এক কাক ডাকা ভোর এলো দেশটিতে…

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত এপ্রিল ১৭, ২০২০
এক কাক ডাকা ভোর এলো দেশটিতে…
  • নির্বাহী সম্পাদক

এক দেশে মহামারী দেখা দিলো। বাঁচার জন্যে মানুষের দিগ্বিদিক সে কি ছুটোছুটি! চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

একদিন খবর এলো, মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে বড় এক ডাক্তার আক্রান্ত। এমন এক সময়ে তিনি আক্রান্ত, যখন সারা দেশে স্বাস্থ্যকর্মীরা নানা সংকটের কথা তুলে ধরছিলেন। এমনকি ওই ডাক্তারও প্রয়োজনীয় সুরক্ষার আওতায় ছিলেন না।

ওই ডাক্তার ছিলেন এক মফস্বল শহরে। সেখানেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া শুরু হলো। ডাক্তার আক্রান্তের খবর খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লো সারা দেশে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়লো। এই অবস্থায় কী করে তারা মানুষের জীবন বাঁচাবেন! তারা তো নিজেরাই সুরক্ষিত নন!

আক্রান্ত ডাক্তারের অবস্থার অবনতি হতে লাগলো। কেন্দ্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঠানো হলো এয়ার অ্যাম্বুলেন্স। তাকে আনা হলো কেন্দ্রীয় হাসপাতালে। তার চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা শুরু করলো রাষ্ট্র।

সারা দেশ প্রার্থনায় মগ্ন, এই ডাক্তারকে বাঁচিয়ে দাও হে পরওয়ারদিগার। দেশের সমস্ত ডাক্তারদের নিয়ে হইচই পড়ে গেলো। তাদের যাবতীয় সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি উঠতে লাগলো সব পর্যায় থেকে। পাড়ার চা দোকানদার থেকে গলির নেশাগ্রস্ত ছেলেটি, সবাই কথা বলতে শুরু করলো।

এই জনজাগরণে চাঙা হতে শুরু করলো স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবল। তারা ঘুরে দাঁড়াবার আশা পেতে লাগলো। একইসঙ্গে তারা অপেক্ষায় থাকলেন সহযোদ্ধার প্রত্যাবর্তনের আশায়।

তারপর এক কাকডাকা ভোর এলো দেশটিতে………

হঠাৎ খবর এলো, মানুষ বাঁচানোর যুদ্ধে নামা এক যোদ্ধার চিরবিদায়! মানবজাতিকে রক্ষা করতে গিয়ে আত্মত্যাগ করলেন এক বীর।

এই বীরের মৃত্যুর খবরে সারা দেশে নেমে এলো শোকের ছায়া। অব্যক্ত আর্তনাদ সবার চেহারায়। গগনবিদারী আহাজারি হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে। চিকিৎসকেরা কাঁদছেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা কাঁদছেন।

এই শোক তাদের মনোবল আরও চাঙা করে তুললো। সহযোদ্ধার মৃত্যু তাদের করে তুললো আরও প্রত্যয়ী। আর যা-ই হোক, তারা অন্তত এই বলে সান্ত্বনা খুঁজতে লাগলেন যে, তাদের সহযোদ্ধার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে রাষ্ট্র। মানবজাতিকে বাঁচানোর যুদ্ধে তারাও যদি আক্রান্ত হন, রাষ্ট্র তাদেরও পাশে দাঁড়াবে। এই ভাবনায় তারা সব সংকট ভুলে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। চলতে থাকলো তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা…

আমরাও এখন লড়ছি এক মহামারীর বিরুদ্ধে। এ লড়াইয়ে নিভে গেছে এক বীর চিকিৎসকের প্রাণ। তার নাম মঈন উদ্দিন। অথচ ডা. মঈনকে ঘিরেই আবর্তিত হতে পারতো বাংলাদেশের করোনাজয়ের অনন্য গল্প।

কিন্তু আমাদের গল্পটি একেবারেই উল্টো। রাষ্ট্রের দেওয়া পিপিই সংকুলান না হওয়ায় সুরক্ষা ছাড়াই মানবজাতিকে বাঁচানোর যুদ্ধে নেমে পড়েন তিনি। এমনকি আক্রান্ত হয়ে পড়লে সিলেট থেকে ঢাকায় আসার জন্য উনি রাষ্ট্রের কোনো সহায়তাই পাননি। ডা. মঈনের মৃত্যু ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে এ দেশের লাখো যোদ্ধার মনোবল। ভাঙা মনোবল নিয়ে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীরা লড়াই শুরুর আগেই পরাজিত হয়ে যাচ্ছেন!

এ দায় কার, হে রাষ্ট্র?

Sharing is caring!