কাংখিত লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

আওয়ার বাংলাদেশ ডেস্ক ২৪
প্রকাশিত মে ২০, ২০২১
কাংখিত লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
  • উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল আলোচিত একটি নাম”ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ”।কারো কাছে সমালোচিত আবার কারো কাছে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় আস্থা ও নির্ভরতর প্রতীক।আশা জাগানিয়া একটি নাম।

যারা সমালোচনা করেন তাদের কে ব্যক্তিগত ভাবে আমি খারাপ ভাবিনা।কারন কারো সমালোচনার মাধ্যমে কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা কোন দল নিজেদের চলার পথকে অধিকতর পরিশালিত, পরিমার্জিত করতে পারে। তবে যারা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমালোচনা করেন তাদের বক্তব্য,যুক্তি ও দৃষ্টি ভঙ্গি নিয়ে পর্যালোচনা করলে যে মূল বিষয় গুলো সামনে আসে তা হলো কেন ইসলামী আন্দোলন অন্য সবার মত জোটবদ্ধ না হয়ে একলা নীতিতে চলছে? যেহেতু তারা তথাকথিত ইসলামী মূল্যবোধের জোটে আসছে না, জোটবদ্ধ নির্বাচন করছে না,তাই তারা ইসলামী শক্তি নয় বরং ইসলাম বিরোধী শক্তির সহযোগী।অন্য কথায় আওয়ামী লীগের সহযোগী। এ দৃষ্টি ভঙ্গির কারণেই দেখা যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইসলাম,দেশ ও মানবতার পক্ষে সকল ইতিবাচক কর্মসূচিকে তারা বক্র চোখে দেখেন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অপব্যাখ্যাও করেন।

সমালোচনা কারীদের সমূহ সমালোচনা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চলার গতি ধারা নিয়ে এ দেশের গণমানুষ কী ভাবছে, কীভাবে মূল্যায়ন করছে তা আমি নানাভাবে একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে বুঝতে চেষ্টা করেছি। আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে সমালোচনা কারীদের বাহ্যিক পরিচয়, তাদের বক্তব্যের বিষয়, বাচনভঙ্গি এক না হলেও তারা যে এক ই রাজনৈতিক ব্লকের,এক ই মতাদর্শের মানুষ তা প্রায় স্পষ্ট। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে জড়িয়ে তাদের যত বক্তব্য তা তাদের ঐ নির্দিষ্ট ব্লকের লোক ব্যতীত সাধারণ মানুষ তেমন গুরুত্ব দেয়না। বরং সাধারণ মানুষ যখন দেখে নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত বাস্তুহারা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা খাদ্য, ঔষধ,স্যালাইন নিয়ে ছুটছে, দরদ দিয়ে সকলের মাঝে পরিবেশন করছে—- করোনায় মৃত বরণকা্রী প্রিয়জন পরিত্যক্ত অবহেলিত লাশের পাশে, গোসলের খাটিয়ায়, জানাজায় আর লাশ কবরে শায়িত করনে মৃতের কবরে
দাঁড়িয়ে আছে ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা,দেশের সাধারণ মানুষ তখন তাদের ভালোবাসায় সিক্ত করে।

গরীব কৃষক যখন টাকার অভাবে শ্রমিক পায়না,পাকা ধান তার মাঠেই ঝড়ে পরার উপক্রম, তখন ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের তার পাশে, তার জমিতে শ্রমিক বেশে পেয়ে আনন্দে আপ্লুত হয়।

দেশের মানুষ যখন দেখে ভারতীয় সাম্রজ্যবাদ, তাদের দাদাগিরি, তাদের অর্থনৈতিক,ভূ-রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কতিক আগ্ৰাসনের বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলন এবং তার আমীর হযরত পীর সাহেব চরমোনাই অত্যান্ত সোচ্চার—-তারা যখন দেখেন ভারত টিপাইমুখ বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা মরু করনের প্রক্রিয়া
শু্রু করেছে। সরকারের নীরবতা।প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অনেকটা দায়সারা ভাব।তখন ইসলামী আন্দোলনের আমীর হযরত পীর সাহেব চরমোনাই মাওলানা ভাসানীর সাহসিকতা নিয়ে লাখো কর্মী বাহিনী সাথে নিয়ে টিপাইমুখে লংমার্চ করলেন।সবাই তাকে মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে বুকে স্থান দিল।

দীর্ঘ পথ পরিক্রমায়, অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আল্লাহর অশেষ রহমতে ইসলামী আন্দোলন এগিয়ে চলছে তার আপন লক্ষ্য পানে,প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে খেলাফতে রাশেদার নমূনায় একটি সুখী সমৃদ্ধ শালী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে।
এতে যারা শট-কার্ট পদ্ধতিতে ক্ষমতার ভাগিদার হবার সুপ্ত প্রত্যাশা মনের ভিতর লালন করছেন তারা মনের দুঃখে একটুখানি এদিক-সেদিক বললে সে ক্ষেত্রে একটু বেশি ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। আল্লাহ পাক সকলকে তৌফিক দান করুন।

কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও
বরিশাল জেলা সেক্রেটারি,
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

Sharing is caring!