করোনায় শিক্ষার্থীর করনীয়; প্রফেসর মীর্জা মো: নাসির উদ্দিন

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ৫, ২০২০
করোনায় শিক্ষার্থীর করনীয়; প্রফেসর মীর্জা মো: নাসির উদ্দিন

তোফায়েল আহমেদ (কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি)

কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন এই মহামারীর দিনে সকল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মুল্যবান বক্তব্য পেশ করেন । তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন –

সুপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম ও শুভেচ্ছা।
(১) ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা বিশ্বব্যাপী
করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে স্থগিত আছে।
এ পরীক্ষা নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য পরীক্ষার্থী
মোবাইলে বিভিন্ন সময় পরীক্ষা নিয়ে তথ্য
জানতে চায় কিংবা আজগুবি নানারুপ তথ্য
জানাতে চায়। প্রথমে তথ্য সম্পর্কে বলবো করোনা
পরিস্থিতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ তালা ছাড়া
কারও কোন তথ্য জানা নেই। বিশ্বের নামকরা উন্নত
দেশগুলো করোনায় হিমশিম খাচ্ছে। আমাদের
সরকারও সর্বাত্নক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আশা
করছি মহান আল্লাহতালার রহমতে আমরা শীঘ্রই
করোনা মুক্ত হয়ে যাব। করোনা পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে এলেই পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে। এমনও
হতে পারে একদিনে দু’টি পরীক্ষা হতে পারে।
কাজেই সময় নষ্ট না করে পড়াশোনা অব্যাহত রাখ
এবং এটি একটি কনটিনিউয়াস প্রক্রিয়া। সরকার
যদি আজকে ঘোষণা দেয় আগামীকাল পরীক্ষা
নিতে হবে সেরকম প্রস্তুতিও শিক্ষা বোর্ড ও
কলেজগুলোর নেয়া আছে। পরীক্ষার্থীদের কেউ
যদি করোনার কারণে পড়াশোনা বন্ধ রাখে সে
নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্থ হবে। শিক্ষার্থীরা আমাকে
যেসব আজগুবি তথ্য বলেছে সেগুলো এরকম- স্যার,
পরীক্ষা নাকি ডিসেম্বরে?, পরীক্ষা ছাড়াই নাকি
অটো পাস দেয়া হবে?, দুই পেপার মিলে নাকি
একটি পরীক্ষা? ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো সবই গুজব,
সবই পড়া ফাঁকিবাজদের মনগড়া কথা। তোমরা এসব
কথায় কান না দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাও। এতে
তোমাদের পরীক্ষার পড়াও হবে এবং পরবর্তীতে
বিভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার কাজে লাগবে। মনে কর
পরীক্ষা আগামীকালই হবে।
(২) কলেজের অভ্যন্তরীণ একাদশ বার্ষিক পরীক্ষাও
একই কারণে স্থগিত হয়ে আছে। যারা উপস্থিতির
কারণে অংশগ্রহণের সুযোগ পাও নাই। করোনা
পরিস্থিতি বিবেচনায় তাদের সবাইকে পরীক্ষায়
অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে। সবাই ব্যক্তিগত
উদ্যোগে যতটুকু পারা যায় পড়াশোনা চালিয়ে
যাও। বই ফেলে করোনা নিয়ে বসে থাকলে
তোমরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে।কারণ তোমাদের
সেশনের যেটি নির্ধারিত সময় তা কোন ভাবে
বাড়বে না । ফলে পরবর্তীতে কোর্স সম্পন্ন করতে
পারবে না। এ অবস্থায় যে বিষয়গুলো অথবা
প্রত্যেকটি বিষয়ের যে অধ্যায়গুলো নিজে পড়া
যায় সেগুলো শেষ করে ফেল। কলেজ খুললে
স্যারদের সহায়তায় বাকি অধ্যায়গুলো শেষ করা
যাবে।
(৩) ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ
শিক্ষার্থী যারা কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজে
ভর্তি হতে চাও তাদেরকে স্বাগতম। তোমরাও
মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে আপাতত: কিছু পুরাতন
বই সংগ্রহ করে সহজ অধ্যায়গুলো পড়া নিজে নিজে
শুরু করে দাও। তোমাদের বন্ধুরা যারা ঢাকা,
চট্রগ্রাম কিংবা অন্যান্য জায়গার নামকরা
প্রতিষ্টানে ভর্তি হতে চায় তাদের হয়তো বইয়ের
অর্ধেক চ্যাপ্টার শেষ করে ফেলেছে। তারা
এভাবেই ভাল ফলাফল করে থাকে। এরা
কোনভাবেই সময় নষ্ট করেনা। আমরা চাই কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকেই উন্নতমানের শিক্ষা প্রদান করা হবে, ভাল ফলাফল করা হবে। কিন্তু শুরুতেই দেরি হয়ে গেলেই প্রকৃত উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।
মহান আল্লাহতালা আমাদের দেশকে করোনামুক্ত
করুন। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় রহমত দান করুন।

Sharing is caring!