এবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্ত্রী-পুত্র 

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ৩১, ২০২০
এবার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্ত্রী-পুত্র 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পর তার স্ত্রী ও ছেলেরও করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আজ (রোববার) গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আনোয়ারুল হাফিজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৫ মে ডা. জাফরুল্লাহর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে তার প্রতিষ্ঠানের  উদ্ভাবিত র‍্যাপিড ডট ব্লট কিটের পরীক্ষায়। বর্তমানে তিনি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার স্ত্রী শিরীন হক এবং ছেলে বারিশ চৌধুরী বর্তমানে নিজেদের বাসাতেই রয়েছেন। ডা. সৈয়দ আনোয়ারুল হাফিজ জানান, “তার স্ত্রী মোটামুটি ভালো আছেন। বেশ জ্বর আছে। শ্বাসকষ্ট নেই। তার ছেলেও ভালো আছে। তার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু (ছেলে) একটু নার্ভাস। কারণ, বাবা-মা দুই জনই করোনায় আক্রান্ত। নিজেও আক্রান্ত। বাড়িতে তিনি একা কী করবেন। এই চিন্তা থেকেই তিনিও বাবা-মাসহ হাসপাতালে থেকেই চিকিৎসা নিতে চাচ্ছেন।”

এর আগে, আজ দুপুরে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “এখন জ্বর নেই। কাশি আছে, বুকে কফ আটকে আছে। একটু শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। অক্সিজেন নিচ্ছি। মানুষের এই বিপদের দিনে বহু কাজ করতে হবে। অনেক কিছু করা বাকি। কিটের এখনো অনুমোদন হলো না। দোয়া করবেন যেন দ্রুত কাজ শুরু করতে পারি।”

ডা. সৈয়দ আনোয়ারুল হাফিজ আরও বলেন, “এখন তার পরিবার ও আমরা চাচ্ছি হাসপাতালেই তাদের রাখা হোক। আমরা চাচ্ছিলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যেতে। কিন্তু ডা. জাফরুল্লাহ তা চাচ্ছেন না। এটাও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বড় একটা গুণ যে তিনি বলেন, ‘আমি এই হাসপাতাল তৈরি করেছি, আমি এখানেই চিকিৎসা করাবো। যদি মরতে হয়, এখানেই মরব’।”

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্ত্রী শিরীন হক জানান, “অন্য কোনো সমস্যা নেই। জ্বরেই কাবু হয়ে গেছি। বাসাতেই আছি। কিন্তু, বন্ধুরা চাপ দিচ্ছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্যে। এখনো ঠিক করতে পারিনি কী করব।”

প্রসঙ্গত, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিট দিয়ে পরীক্ষায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরপরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) পিসিআর পরীক্ষাতেও তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত এ কিটের সরকারি অনুমোদন পাওয়ার জন্য প্রায় তিনমাস ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে জাফরুল্লাহ চৌধুরী দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

Sharing is caring!