এক হিন্দু যুবকের ঘটনা -ইব্রাহীম খলীল

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৮, ২০২০
এক হিন্দু যুবকের ঘটনা -ইব্রাহীম খলীল

ইব্রাহীম খলীল (ঠাকুরগাঁও): বড় সড় একটি মন্দির৷ মোবাইলের বাটন চাপতে চাপতে মন্দিরের বারান্দায় গিয়ে বসে পড়লাম৷ যেন আনমনা৷ মন্দিরের ভেতরে তাকালাম৷ একজন আধবয়সি মহিলা ও একটি
যুবক পূজা-অর্চনায় মগ্ন৷

যুবকটির দিকে অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে
তাকাতেই ব্যতিব্যস্ত হয়ে ছুটে এলো৷ এমন
জুব্বা-পাগড়ীওয়ালা কাউকে হয়তো সে এর
আগে কখনো এভাবে মন্দিরে আসতে
দেখেনি৷

এসেই বলল “হুজুর! আদাব”৷
বললাম, ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻋﻠﻰ ﻣﻦ ﺍﻟﺘﺒﻊ ﺍﻟﻬﺪﻯ (শান্তি বর্ষিত হোক ঐ ব্যক্তির উপর যে সঠিক পথ অনুস্বরণ করে- ত্বাহা: 20:47)
_হুজুর!কি মনে করে এলেন?
_যদি কিছু মনে না করেন তবে আপনার
সাথে কিছু কথা ছিল৷ বলবো? একটু সময়
দেবেন?
_হ্যা হ্যা৷ অবশ্যই৷ কেন বলবেন না? বলুন!
_আসলে ভাই দেখুন! আমাদের সমাজে একটি ভুল বোঝাবোঝি আছে৷ আর তা হলো,আমরা মুসলমানরা হিন্দু ভাইদের দেখলে নাক ছিটাই৷ আবার হিন্দুরা মুলমানদের দেখলে নাক ছিটায়৷ আপনি হয়তো এমন নন৷ অনেকেই এমন৷ এটা আসলে ভালো নয়৷ ঠিক কিনা ভাই?
_হ্যা হ্যা৷ আপনি সত্য কথা বলেছেন!
_আসলে ভাই! আপনার কপালে লেখা নেই
হিন্দু৷ আমার কপালে লেখা নেই মুসলমান৷ আপনার আমার আদি পিতা আদম (আ:) এবং আমাদের আদি মাতা হাওয়া (আ:)৷
সেই সূত্রে আমরা পরস্পর ভাই ভাই৷ ঠিক
কিনা ভাই?

এতক্ষণে তার হাত ধরে কথা বলতে বলতে
মন্দির হতে একটু দুরে নিয়ে
গেলাম৷ সেখানে আরো কিছু হিন্দু যুবক
একত্র হলো৷ তাদের সাথে কুশল বিনিময়
করে আবার কথা বলা শুরু করলাম৷
_দেখুন!আপনার হাতেও পাঁচটি আঙ্গুল৷  আমার হাতেও পাঁচটি আঙ্গুল৷ আপনার কোথাও কাটলে যেমন লাল রক্ত বের হবে, আমার শরীরে কোথাও কাটলেও লাল রক্তই বের হবে৷ তাহলে বোঝা গেল,আপনার আমার স্রষ্টা একই জন৷ ঠিক কিনা?
_হ্যা,তাইতো!
(এভাবে একত্ত্ববাদের আলোচনা শুরু হলো)

_স্রষ্টা বা মালিক যে একজন এ ব্যাপারে
মালিক স্বয়ং তার গ্রন্থে বলেছেন
ﻭﺍﻟﻬﻨﺎ ﻭﺍﻟﻬﻜﻢ ﻭﺍﺣﺪ ﻭﻧﺤﻦ ﻟﻪ ﻣﺴﻠﻤﻮﻥ
অর্থাত “আমাদের উপাস্য ও তোমাদের
উপাস্য একই এবং আমরা তারই
আত্নসমর্পণকারী” (আনকাবুত:29:46)
অন্য স্থানে বলেছেন,
ﻗﻞ ﻫﻮﺍﻟﻠﻪ ﺍﺣﺪ
বলুন! মালিক(হিন্দু ভাইদের পরিভাষা
অনুযায়ী) এক৷ (সুরা ইখলাস, ১)৷
এবার আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে
যে,এটাতো মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থের
কথা৷ সেখানে থাকতেই পারে৷ তাহলে শুনুন এ ব্যাপারে আপনাদের ধর্মীয় গ্রন্থে কি রয়েছে৷ আপনাদের ধর্মীয় গ্রন্থ ‘বেদে’ রয়েছে, “একং ব্রম্ম দ্বিতীয়ং নাস্তি,নেহনা
নাস্তি কিঞ্চন”
অর্থ: পরমেশ্বর এক৷ তিনি ব্যতিত কেহ নেই৷
(ঋগবেদ,কট উপনিষদ 2:1:11, কল্কি অবতার এবং মুহাম্মদ সাহেব- পৃষ্টা:57)

