করোনা’র আক্রমনে পর্যুদস্ত বিশ্ব, হু হু করে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যু

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৪, ২০২০
করোনা’র আক্রমনে পর্যুদস্ত বিশ্ব, হু হু করে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ক্রমে স্তব্ধ হয়ে পড়ছে বিশ্ব। ১০০ কোটির বেশি মানুষ এরই মধ্যে ঘরে বন্দি। এর পরও ‘অতি ক্ষুদ্র’ এক ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না অন্যান্য গ্রহে প্রাণের সন্ধানে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়া মানুষ। নতুন করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে গতকালও কারফিউ জারি করা হয়েছে সৌদি আরব, চিলিসহ বেশ কয়েকটি দেশে। গোটা দেশ চার সপ্তাহের জন্য অবরুদ্ধ (লকডাউন) রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে পাশের দেশ ভারতের ৭৫টি জেলায়। অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দেশটি। নিজেদের মধ্যকার সীমান্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাজিল ও উরুগুয়ে। অনেক আগেই এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে।

করোনাভাইরাস ডিজিস ২০১৯ (কভিড-১৯)-এ সর্বোচ্চ মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইউরোপ। দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ইতালিতে কিছুটা কমলেও উল্টো চিত্র ইউরোপের আরেক দেশ স্পেনে। অন্যদিকে হু হু করে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকা যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে আগামী ১০ দিন পর চিকিৎসা সরঞ্জামের মারাত্মক ঘাটতিতে পড়বে তারা।

গতকাল পর্যন্ত কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ। এ ছাড়া ১৯৫টি দেশ ও অঞ্চল মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পৌনে চার লাখ। ভাইরাসটির সম্ভাব্য উৎসস্থল চীনের অবস্থা ভালো। দেশটিতে গতকাল স্থানীয়ভাবে কেউ আক্রান্ত হয়নি। যে কয়েকজন শনাক্ত হয়েছে, সবাই অন্য দেশ থেকে আসা। ইরানে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা গতকালও ছিল ১০০ জনের ওপরে।

বৈশ্বিক এ মহামারিতে ভালো নেই বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও। গতকাল গাম্বিয়ায় কভিডে আক্রান্ত হয়ে এক বাংলাদেশি ইমামের মৃত্যু হয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে ভাইরাসটিতে মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম। “দেশে-দেশে কারফিউ, ‘লকডাউন” করোনাভাইরাস মোকাবেলার সক্ষমতা বাজিয়ে দেখতে ‘জনতার কারফিউ’ পালন করা ভারত আরো কঠোর কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের ৭৫টি জেলা গতকাল থেকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার রাত থেকে বন্ধ থাকবে বিমানের অভ্যন্তরীণ সব ফ্লাইট। এরই মধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে যাত্রীবাহী সব ট্রেন। গতকাল পর্যন্ত ভারতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪৬৭ ও ৯ জন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত দুবাইয়ের সব বিপণিবিতান (শপিং মল) বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দেশটি। দেশটিতে এ পর্যন্ত ১৯৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে দুজনের। সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান। গতকাল থেকে কার্যকর হওয়া এ কারফিউ আগামী ২১ দিন বলবৎ থাকবে। দেশটিতে ৫৬২ জন আক্রান্ত হলেও এখনো কারো মৃত্যু হয়নি।

রাশিয়ায় মস্কোর মেয়র বয়স্ক ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ভাইরাস থেকে বাঁচতে হয় ঘরে অবরুদ্ধ থাকতে হবে, নয়তো শহর ছেড়ে দূরে কোথাও গিয়ে আশ্রয় নিতে হবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার বড় মিত্র সিরিয়ায় গতকাল প্রথমবারের মতো একজন কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি বিদেশ থেকে আসা। ৫০ লাখ মানুষের দেশ নিউজিল্যান্ড আগামী চার সপ্তাহ অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। দেশটিতে গতকাল পর্যন্ত ১০২ জন আক্রান্ত হলেও কারো মৃত্যু হয়নি।

জাসিন্ডা বলেন, ‘সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত ব্যক্তিরা শুধু বাইরের দেশ থেকে আসেনি। স্থানীয়ভাবেও সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় অবরুদ্ধ করা না হলে প্রতি পাঁচ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হতে থাকবে।’ লাতিন আমেরিকায় সর্বশেষ কারফিউ জারি করেছে চিলি। সেখানে রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি থাকবে। গতকাল পর্যন্ত চিলিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪৬। অন্যদিকে মঙ্গলবার থেকে কারফিউ জারি করেছে ইকুয়েডর। এ ছাড়া ৩০ দিনের জন্য নিজেদের মধ্যকার সীমান্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রাজিল ও উরুগুয়ে।

ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্রের চিত্র কভিড-১৯-এ মৃত্যুর তালিকায় শীর্ষে থাকা ইতালিতে দৈনিক মৃতের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। গতকাল দেশটিতে মৃত্যু হয় ৬০১ জনের, যা আগের দিনের চেয়ে ৫০ জন কম। আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে চার হাজার ৭৯০ জন। এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৬৩ হাজার ৯২৮ এবং ছয় হাজার ৭৮ জনে। দৈনিক মৃতের সংখ্যা বেড়ে গেছে স্পেনে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী গতকাল রাত সোয়া ১১টায় দেশটিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩৩ হাজার ৮৯ এবং দুই হাজার ২০৭। এর মধ্যে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৪৩৫ জনের।

ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২৮ হাজার ৮৬৫ এবং ১১৮। ফ্রান্সে এই সংখ্যা যথাক্রমে ১৯ হাজার ৮৫৬ ও ৮৬০। এর মধ্যে রবিবার ফ্রান্সে এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৬৫০ জনে, মারা গেছে ৩৩৫ জন। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা সাত হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৫৬৯ জনে। ৫০৪ জনে দাঁড়িয়েছে মৃতের সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে নিউ ইয়র্কে, ২০ হাজার ৮৭৫ জন।

Sharing is caring!