জানাযা ইস্যুৃ: ইটের জবাবে পাটকেল রেডি রাখতে হবে

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ১৯, ২০২০
জানাযা ইস্যুৃ: ইটের জবাবে পাটকেল রেডি রাখতে হবে
  • সম্পাদকীয়

সম্প্রতি বি-বাড়িয়ায় আল্লামা যুবায়ের আহমদ আনসারী রহঃ এর জানাযায় লোকসমাগমকে কেন্দ্র করে ইসলাম বিদ্বেষী মিড়িয়াগুলোতে হৈচৈ শুরু হয়েছে।

তারা অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনাকে পুঁজি করে ইসলাম ও ইসলামিস্টদের ধুয়ে দিচ্ছে। কোন ছিদ্র পেলে অথবা ছিদ্র ছাড়াই শক্ত স্থানে ছিদ্র খুড়িয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের আঘাত করা এদের নিয়মিত রুটিনই। হেফাজত, শাপলাচত্ত্বর প্রায় সকল ইস্যুতেই ওরা একসুরে একচেতনায় থেকেছে।

কিছুদিন আগে একাত্তর টিভির এক উপস্থাপিকা করোনা ভাইরাসে মৃত মুসলিমের লাশ আগুনে পুড়ে ফেলার দাবী তুলেছিল। সর্বপরি একথা বলা যায় যে, ওরা সর্বদাই ইসলাম ও মুসলমানদের আঘাত করে ইট ছুড়ে আসছে। তবে ওদের জবাবে সমুচিত কোন পাটকেল ছোড়া হচ্ছেনা। ওদের ইটের জবাবে আমাদের কাছে পাটকেল রেডি রাখতে হবে। এই পাটকেল কী হতে পারে, তা বলার আগে বি-বাড়িয়ার জানাযায় লোকসমাগম নিয়ে কিছু বলতে চাই।

আসলে ইসলামের রীতিনীতিগুলো পালনে আবেগ ও বিবেক দুটোর সমন্বয় করতে হয়। বি-বাড়িয়ার জানাযায় লোকসমাগমে কিছু মানুষ আবেগের সাথে বিবেকের সমন্বয় করতে পারেনি। তবে এর জন্য ইসলাম ও মুসলমানদের দায়ী করলে চলবেনা।

কারণ, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর কাজের জন্য পুরো সমাজ ও জাতি দোষী হয়না, কেননা এখানে আবেগের সাথে বিবেকের সমন্বয় করতে পারেনি সামান্ন কিছু মানুষ, তবে আবেগের সাথে বিবেকের সমন্বয় করেছে অসংখ্য মানুষ, যার জন্য এখানে প্রশংসার বিষয়ও আছে।

বিষয়টি আরও ক্লিয়ারের জন্য এভাবে বলবো যে, ওদের দাবি মাফিক যদি জানাযায় ১লক্ষ মানুষ শরীক হয়ে থাকে, তবে এটা আল্লামা যুবায়ের আহমদ আনসারী সাহেব রহ: এর সকল ভক্তের ১পার্সেন্টেরও কম, হুজুরের কোটির অধিক ভক্ত মুহিব্বীন রয়েছেন, যদি আবাগের সাথে বিবেকের সমন্বয় না হতো তবে এই জানাযায় কোটি মানুষও হয়ে যেতো। হুজুরের অসংখ্য ভক্ত মুহিব্বীনগণ চলমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে জানাযায় শরীক হওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। কাজেই এটা নিয়ে ঘেউঘেউ করার কিছু দেখছিনা।

তবে, বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসির পর আনন্দ মিছিলের লোকসমাগম, করোনা ভাইরাসে মৃত বরগুনার আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা জি. এম. দেলোয়ারের জানাজায় লোকসমাগম, চট্টগ্রামে গার্মেন্টস কর্মীদের আন্দোলনে লোকসমাগম, হাট-বাজারগুলোর লোকসমাগম নিয়ে সেসব নাস্তিকদের কোন প্রকার ঘেউঘেউ না থাকায় এটা বুঝতে বাকি থাকে না যে, এদের লক্ষবস্তু সদা ইসলামই। কাজেই এদের ইটের জবাবে পাটকেল রেডি রাখতে হবে।

প্রিয় ভায়েরা, যেদিন থেকে কিছু বুঝতে শিখেছি, সেদিন থেকে এসব ইসলাম বিদ্বেষীদের দৌরাত্ম দেখে আসছি, শুধু এর জবাবে কিছু প্রতিবাদ দেখে আসছি, আর কিছু দেখছিনা, তাই দিনদিন এদের দৌরাত্ম বাড়ছেই, কমছেনা। এর একটিমাত্র কারণ; এদের জবাব বা প্রতিবাদ সমুচিতভাবে দেয়া যাচ্ছে না, যেই সমুচিত জবাবকে আমি পাটকেল বলে আসছি।

এরা টিভি মিডিয়ার মাধ্যমে ইসলামকে আঘাত করে আসছে, আমরা এদের জবাব দেয়ার জন্য আজও পর্যন্ত একটা টিভি মিডিয়া তৈরি করতে পারিনি, এমনকি টিভি মিডিয়া তৈরির প্রয়োজনীয়তাও অনুধাবন করিনি, এটা আমাদের ব্যর্থতা, এটাই আমাদের দূর্বলতা।

কাজেই: এদের ইটের জবাবে পাটকেল রেডি রাখতে হবে, আমাদেরকে টিভি মিডিয়া তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে এখনই টিভি মিডিয়া তৈরিতে উদ্যোগী হতে হবে। একথা ভালভাবে বুঝতে হবে যে, ওদের একমাত্র হাতিয়ার এই টিভি মিডিয়াই, এটার জবাবে যদি আমরা দাড়িয়ে যেতে পারি, সংখ্যালঘু এই নাস্তিকরা মুখলুকানোর যায়গা খোঁজা ছাড়া উপায় থাকবে না।

আসুন, আমরা উদ্যোগী হই, সকল বিষয়ে একজনকে আগে বেড়ে মুয়াজ্জিন হতে হয়, ইসলাম ও মুসলমানদের এই অতীব প্রয়োজনে চাই একজন উদ্যোগী মুয়াজ্জিন।

Sharing is caring!