করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে শপিংমলে উপচেপড়া ভিড়; মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ১৯, ২০২০
করোনা সংক্রমণ ঝুঁকি নিয়ে শপিংমলে উপচেপড়া ভিড়; মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি
  • আলমগীর ইসলামাবাদী 
  • চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

করোনা পরিস্থিতিতে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রাম। তারপরও আতঙ্ক নেই সাধারণ মানুষের মাঝে। ঈদকে সামনে রেখে চলছে কেনাকাটা। দোকানিরাও নিয়মিত প্রশাসনের সাথে চোর-পুলিশ খেলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলছেন, নির্দেশনা না মানলে সংশ্লিষ্ট উপজেলায় কারফিউ জারির মত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। যদিও সরকার ঘোষণা দিয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত সীমিত পরিসরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে। কিন্তু ব্যসায়ীরা ঈদের মুনাফা তুলে নিতে এ সময়ের বাইরেও দোকান খোলা রাখছে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার তথ্য এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ চট্টগ্রামে একমাত্র পটিয়া উপজেলায় সাধারণ মানুষ সচেতন হওয়ার কারণে কোন শপিংমল এবং দোকানপাট খুলতে দিচ্ছেন না। নিজেরাই পাহারাদার হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি কর্ণফুলী উপজেলায় ব্রিজঘাট এলাকায় নতুন তিনটি মার্কেট চালু হওয়ায় ক্রেতারা দোকান খোলার অপেক্ষায় আছেন।

আনোয়ারা উপজেলায় স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে চলছে বেচাকেনা। চাতরী চৌমুহনী ওয়ান মাবিয়া সিটি সেন্টার, বটতলী জামাল মার্কেট, ইমাম শপিং সেন্টার, জয়কালী বাজার ও আনোয়ারা সদর বাজারে সেহরির পর থেকেই শুরু হয় স্থানীয়দের শপিং। অর্থাৎ ভোর ৫টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। একই অবস্থা চন্দনাইশেরও।

উপজেলার রেজিস্ট্রি অফিসের পাশের একটি পাড়াতে গড়ে তোলা হয়েছে ঈদ বাজার, চন্দনাইশ সদর, দোহাজারী হাজারী টাওয়ার, স্টেশন রোড এবং উপজেলার বৈলতলী ইউনুছ মার্কেটে দোকানপাট খোলা থাকে। প্রশাসন অভিযানে গেলে কিছুক্ষণ বেচাকেনা বন্ধ রাখলেও পরে আবার দোকান খোলে।

বাঁশখালী উপজেলার জলদী জিএস প্লাজা, গুনাগরী, রামদাসহাট, চাম্বল বাজারের বেশ কিছু দোকানপাট খুলে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে,নাপোড়া বাজার,পুইছড়ী প্রেম বাজার,বাহারছড়া বশির উল্লা মিয়াজি বাজার খুব জমজমাট কেনা খাটা চলছে। পাশাপাশি সাতকানিয়া উপজেলা সদরের থানার পাশে বেশকিছু দোকান খুলে ঈদ বাজার চলছে জমজমাট। উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজারে শাটার অর্ধ খোলা রেখে কেনাকাটা চলছে হরদম।

একই উপজেলার বাজালিয়া বাজার এবং ছদাহা ইউনিয়নের ফকিরহাট বাজারেও চলছে বেচাকেনা। যদিও ফকিরহাট বাজারে গত ১৭মে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করলেও তা মানা হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সাতকানিয়ার মানুষ ব্যবসা ছাড়া কিছু বুঝে না। আমরা ব্যবসার জন্য পৃথিবীজুড়ে পরিচিত। ব্যবসায়ীরা মুনাফা লাভের জন্য নিয়ম-নীতির পরোয়া না করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে মানুষকে মার্কেটে আসতে উদ্বুদ্ধ করাটা ক্ষমাহীন অপরাধ বলে মনেকরি।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি দোকানপাট খোলা রাখা হয়েছে লোহাগাড়া উপজেলায়। ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের সাথে চোর-পুলিশ খেলছে। আর মানুষের মাঝেও নেই বিন্দুমাত্র সচেতনতা। উপজেলা সদরের বটতলী বদিউর রহমান মার্কেট, লোহাগাড়া শপিং কমপ্লেক্স, মোস্তাফিজুর রহমান মার্কেট, দরবেশহাটসহ প্রায় ১০টি মার্কেটে চলছে বেচাকেনা।

এছাড়াও উপজেলার পদুয়া বাজার, চুনতী বাজার, সেনের হাট, মনু ফকির হাট, চরম্বা নয়া বাজার, পুটিবিলা এম চর হাট এবং কলাউজানের কানুরাং বাজারে বসেছে ঈদ বাজার।

লোহাগাড়া প্রতিনিধি সূত্রে আরও জানা যায়, প্রশাসনের গতিবিধি লক্ষ্য রাখার জন্য ব্যবসায়ীরা কিছু অর্থের বিনিময়ে গোয়েন্দা নিয়োগ করেছেন। যার মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেট কোথায় অভিযান পরিচালনা করবে তা জানাতে পারবে।

এদিকে উত্তর চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি মার্কেট খোলা রয়েছে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায়। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কোন টাইমই মানছেন না স্থানীয়রা। উপজেলার চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার, গোচরা বাজারের কুদ্দুস মার্কেট, রোয়াজর হাটের রুবেল সুপার মার্কেট, জয়নাব শপিং সেন্টার, ডিআর আয়েশা সুপার মার্কেট, টাকলা মামা সুপার মার্কেট, পদুয়া রাজারহাট বাজার, বেতাগী রামগতির হাট বাজার, রাজানগরের রানীরহাট বাজার, দক্ষিণ রাজানগরের ধামাইর হাট বাজার, পোমরার শান্তির হাট বাজারে চলছে পুরোদমে ঈদ বেচাকেনা।

এছাড়াও সরফভাটা ক্ষেত্র বাজারে মার্কেট বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেননি। জানা যায়, ১০ মে থেকে দোকানপাট চালু রাখার সিদ্ধান্ত আসলে ব্যবসায়ীরা স্ব-উদ্যোগে বন্ধ রাখবেন বলে জানিয়ে দেন। কিন্তু তার পাঁচদিন পর অর্থাৎ ১৫ মে থেকে আবার চালু করে দেন ব্যবসায়ীরা।

রাউজান উপজেলায় ১০ মে’র পর থেকে সন্ধ্যার পর দোকানপাট খোলা রাখলে পুলিশ বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেন। পরে গত ১৭ মে থেকে ব্যবসায়ীরা আর কোন দোকান খুলেননি। ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর বাজার ও নাজিরহাট বাজারে কিছু বেচাকেনা চললেও বাকি এলাকাগুলোতে তেমন বাজার বসেনি।

Sharing is caring!