে মাতৃ ভাষায় তার সার সংক্ষেপ আলোচনা করার প্রচলন রয়েছে। হক্কানী উলামায়ে কেরামদের মতে তার বৈধতাও প্রমানিত আছে।

সাধারণ মুসল্লীরাও উক্ত বিষয়ে বেশঅভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন৷ তারা এক জুমা শেষে আগামী জুমার অপেক্ষায় থাকেন। অনেক মুসল্লীদের দেখা যায় দূর দুরান্ত পথ পাড়ি দিয়ে তার পছন্দনীয় খতীবের আলোচনা শুনার জন্য আগ থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে আসেন।

যেহেতু খোতবায় বিষয়ভিত্তিক আলোচনা হয়ে থাকে,তাই তারা এসব আলোচনা থেকে আগামী এক সপ্তাহের রূহানী খোরাকও জোগাড় করে থাকেন।

তবে বর্তমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও মুফতিগণ মানুষকে ব্যাপক মৃত্যু ঝুঁকি থেকে বাচার জন্য সব ধরনের জমায়েত বন্ধের পাশাপাশি মসজিদগুলোয় জুমা ও জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি সীমিত পরিসরে রাখার ব্যাপারে শরীয়তের আলোকে পরামর্শ দিয়েছেন।

পাকিস্তানের জাস্টিস আল্লামা ত্বকী উসমানী (হাফিজাহুল্লাহ) ও বাংলাদেশের মুফতি আব্দুল মালেক (দাঃবাঃ) এর পক্ষ থেকে জুমার ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য ছিল যে, জুমার খুতবা ও নামাজ সংক্ষিপ্ত হবে৷ বাংলা বয়ান যেহেতু জুমার অংশ নয়, তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলা বয়ান একেবারে না করলেও কোনো সমস্যা নেই। অবশ্য খোতবার পুর্বে চার-পাঁচ মিনিট তাওবা, ইস্তেগফার, তাওয়াক্কুল এবং সতর্কতা অবলম্বনের ব্যাপারে দুই-চার কথা বলে দেওয়া যেতে পারে।

তারি প্রেক্ষিতে পুর্বঘোষণার মাধ্যমে আমি গত জুমায় খোতবার পুর্বে কোন আলোচনা করিনি৷ শুধু খোতবা, নামাজ আর দোয়া দিয়েই মাত্র ২০ মিনিটে জুমার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দিয়েছি।(আগামী জুমাতেও তাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি)

এতে মুসল্লীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখতে পেয়েছি৷ অনেকে ব্যপারটি ইতিবাচক মনে করলেও কেউ কেউ হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং আবেগের তাড়নায় উলামায়ে কেরামদের প্রতি কটু বাক্য ছুড়ে দিয়েছেন, যা দুঃখজনক৷

হতাশাগ্রস্ত মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ভাই! মক্কা, মদিনাসহ সারা বিশ্বের অবস্থা একটু দেখুন৷ মসজিদে হারাম, মসজিদে নববীসহ অসংখ্য মসজিদ ও এবাদত খানা বন্ধ হয়ে আছে৷ বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সীমিত আকারে চলছে৷ রাওজায়ে আত্বহারের জিয়ারত বন্ধ রয়েছে। হাজ্বী সাহেবান ও দায়েমী মুসল্লীদের কলিজা ছটফট করছে। বিশ্বের আশেকে মদীনা ও আশেকে রাসুলগণ (সাঃ) পাগলপারা হয়ে আছেন। উম্মতে মুহাম্মদী দিশেহারা হয়ে আছে। কিন্তু কিছুই করার নেই৷ সবাই আমরা পরিস্থিতির শিকার।

সে হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের বাংলাদেশের অবস্থা এখন পর্যন্ত মোটামুটি ভালোই আছে৷ হক্কানী উলামায়ে কেরামদের পরামর্শে গণজমায়েত রুখতে নতুন কিছু নিয়মে মসজিদগুলো এখনো খোলা আছে৷ ব্যাপকহারে বন্ধ করা হয় নি। আমরা মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে পারছি৷ জামাত ও জুমায় অংশগ্রহণ করতে পারছি এবং যেকোন ইবাদাত বন্দেগী করতে পারছি। এটাও কম কিসের৷ আলহামদুলিল্লাহ!

তাই আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করুন যে, রাসুল (সাঃ)ও সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)এর জামানার পর থেকে অদ্যবধি উম্মাহর সার্বিক বিষয়ে শরয়ী সমাধান যুগশ্রেষ্ঠ ওলামায়ে কেরামই দিয়ে আসছেন। বর্তমানেও দিয়ে যাচ্ছেন৷ ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও যেকোন সংকটময় পরিস্থিতিতে এবং নিত্যনতুন ও আধুনিক বিষয়ে হক্কানী উলামায়ে কেরাম শরয়ী সমাধাণ দিয়ে যাবেন এবং ওয়ারাসাতে নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করেই যাবেন।

তবে আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে যে, আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে আলেমদের পরামর্শ মেনে চলুন এবং শরয়ী যেকোন বিষয়ে তাদের প্রতি আস্থা রাখুন। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাওফীক দান করুন৷ আমীন।

লেখক:
মুফতী মুহাম্মদ উল্লাহ রিজওয়ান
খতীবঃ উত্তর আদাবর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ -ঢাকা

Sharing is caring!