কাঁচাবাজারের দখলে প্রধান সডক, যানজটে নাকাল বাঁশখালীবাসী

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত অক্টোবর ২, ২০২০
কাঁচাবাজারের দখলে প্রধান সডক, যানজটে নাকাল বাঁশখালীবাসী

আলমগীর ইসলামাবাদী

বিশেষ প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর ২০) বাঁশখালী প্রধান সড়কে (পিএবি সড়ক) গিয়ে দেখা যায়, শিলকুপ টাইম বাজারে ফুটপাত দখল করে কাঁচাবাজার বসিয়ে আধা কিলোমিটার পর্যন্ত সড়কটি অবৈধ দখলের কারণে যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। সপ্তাহের প্রতি রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতিবার কাঁচাবাজার বসে যানজটের সৃষ্টি হয়। যানবাহনের দীর্ঘ সারিতে জনজীবন হয়ে পড়ে অতিষ্ঠ।

সড়কের দু’পাশে ফুটপাত দখল করে বসেছে কাঁচাবাজার। মনছুরিয়া বাজার থেকে চাম্বল সিকদার দোকান পর্যন্ত টাইম বাজারের বিস্তৃতি।
টাইমবাজার সংলগ্ন প্রধান সড়কেই চলাচলকারী বাঁশখালী সুপার সার্ভিস ও স্পেশাল সার্ভিসের অঘোষিত বাস কাউন্টার। ফলে প্রতিবাজার বারেই বাজার সংলগ্ন বাঁশখালীর অন্যতম ব্যস্ত সড়কটিতে সব সময় লেগে থাকে অসহনীয় যানজট।
চট্টগ্রাম শহর থেকে বাঁশখালীর শেষ সীমান্ত টৈটং পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরত্বের সড়কটি যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী যানবাহন যাতায়াতের প্রধান ও বিকল্প মাধ্যম এই পিএবি রোড। ফলে রাস্তা দখল হওয়ায় প্রতিদিনই সীমাহীন যানজটে পড়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।
শুধু রাস্তা দখল করেই শেষ নয়, মানুষের হাঁটাচলা করার ফুটপাত পর্যন্ত দখল করে রেখেছেন মাংস ও সবজি বিক্রেতারা। প্রতি বছর বাজার টেন্ডার হয় বিশাল অংকের (২০২০ অর্থ বছরে বাজারের টেন্ডার হয়েছে ২৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা)। কিন্তু বাজার বসার জন্য নেই কোন নির্দ্দিষ্ট জায়গা। ফলে ব্যবসায়ীরা সড়কের ফুটপাতকে দখল করে রাস্তাকেই বাজার বানিয়ে ফেলেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও গাড়ি চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাস্তা দখলের কারণে তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে পড়ে থাকতে হয়। সকাল ৬টায় বসা এই বাজার চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এছাড়া রাস্তা দখল করে বাস কাউন্টার বসার কারণেই সব সময় লেগে থাকে যানযটের জটলা।
এসব কারণে বাঁশখালী প্রধান সড়ক কার্যত স্থবির হয়ে থাকে সারাদিন। রাস্তাটিতে যানজট ও গাড়ির চাপ কমাতে শীলকুপ ইউনিয়ন পরিষদ ও টাইমবাজার ব্যাসায়ী কল্যাণ সমিতির যৌথ উদ্যোগে নির্দিষ্ট স্থানে বাজার বসালেই যাটনযট নিরসণ ও জনদূর্ভোগ পোহাতে হবেনা বলে দাবী করেন টাইমবাজারস্থ দোকান ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন।

বাঁশখালী বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, “রাস্তা দখল করে শীলকুপ টাইমবাজারে কাঁচাবাজার বসার কারণে চাম্বল সিকদার দোকান থেকে মনছুরিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার সড়ক জুড়ে দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আমাদের মতো চালকদের ও চট্টগ্রাম শহরগামী সাধারণ মানুষ সহ চাকরিজীবীদের।”

স্পেশাল, সুপার সার্ভিস ও সিএনজি অটোরিক্সার বেশ কয়েকজন চালক প্রতিবেদককে বলেন, “এমনে রাস্তা দখল করে কাঁচাবাজার এইটা কোন দেশের আইন আমাদের বুঝে আসেনা। কেউ কিছু বলেও না। রাস্তা হয়েছে গাড়ি চলানোর জন্য কিন্তু তারা কাঁচাবাজার ও বাস কাউন্টার করে রেখেছে। এরকম যানজটের ঠেলায় আমরা বাঁচি না।”
সড়কটিতে প্রতিদিন যাতায়াত করা পথচারী মাওলানা ইদ্রিস বলেন, বছরের পর বছর জুড়ে টাইমবাজার জুড়ে প্রতিবাজার বার দীর্ঘ যানযট লেগে থাকে। লক্ষ লক্ষ টাকার টেন্ডার হয় বাজারটির। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাজার পরিচালনা কমিটি চাইলে ফুটপাত দখলমুক্ত করে আলাদা জায়গার ব্যবস্থা করে কাঁচাবাজার বসাতে পারেন। এতে সড়ক অবৈধ দখলমুক্ত হলে যানযট থাকবেনা, পথচারী ও যানবাহনকে দূর্ভোগ পোহাতে হবেনা।

খোঁজ-খবর নিয়ে বিশেষ সূত্রে জানা যায়, টাইমবাজার সংলগ্ন প্রধান সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে দানপত্রমূলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের অনুকূলে ১৬ গন্ডা জায়গা আছে। ওই জায়গায় ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজার পরিচালনা কমিটির সহযোগীতায় কাঁচাবাজার বসালে জনদূর্ভোগ লাঘব হবে। সড়কপথটি দখলমুক্ত হবে। যানযটের জট দূর হবে এমনটি দাবী করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

শিলকুপ ইউপির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মহসিনকে বার বার ফোন করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
টাইমবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মু. সোলতান বলেন, ”প্রতিবছর বাজারটি লক্ষ লক্ষ টাকায় টেন্ডার হয়। ২০২০ অর্থ বছরে বাজারের টেন্ডার হয়েছে ২৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান চাইলে বাজারের জন্য স্থান নির্ধারণ করে দিতে পারেন। শুনেছি বাজারের পশ্চিম পাশে জেলা প্রশাসকের অনূকুলে দানপত্রমূলে কিছু জায়গা আছে। ওখানে প্রশাসনের সহযোগীতায় কাঁচাবাজার বসালে যানযট দূর হবে।”

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসিয়াল ফোন নাম্বারে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সহকারি কমিশনার (ভূমি) মু. আতিকুর রহমান বলেন, “উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোমেনা আক্তার ছুটিতে আছেন। তিনি ছুটি থেকে আসলে। ফুটপাত দখল করে বাজার বসার বিষয়টি ওনাকে অবগত করানো হবে। বিস্তারিত জানালে তিনি এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন। তাছাড়া আমাকেও যদি আইনগত কোন ব্যবস্থা নিতে বলা হয় তখন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’

Sharing is caring!