করোনার উপসর্গ নিয়ে বিনা চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত জুলাই ১৯, ২০২০
করোনার উপসর্গ নিয়ে বিনা চিকিৎসায় মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু
  • নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরে করোনা উপসর্গ থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে এক মুক্তিযোদ্ধার আব্বাস আলীর মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। মৃত আব্বাস আলী গাজী (৭৮) সদর উপজেলার আগদিঘা কাটাখালি গ্রামের বাসিন্দা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, করোনা উপসর্গ থাকায় ওই রোগীকে জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি না করে করোনা আইসলেশান ওয়ার্ডে ভর্তির কথা বলা হলে তারা ভর্তি করাতে অস্বীকার করেন। রবিবার নাটোর শহরের সদর থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃতের ছেলে আজিম উদ্দিন গাজী অভিযোগ করে বলেন, গেল দুই বছর থেকে বাবা শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। রাতে শ্বাসকষ্ট বেশি হলে তাকে প্রথমে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডাক্তাররা আমার বাবাকে ভর্তি করেননি। পরে সততা ক্লিনিকে নিয়ে এলে অনেকগুলো টেষ্ট করানো হয়। টেষ্ট করা পর বাবাকে আবার সদরে পাঠান। সেখানে নিয়ে গেলে ডাক্তার ভর্তি নেননি। আবার সততা ক্লিনিকে এলে বাবা মারা যান।

এ বিষয়ে সততা ক্লিনিকের পরিচালক আব্দুল আওয়াল রাজা বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে ওই রোগীকে আমাদের ক্লিনিকে নিয়ে আসে। আমরা তাক্ষণিকভাবে অক্সিজেন ও নেবুলাইজ করানোর পরে নাটোর হাসপাতালের করেনা কনসালটেন্ট ডা. আনিসুজ্জামানের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোগী কিছুটা সুস্থ বোধ করলে তাদের হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেই। দুপুরে রোগীকে নিয়ে তার স্বজনরা চলে যায়। পরে সাড়ে তিনটার দিকে যখন নিয়ে আসে তখন তার অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেও তাঁকে বাাঁচাতে পারিনি। বেলা পৌনে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মৃতের নাতী হৃদয় অভিযোগ করে বলেন, আমার নানা একজন মুক্তিযোদ্ধা। বিনা চিকিৎসায় নানার মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নাটোর -২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুল। তিনি কোন প্রকার অনিয়ম হলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ ও পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তবে হাসপাতালের আরএমও ডা. সোহেল বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। আরেক আরএমও ডা. মঞ্জুর রহমান বলেন, তিনি সিভিল সার্জন অফিসে শনিবার সারাদিন ট্রেইনিংয়ে ছিলেন। তবে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন দায়িত্বরত ডা. কাজী রাসেলের কাছে ওই রোগীকে নিয়ে গেলে তিনি দেখেন রোগীর জ্বর ও শ্বাসকষ্ট রয়েছে। একারণে তিনি রোগীকে জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি না করে করোনা আইসলেশান ওয়ার্ডে ভর্তির পরামর্শ দেন। কিন্তু রোগীর স্বজনরা করোনা আইসলেশান ওয়ার্ডে ভর্তি না করে রোগীকে ফেরত নিয়ে যান। তিনি বলেন, করোনাকালীন সময়ে সাধারণ রোগীদের স্বার্থ বিবেচনা করেই করোনা আইসলেশান ওয়ার্ডে ভর্তির কথা বলা হয়েছিল। তবে ডা. কাজী রাসেলের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. কাজী মিজানুর রহমান জানান, এটা দুঃখজনক ঘটনা। আমার জানার পরে বিষয়টা নিয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। কোন অবহেলা থাকলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Sharing is caring!