গৃহযুদ্ধ বাধানোর পাঁয়তারা করছে ট্রাম্প!

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুলাই ২২, ২০২০
গৃহযুদ্ধ বাধানোর পাঁয়তারা করছে ট্রাম্প!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণ-বৈষম্য, অবিচার ও পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে একটানা গণ-বিক্ষোভ প্রায় দুই মাস পূর্ণ হতে চলল।

এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিকাগোসহ দেশটির বড় বড় শহর ও অঙ্গরাজ্যগুলোতে ফেডারেল পুলিশ ও সেনা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। ট্রাম্প এমন উদ্যোগ নিবেন বলে আগেই ঘোষণা করেছিলেন।

ট্রাম্পের দৃষ্টিতে প্রতিবাদীরা ‘সন্ত্রাসী’, ‘নৈরাজ্যকামী’ ও লুটেরা!  প্রতিবাদীরা দাসপ্রথার সঙ্গে জড়িত ও অন্য অনেক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের মূর্তি ভাঙ্গতে থাকায় ট্রাম্প তাদেরকে দশ বছরের কারাদণ্ডের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন! কয়েক দিন আগে তিনি পোর্টল্যান্ড শহরের বিক্ষোভ দমনের জন্য সেখানে ফেডারেল বাহিনী পাঠানোর ফরমান দিয়েছিলেন।

কিন্তু এতসব দমন-নীতিতেও প্রতিবাদী মার্কিন জনগণ আর ভয় পাচ্ছেন না এবং সড়কগুলোতে বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতিও কমছে না! বরং বিপুল সংখ্যক ছদ্মবেশী মার্কিন পুলিশ শহরগুলোতে উপস্থিত হয়ে সহিংসতা বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন অনেকেই এ আশঙ্কা করছেন যে ট্রাম্প শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার নামে পুলিশ ও সেনা পাঠিয়ে গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক আইন জারি করতে চান এবং দেশটিতে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ও গৃহযুদ্ধ বাধানোর পাঁয়তারা করছেন।

ডেমোক্রেট দলীয় মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুম্যান্থাল বলেছেন, জনগণ যখন তাদের প্রাথমিক বা মৌলিক অধিকার আদায়ের দাবি জানাচ্ছে তখন ট্রাম্পের ডিক্টেটরসুলভ আচরণ বেশ বিপজ্জনক ও অগণতান্ত্রিক। 

গণ-বিক্ষোভের মোকাবেলায় ট্রাম্পের কঠোর দমন নীতি চলতে থাকার পাশাপাশি আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলও ট্রাম্প মানবেন না বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনে হেরে গেলে তা মেনে  নিবেন কিনা- দুই দিন আগে একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের হ্যাঁ-বাচক উত্তর দিতে রাজি হননি ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন আচরণকে সমালোচকরা রাজাসুলভ অবস্থান নেয়ার চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন।

মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ডন বেইয়ার এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ট্রাম্পের ওই আচরণ খুবই উদ্বেগজনক। কারণ তিনি তো রাজা নন।

গভীর অর্থনৈতিক বৈষম্য, অবিচার ও পুলিশি পাশবিকতার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এত গণ-অসন্তোষ ও বিক্ষোভ সত্ত্বেও এসব বিষয়ে গণদাবি মানার ও সংস্কার আনার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না ট্রাম্প সরকার। বরং দিনকে দিন আরও বেশি কঠোর দমন-নীতির আশ্রয় নিচ্ছেন ট্রাম্প। এ অবস্থা মার্কিন সমাজে সহিংসতা জোরদারের পাশাপাশি সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিপদও জোরদার করছে।

Sharing is caring!