চাঁদপুরে এতিমখানার ছাদ ধসে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত নভেম্বর ২৪, ২০১৯
চাঁদপুরে এতিমখানার ছাদ ধসে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত

আওয়ার ডেস্ক: 

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজিকান্দি কমপ্লেক্সের আল-আমিন এতিমখানার পরিত্যক্ত ভবনের ছাদ ধসে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রায় ৪৪ জনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শনিবার রাত ১০টার এতিমখানার পরিত্যক্ত ৪ তলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় শিক্ষককের সঙ্গে শতাধিক শিক্ষার্থী ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ বিষয়ে একত্রিত হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একত্রিত হওয়া শিক্ষার্থীরাসহ ছাদের মাঝখানের অংশ ধসে নিচে পড়ে যায়। বর্তমানে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১২জন। গুরুতর আহত এক শিশু শিক্ষার্থীকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এতিম শিক্ষার্থীরা হলেন, সিহাব (১৪), আইনুদ্দিন (১৩), নাহিদ (১৩), সাব্বির (১৩), ইব্রাহীম (১৩), তরিকুল ইসলাম (১৩), আবদুল আজিজ (১৩), সজিব (১৫), আবদুল্লাহ (১৪), রহমান (১৫), নাহিদ (১৪) ও সিনিয়র সহকারী মৌলভী মোহাম্মদ হোসেন (৫০)। ঢাকায় চিকিৎসার জন্য নেয়া শিশুর নাম সিয়াম (১০)। রাত ২টায় মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকা ওই মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আহম্মদ উল্যাহ বলেন, মতলব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ২৫ জন। এর মধ্যে ৯ জন ছাড়া বাকিদের চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ও ৩ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে গেছে। ফরাজিকান্দি কমপ্লেক্সের মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. শহীদ উল্যাহ বলেন, এতিমখানার সকল ছাত্রদের মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা শেষ হয় শনিবার। পরদিন ১৬ ডিসেম্বরের প্রস্তুতির জন্য কাউকে ছুটি দেয়া হয়নি। প্রস্তুতি নেয়ার জন্য সকলকে কথা বলার জন্য ডেকে আনা হয় ঘটনাস্থলে। একত্রিত হলেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে শিক্ষার্থীরা। ঘটনার পরপরই স্থানীয় ও মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় আহতদের মতলব উত্তর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় ১৭ জন। এছাড়াও কিছু আহত ছাত্র আনন্দবাজার ও ছেঙ্গারচর বাজারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। ফরাজিকান্দি আলিয়া মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. মাসুদ আল বলেন, ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ফরাজীকান্দি আল-আমিন এতিমখানা থেকে একটি টিম জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে, একটি টিম চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে এবং একটি টিম মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে কুচকাওয়াজ প্রদর্শন করতে পাঠানো হবে। সেই কারণে টিম লিডার (শিক্ষক) মোহাম্মদ হোসেন সেই এতিমখানার কুচকাওয়াজে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে টিমের তালিকা তৈরী করছিলেন। এ অবস্থায় এতিমখানার বর্ধিত অংশের দ্বিতীয় তলার ছাদ ধসে পড়ে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার। তিনি পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে আহত শিশুদের চিকিৎসার তদারকি করেন। একইভাবে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা হক। চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোহাম্মদ শওকত ওসমান বলেন, ঘটনার পরই আমরা ৩ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করেছি। ঘটনাস্থলের ওই ভবনটি পূর্ব থেকেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। রাত ১২টার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে মতলব উত্তর ফরাজিকান্দি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, সকল আহতদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা এখন ভালো আছে। যারা গুরুতর আহত হয়েছে তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। আমরা সকলে আহত শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসার খোঁজ-খবর রাখছি।

Sharing is caring!