করোনাভাইরাস: দায়ী কে চীন না যুক্তরাষ্ট্র ?

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ১৭, ২০২০
করোনাভাইরাস: দায়ী কে চীন না যুক্তরাষ্ট্র ?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাসের জন্য দায়ী কে? প্রথমবার মুখ খুলেই বোমা ফাটালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোজাসুজি বলে বসলেন সারা বিশ্বে ত্রাস তৈরি করেছে যে মারণ ভাইরাস সেটা আসলে ‘চাইনিজ করোনাভাইরাস’। ইঙ্গিতটা খুবই স্পষ্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগের তীর চীনের দিকেই, অর্থাৎ চীন থেকেই ছড়িয়েছে এই ভাইরাস।

সোমবার (১৭ মার্চ) রাতে টুইট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বিশ্বে ব্যবসা বাণিজ্যের যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, যেসব শিল্পাঞ্চল, এয়ারলাইন্স ক্ষতিগ্রস্থ আমেরিকা তাদের পূর্ণভাবে সমর্থন করছে। কারণ এইসব কিছুই হয়েছে চীনা ভাইরাসের কারণে।’

দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপ চলছেই। কখনও আমেরিকা দাবি করছে নোভেল করোনাভাইরাস আসলে রাসায়নিক মারণাস্ত্র, ছড়িয়েছে চীন থেকেই, আবার কখনও চীন সোজাসাপটা আঙুল তুলে বলছে মার্কিন সেনাদের থেকেই উহানে ছড়িয়েছিল ভাইরাস। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ানের টুইট থেকেই এই বিতর্ক শুরু হয়। লিজিয়ান দাবি করেছিলেন, মার্কিন সেনারাই উহানে বয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন এই মারণ ভাইরাসের জীবাণু। সেখান তেকেই চীনারা আক্রান্ত হতে শুরু করেন, পরে সেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। লিজিয়ানের কথায়, গত বছর অক্টোবরে উহানে আয়োজিত সপ্তম মিলিটারি ওয়ার্ল্ড গেমে যোগ দিয়েছিলেন আমেরিকার অন্তত ৩০০ জন সেনা অ্যাথলেট। তখনই তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ফ্লু-তে আক্রান্ত হন। পরে কয়েকজনের মৃত্যুও ঘটে। তখন বলা হয়েছিল নিছক জ্বর বা সংক্রামক ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে সেনাদের। পরে জানা যায়, তাঁরা সকলেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।

বাণিজ্য বিরোধে অনেক আগে থেকেই চীন ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের জাত শত্রু। দুই দেশের মধ্যে তীব্র বাক্যবাণে পরস্পরকে জর্জরিত করা, চরম উত্তেজনা কিংবা পিছু হটে ‌’যুদ্ধবিরতি’র নরম সুর- এমন অনেক কিছুই দেখেছে গোটা বিশ্ব। তবে বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস নিয়েও ফের সেই রেষারেষি দেখা গেল চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে চীনের বাইরে করোনাভাইরাসে বেশি মৃত্যুর ঘোষণা আসার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যেকার কথার লড়াই শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এএফপি।

করোনাভাইরাসকে ‘চীনা ভাইরাস’ উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের টুইটকে অনেকেই ট্রাম্পের বর্ণবাদী আচরণ বলেছেন। এছাড়া চীনের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্যের আপত্তিও জানানো হয়।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনরা এত দিন করোনা মহামারিকে ‘চাইনিজ করোনাভাইরাস’ বলে কটাক্ষ করে আসছিলেন। তবে ট্রাম্পের টুইটে প্রথমবারের মতো একে ‘চাইনিজ ভাইরাস’ বলে উল্লেখ করা হয়। এর আগে চীনা নেতারাও করোনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে কটু কথার তীর ছোড়ে।

এদিকে করোনাভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দোষ দিয়ে চীনারা আনুষ্ঠানিকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। তিনি চটে গিয়ে শীর্ষ চীনা কর্মকর্তা ইয়াং জিয়েচিকে ফোন করে এসব বন্ধ করতে বলেছেন।

করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওমিটারস ডট ইনফো’র হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এ ভাইরাসে ৭ হাজার ১৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্ত হয়েছেন সংখ্যা ১ লাখ ৮২ হাজার ৭০০ জন।

চীনে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৮৮১। এরমধ্যে তিন হাজার ২২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চীনের পর সর্বোচ্চ প্রাণহানি হয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ হাজার ৯৮০। এর মধ্যে দুই হাজার ১৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ১৪১টি দেশে। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Sharing is caring!