অন্য স্থানে আছে, “একো হো দেবো মানসি প্রবিষ্ট”
অর্থ: সে ইশ্বর এক যে ইশ্বর সকলের
অন্তরে প্রবেশ করিয়া মনের কথা জানেন”( অথর্ব বেদ)

এ ব্যাপারে মালিক তার প্রদত্ত মহাগ্রন্থ কুরআনে বলেনঃ
ﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﻓﻴﻬﻤﺎ ﺃﻟﻬﺔ ﺍﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻔﺴﺪﺗﺎ
অর্থ: আসমান ও যমীনে যদি একাধিক মালিক থাকতো তবে আসমান ও যমীন ধ্বংস হয়ে যেত৷

আর মানবিক দৃষ্টিতে যদি আমরা একটু চিন্তা করি তাহলেও বুঝতে পারবো যে,আসলেই মালিক একাধিক হওয়া অসম্ভব! এক মালিক চাইবে আজ সূ্র্য পূর্বে উদয় হয়ে
পশ্চিমে অস্ত যাবে৷ আরেক মালিক চাইবে না আজ পশ্চিমে উদয় হয়ে পূর্বে অস্ত যাবে৷
কাজেই আমাদের এক মালিকের পূজা অর্চনা ও উপাসনা করা উচিত৷

এ ব্যাপারে মালিক আরো বলেছেনঃ
ﻳﺎ ﺍﻳﻬﺎ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺍﻋﺒﺪﻭﺍﺭﺑﻜﻢ ﺍﻟﺬﻱ ﺧﻠﻜﻘﻢ ﻭﺍﻟﺬﻳﻦ ﻣﻦ ﻗﺒﻠﻜﻢ ﻟﻌﻠﻜﻢ ﺗﺘﻘﻮﻥ .ﺍﻟﺬﻱ ﺟﻌﻞ ﻟﻜﻢ ﺍﻻﺭﺽ ﻓﺮﺍﺷﺎ ﻭﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺑﻨﺎﺀ ﻭﺍﻧﺰﻝ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﻣﺎﺀ ﻓﺎﺧﺮﺥ ﺑﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺜﻤﺮﺍﺕ ﺭﺯﻗﺎﻟﻜﻢ ﻓﻼ ﺗﺠﻌﻠﻮﺍ ﻟﻠﻪ ﺍﻧﺪﺍﺩﺍﻭﺍﻧﺘﻢ ﺗﻌﻠﻤﻮﻥ
অর্থ: হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালকের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে সৃষ্টি করেছেন৷ যাতে তোমরা মালিককে ভয় কর৷ যিনি তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা বনিয়েছেন এবং আকাশকে ছাদ বানিয়েছেন৷ আর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন৷ তারপর তোমাদের জীবিকারূপে ফল-ফলাদি উদগত
করেছেন৷ সুতরাং তোমরা আল্লাহর বা মালিকের কোন শরীক বা অংশিদার
করোনা৷ (এসব বিষয়ে) জেনে শুনে৷ (সূরা বাকারা: 21,22)

এই বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে একটি উদাহরনের মাধ্যমে৷ ধরুন! আপনি আর আমি দাড়িয়ে আছি৷ এমন সময় আপনার ছোট্ট ছেলেটি এসে আমাকে আব্বু বলে ডাকলো৷ তখন কি আপনার খারাপ লাগবেনা? অবশ্যই লাগবে! অথচ আপনি তাকে সৃষ্টি করেননি৷
আর যিনি সৃষ্টি করেছেন তাঁকে বাদ দিয়ে যদি আমরা অন্য কাউকে মালিক বলে ডাকি তাহলে কি রাগ করবেন না? অবশ্যই রাগ করবেন৷

(চলবে….)

Sharing is caring!