করোনা ভাইরাস: ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৮, ২০২০
করোনা ভাইরাস: ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

শাহ্ মুহাঃ আব্দুল্লাহ: এটি ঐতিহাসিক ভাবে প্রমানিত যে, প্রতি শতাব্দীতে এই পৃথিবীতে এক বা একাধিক মহামারীর আবির্ভাব ঘটে, যা সাবলীল ভাবে চলন্ত পৃথিবীর গতিরোধ করে। প্রাণ হারায় লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ। একবিংশ শতাব্দীতেও এর ব্যাতিক্রম হয়নি। এসেছে করোনা ভাইরাস বা covid-19।

বিশ্ব মানচিত্রের অন্যতম বৃহত্তম দেশ চীনে এর সুচনা হলেও হাটি হাটি পা পা করে প্রায় গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে ইতিমধ্যেই  বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করেছে। সর্বশেষ তথ্যমতে, এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২৩  হাজারের অধিক লোক মৃত্যুবরন করেছে। আক্রান্ত সাড়ে চার লাখের বেশি। এর কার্যকরী প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই।

ইসলামের দৃষ্টিতে এসব মহামারী ভূপৃষ্ঠে অবস্থানরত মানুষেরই কর্মের ফল। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক বলেন,
ظهر الفساد فى البر و البحر بما كسبت ايدي الناس ليذيقهم الذى عملوا لعلهم يرجعون
অর্থাৎ, স্থলে ও জ্বলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে। (সুরা আর রোম-৪১)

কিছু জাতি যখন তাদের স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভুলে নানা কুকর্মে লিপ্ত হয় তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ওই জাতিকে  কিছু শাস্তি আস্বাদন করান,যাতে তারা প্রভুর দেখানো পথে প্রত্যাবর্তন করে।

এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যখন কোনো কওমের মধ্যে অশ্লীলতা, বেহায়াপনা ছড়িয়ে পড়বে তখন তাদের মাঝে এমন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়বে যা ইতিপূর্বে দেখা যায় নি”। (ইবনে মাজাহ-৪০১৯)

করোনা ভাইরাস বা COVID-19 হয়তো উক্ত আয়াত ও হাদিসের সারবত্তা  রূপ। তবে খুশির খবর এই যে, এরকম মহামারীর সময় মুসলমান হিসেবে আমাদের কি করা উচিত সে ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে সুস্পষ্ট শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। এ অবস্থায় আমাদের করনীয় হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত তাকদীরের উপর খুশি থাকা এবং সওয়াবের আশা নিয়ে ধৈর্য ধারণ করা। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট”৷

অপর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,
قل لن يصيبنا الا ما كتب الله لنا. هو مولانا و على الله فليتوكل المؤمنون
অর্থ: আপনি বলুন, আমাদের কাছে কিছুই পৌঁছাবে না‌, আল্লাহ আমাদের জন্য যা রেখেছেন তা ব্যতীত৷ ‌তিনিই আমাদের কার্যনির্বাহক‌। একমাত্র আল্লাহর উপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত। (সুরা তওবা)

প্রিয় রাসূল (সাঃ) আমাদের কে এসব অবস্থানে সান্ত্বনা দিয়েছেন। বলেছেন, “মহামারী আল্লাহ তায়ালার একটি শাস্তি। তবে তা মুসলমানদের জন্য আল্লাহর রহমত”। (বুখারি-৩৪৭৪)

হাদীসে আছে, যারা আল্লাহর উপর আস্থা রাখে তাদের পায়ে যদি একটা কাঁটা ফুটে, আল্লাহর কাছে এরও বিনিময় পাওয়া যাবে। সুতরাং,এ অবস্থায় যারা ধৈর্য্য ধারণ করবে, তাদের জন্য এটি মহামারী নয়। তাই সবার উচিত, সর্বাবস্থায় ধৈর্য ধারণ করা, আল্লাহর উপর ভরসা রাখা ও ইবাদতে মশগুল থাকা।

রাসূল সাঃ মহামারী থেকে বাঁচার উপায় হিসেবে দোয়া শিখিয়েছেন,
اللهم انى اعوذ بك من البرص والجنون والجزام و من سيئ الا سقام
উচ্চারনঃ আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি ওয়াল জুনুনি ওয়াল জুযামি ওয়া মিন সাইয়িইল আসকম (আবু দাউদ-১৫৫৪)

এই দোয়া সর্বদা পড়তে হবে। তবে দোয়ার সাথে ‘দাওয়া’ অনিবার্য। এ ব্যাপারে হাদীসে আছে, একদা রাসুল (সঃ) এক বেদুইন সাহাবিকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার বাহন উট কোথায়? সাহাবি বললেন, বাইরে খোলা জায়গায় রেখেছি। আল্লাহই রক্ষা করবে। রাসুল সাঃ বললেন, আগে উট বাধো তারপর ভরসা কর।

তাই দাওয়া হিসেবে আমাদের সচেতন থাকতে হবে‌ এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দেওয়া নির্দেশনা মানতে হবে৷ এসব বিষয় খেয়াল করে চললে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে পারব ইনশাল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সকলকে হেফাজত করুক।আমিন।

ছাত্র: দারুন নাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, ডেমরা,ঢাকা।
সদস্য, আল ফিরাসাত লেখক মজলিস৷

Sharing is caring!