ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির মুখে সবজি চাষীরা

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ২৪, ২০২০
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির মুখে সবজি চাষীরা
  • মুহাম্মদ ইসমাইল
  • বিশেষ প্রতিনিধি
সুপার টর্নেডো ঘূনিঝড় আম্ফানের তান্ডবে কলাপাড়া-মহিপুরসহ ৮ থেকে ১০ টি গ্রামের সবজি চাষীদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এসকল এলাকায় উৎপাদিত সবজি-ই প্রায় পুরো পটুয়াখালী জেলার চাহিদা পূরণ করে থাকে।
প্রতিবছরের মত এবছরও এখানকার চাষীরা প্রায় ৩০০ একর জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন। কিন্ত ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারনে এখন তাদের সব শেষ হয়ে ঘেছে। কুমিরমারা, মজিদপুর, পূর্ব সোনাতলা, এলেমপুর, গামুরতলা, নাওয়াভাঙ্গা, গুডাবাছা ও ফরিদগঞ্জ এ সহ আরও দু-একটি গ্রাম সবজি চাষের জন্য সু-খ্যাতি রয়েছে।
এখানে করোলা, রেখা, শষা, বডবটি, কাঁচামরিচ, বোম্বে মরিচ, লাউ, জিঙ্গা ও ঢেড়শসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হয়। যার বিক্রিমূল্যে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ফলন হতো বলে কৃষকদের নিকট হতে জানা যায়। কিন্তু হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ের ছোবলে তাদের সমস্ত শ্রম মাটিতে মিশে গেছে। লাউ গাছে ফলন্ত লাউসহ গাছগুলো উপুর হয়ে পরেছে।
করোলা গাছগুলো বৃষ্টি ও অতিরিক্ত বাতাসের কারনে উপরে এলোমেলো হয়ে রয়েছে। কাঁচামরিচ, বোম্বাই মরিচ ও বডবটি গাছগুলোর একই অবস্থা দেখা যায়। কুমিরমারা গ্রামের সবজিচাষী জাকির হোসেন বলেন, এ গ্রামের প্রায় ৯৫% লোকই কৃষক। বারো মাসই আমরা বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের সব কিছু উল্টা-পাল্টা করে দিয়েছে।
সবজি চাষী জাকির আরোও বলেন, আমরা সরকারের কাছে কোন সাহায্য চাইনা তবে বিনা শর্তে সুদমুক্ত ঋণ ও তার সঠিক তদারকি করা হোক এটাই আমরা চাই। আব্দুল হক গাজী, সালাউদ্দিন গাজী ও মাসুদ গাজীসহ একাধিক সবজি চাষীরা সুদমুক্ত ঋণের বিষয়ে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।
কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান জানান; ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের কারণে কৃষিদের যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে তার জন্য সরকার ভর্তুকির ঘোষণা দিয়েছেন। তবে আমরা এখন পর্যন্ত কোন দিক-নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা করা হবে বলে তিনি জানান।

Sharing is caring!