করোনাঃ আমার দৃষ্টিতে জরুরী কিছু ভাবনা

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৫, ২০২০
করোনাঃ আমার দৃষ্টিতে জরুরী কিছু ভাবনা

এস এম নাজমুস সাকিব: মৃত্যু কার কখন হবে, জানার কোন সুযোগ নেই।  কখন হবে, জানা নেই৷ সেজন্য বেপরোয়া ভাবনায় ডুবে থাকারও কোন সুযোগ নেই৷ এটা নিয়ে চিন্তা করলেও সময় যাবে, না করলেও যাবে। তাই এটুকু কামনা সবার হওয়া চাই,  মৃত্যু যখনই হোক, একটি উত্তম পবিত্র মৃত্যু হোক। চারিদিকে খবর ছড়িয়ে যাক এবং মানুষ আমার জানাজায় আসুক৷ এত পরিমাণে যা আমার ধারণারও বাইরে৷

‘করোনা’ নামক ভাইরাসটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে সারা পৃথিবীতে। অগণিত মানুষ মারা যাচ্ছে প্রতিদিন৷ বাংলাদেশেও এর সংক্রমন শুরু হয়েছে। তিনজন মারা গেছে৷ চৌত্রিশজন আক্রান্ত হয়েছে৷ কিছুদিন পর কতটুকু ভয়াবহ হবে, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন।

সতর্কতা অবলম্বন অবশ্যই করতে হবে। যে ‘সামান’ আমার চারপাশে আছে, সরকার বা বিশেষজ্ঞগন যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছে, সেটা আমাকে মানতেই হবে।

কিন্তু পরিপুর্ন ভরসা একমাত্র রবের উপর রাখতে হবে। সতর্কতা ব্যতিত শুধু আল্লাহর উপর নির্ভর করা ‘তাওয়াক্কুল’ নয়। এখানে অবহেলার সুযোগ থাকছে না। আগে সতর্ক হয়ে চলতে হবে৷ তারপর আল্লাহর দরবারে হাত তুলতে হবে৷

সেই মুনাজাতে যখন আমরা আল্লাহকে কেঁদে কেঁদে ডাকতে থাকবো, আল্লাহ অবশ্যই আমার কথা শুনবেন৷ তবে আমার জন্য যেটা উত্তম, সেটাই ফয়সালা করবেন৷ ভয় শুধু আল্লাহকে করতে হবে৷ কোনভাবেই করোনাকে ভয় করা যাবে না। কারণ ‘করোনা’ আপনাকে আক্রান্ত করলে তিনিই মৃত্যু না দিয়ে বাঁচিয়ে দিতে পারেন৷

একজন বিধর্মী সরাসরি আল্লাহর কথা না বললেও কমপক্ষে আকাশ বা উপরের দিকে ইশারা করছেন। তো কাকে বুঝানো হচ্ছে, তা কিন্তু আপনি-আমি বুঝতে অসুবিধা হচ্ছেনা৷  যিনি সবকিছু থেকে বড়, ক্ষমতাধর, সব কিছুর মালিক এবং পবিত্র, সেই আল্লাহ মহানকেই তো ইঙ্গিত করা হচ্ছে নিঃসন্দেহে!

অথচ মুসলিমদের অনেকেই আল্লাহর পাঠানো এই মহা (গজব) পরীক্ষায় হতাশ হচ্ছেন বা ব্যর্থ হতে যাচ্ছেন। সেটা কিভাবে? এভাবে যে,
#১. আল্লাহর দেওয়া সামান ব্যবহার করা এবং প্রতিনিয়ত খুব খেয়ালের সাথে ব্যবহার করার দ্বারাই মানুষ ভাবছে, এভাবেই সুস্থ হওয়া যাবে করোনার ছোবল থেকে, যদিও সামান ব্যবহারে কোন ক্রুটি তারা করে না। কিন্তু আল্লাহর কাছেও যে বরং বেশি মুহতাজ হতে হবে, সেটা ভাবার প্রয়োজন অনুভব করছে না।
#২. আবার কেউ সামান ব্যবহার করছে। তারপর আল্লাহকে ভয় করে প্রার্থনা করে পানাহ চাইতে হবে, সেটা না করে ‘করোনা’কেই ভয় করছে। বলাবলি করছে, করোনা মোরে ধরলো ধরলো…
#৩. আবার কেউ মৃত্যুর ব্যাপারে ভাবছে যে, মৃত্যু এবার এসেই গেলো মনে হয়, এভাবে তো মৃত্যু চাইনি! তখন এমনভাবে দেখা সাক্ষাত বা যোগাযোগ করে, যেন ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছে মৃত্যু যদি হয়েই যায়! অথচ আল্লাহ তো আছেন এসবের উপর ফায়সালা করার। অবশ্য ক্ষমা চেয়ে রাখা অবশ্যই ভালো গুণ। কিন্তু করোনার কারণে মৃত্যু হবে, এটা কেমন যেন আল্রাহর ফায়সালার উপর নিজের ফায়সালা দাড় করানো। তবে এটা নিজ নিজ নিয়তের উপর নির্ভর।

কিন্তু আমার এসময় উচিত ছিলো আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে বলা, ইয়া রব্ব! এভাবে মৃত্যু দিও না। আমার মৃত্যু যেন আরো সুন্দর হয়৷ যাতে একটি উত্তম পরিবেশ থাকে। সর্বোপরি তুমি যেভাবে ডেকে নিলে আমার নাজাতের উপায় মনে করো, সেভাবেই নিও। তোমার হুকুমের উপর আমার কোন আপত্তি থাকতে পারে না।

শেষ কথা, পবিত্রতার হালতে বা অজু অবস্থায় থাকতে হবে। মৃত্যুর জন্য আন্তরিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ তাওফীক দিন৷

Sharing is caring!