করোনা: প্রয়োজন আল্লাহর দিকে ফিরে আসা

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৫, ২০২০
করোনা: প্রয়োজন আল্লাহর দিকে ফিরে আসা

মাওলানা তৈয়ব উল্লাহ নাসিম:

করোনায় আক্রান্ত হয়ে দিশেহারা বিশ্ববাসী। ইতিমধ্যে এই মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ১৮০ এর অধিক দেশে। প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে কোনো না কোনো নতুন দেশ। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা এখন সেকেন্ড আর মিনিটে হিসাব রাখতে হচ্ছে।

এই রোগের নেই কোনো ঔষধ৷ নেই চিকিৎসা। আমরা বিশ্বাসীরা জাগতিক চিকিৎসা না পেলেও আল্লাহর দিকে ফিরে এসে মুক্তি পেতে পারি এই দুর্যোগ থেকে। মূলত তিনি এটাই চান, আমরা যেন তার দিকে ফিরে যাই পাপ পঙ্কিলতা ছেড়ে।

কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
“স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে”৷ (সূরা রুম-৪১)

আল্লাহ চান আমরা আমাদের কৃতকর্মের উপর লজ্জিত হয়ে তাওবা, ইস্তেগফার করে তার দিকে ফিরে যাই। তিনি বলেছেন, আমরা তার কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি দুর্দিনের বদলে আমাদের সুদিন ফিরিয়ে দেবেন। ইরশাদ হয়েছে, “অতঃপর বলেছিঃ তোমরা তোমাদের পালনকর্তার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের উপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দিবেন৷ তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিবেন৷ তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্যে নদীনালা প্রবাহিত করবেন।” (সূরা নূহ-১০.১১.১২)

পাশাপাশি আমরা দান-সদকা করে একে অপরের কল্যাণ কামনার মাধ্যমে এই মহামারি থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি।
আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ দান সদকার গুরুত্ব ও এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তার প্রসিদ্ধ “আল-ওয়াবিলুস-সায়্যিব” গ্রন্থে বলেন, “রোগবালাই ও বিপদাপদ রুখে দিতে কিংবা তা থেকে মুক্তি পেতে দান সদকার আবাক করার মতো প্রভাব রয়েছে। যুগে যুগে মানবসমাজে এটি স্বীকৃত এবং প্রসিদ্ধ। সাধারণ মানুষ কিংবা বিশেষ ব্যক্তিবর্গ সবাই এর উপর আমল করে উপকৃত হয়েছে। দান সদকাকারী যদি পাপী, অত্যাচারী বা কাফেরও হয় আল্লাহ তাআলা তার উপর থেকেও বিপদাপদ তুলে নেন।”

খতীব বাগদাদী এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস বর্ণনা করেন, “সদকা ৭০ রকমের বিপদাপদকে রুখে দেয়। তার মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ হলো কুষ্ঠও শ্বেত রোগ”৷ (হাফেজ এরাক্বী, আলবানী হাদীসটাকে যঈফ বা দুর্বল বলেছেন।) শাইখ জিবরীন বলেন অন্যান্য হাদীসে এর মূল রয়েছে, তাই এই হাদীসটি নেয়া যায়।

আরেকটি হাদীসও খুবই প্রসিদ্ধ, “তোমরা তোমাদের রোগীদের সদকা দ্বারা চিকিৎসা করো।”

দান সদকা যে কেবলমাত্র টাকাপয়সা বা সম্পদ দ্বারা হতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। প্রয়োজন শুধু মানসিকতার। আল্লাহর রাসূল সা.কে এক লোক এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ (সঃ)! আমি গ্রামের মানুষ৷ আমাকে এমন কিছু শিক্ষা দিন, যা থেকে আল্লাহর নিকট আমি লাভবান হতে পারি। উত্তরে আল্লাহর রাসূল বললেন, “কোনো ভাল কাজকেই ছোটো করে দেখো না। চাই সেটা তোমার বালতি দিয়ে কূপ থেকে অন্যের পাত্রে পানি তুলে দেয়াই হোক”। (ইবনে হেব্বান, সহীহ)
অন্যত্র তিনি (সা.) বলেন, “প্রত্যেক ভাল কাজই সদকা, চাই সেটা সহাস্যে কারো মুখোমুখি হওয়াই হোক”।( তিরমিযী)

সুতরাং আমরা সবাই আজ যে মহা বিপদে পতিত, যে মহামারিতে আক্রান্ত, এর থেকে নিষ্কৃতি পেতে আল্লাহ তাআলার নিকট তাওবা এস্তেগফারের পাশাপাশি আমরা বিশেষভাবে দান সদকার আমল করতে পারি।

কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো আমাদের দেশের ছোট বড় ব্যবসায়ীরা মানুষকে সাহায্য করার বদলে বরং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, মজুতদারীর মতো ঘৃণ্যকাজে লিপ্ত হচ্ছে। এমন বিপদের মুহুর্তেও ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বাড়িয়ে কিভাবে মুনাফা লুটবে সেই ধান্দায় ব্যস্ত তারা। দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন প্রতিটি পণ্য৷ প্রশাসন থেকে মনিটরিং করেও তাদের থামানো যাচ্ছে না।
রাসূল সা. ইরশাদ করেন, “ক্রয় বিক্রয় ও মিমাংসায় ছাড়দেয়া ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা রহম করেন।” (বুখারী)

অন্য হাদীসে রাসূল সা. বলেন, “ক্রেতা বিক্রেতা যদি নিজেদের লেনদেনে সত্যবাদী হয়, দোষত্রুটি গোপন না করে, সেই লেনদেনে আল্লাহ বরকত দান করেন৷ আর যদি তারা মিথ্যার আশ্রয় নেয় ও লুকোচুরি করে তবে ঐ ক্রয় বিক্র‍য় ও লেনদেনে তাদের বরকত থেকে বঞ্চিত করেন” (বুখারী,মুসলিম)

আল্লাহ তাআলা আমাদের এই মহামারি থেকে মুক্তি দিন৷ সবাইকে সুপথে পরিচালিত করুন৷

 

লেখক:-

মাওলানা তৈয়ব উল্লাহ নাসিম

বিশিষ্ঠ আলেম ও গবেষক

Sharing is caring!