কিশোরগঞ্জে প্রেমিকের সহযোগিতায় নিজের মেয়েকে হত্যা, মা গ্রেফতার

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত নভেম্বর ৫, ২০২১
কিশোরগঞ্জে প্রেমিকের সহযোগিতায় নিজের মেয়েকে হত্যা, মা গ্রেফতার

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে প্রেমিকের সহায়তায় নিজের মাদ্রাসাপড়ুয়া মেয়েকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মায়ের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (০৪ নভেম্বর) সকালে উপজেলার দেহুন্দা ইউনিয়নের চর দেহুন্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মা স্বপ্না আক্তারকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ।

নিহত মাইশা আক্তার (১৬) ওই গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে। সে পার্শ্ববর্তী সূতারপাড়া ইউনিয়নের চামড়া কওমি মাদ্রাসার নাহবেমীর (সপ্তম) শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা বাবুল মিয়া ঢাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিকে নৈশপ্রহরীর চাকরি করেন।

পুলিশ জানায়, চরদেহুন্দা গ্রামের বাবুল মিয়ার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সঙ্গে ফাইজুল নামে এক ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার ভোররাতে ফাইজুল স্বপ্নার বাড়িতে এসে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। এ সময় মেয়ে মাইশা আক্তার দেখে ফেলে প্রতিবাদ করলে প্রেমিকের সহযোগিতায় মাইশাকে গলাটিপে হত্যা করে মা স্বপ্না আক্তার। ঘটনার পর মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যায় ফাইজুল। বর্বরোচিত এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে এলাকাবাসী।

নিহতের বাবা বাবুল মিয়া জানান, স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি অনেকদিন ধরেই জানতাম। এ নিয়ে দেনদরবার করেও স্ত্রীকে ভালো পথে ফেরাতে পারিনি। এখন আমি মেয়ে হারালাম। স্ত্রীকেও হারাতে হবে। সকালে খবর পেয়ে ছোট ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে আসি। এখন আমি কী নিয়ে বাঁচব। নিহত মাইশার দাদি বেদেনা খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলের বউয়ের সঙ্গে ফাইজুলের গোপন সম্পর্ক আছিল। তারা দুজন মিলে আমার নাতিরে মাইরা ফেলসে। আমি তাদের ফাঁসি চাই।’ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইশার মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় আটক করা হয় স্বপ্নাকে।

করিমগঞ্জ থানার ওসি শামসুল আলম সিদ্দিকী জানান, মেয়েটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে নিজের মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে আটক স্বপ্না। অনৈতিক সম্পর্কের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা পুলিশের।

এ ব্যাপারে নিহতের বাবা বাদী হয়ে করিমগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

আইস/আবা২৪

Sharing is caring!