একুশে ফেব্রুয়ারী; কিছু ভাবনা…-হাবীবুল্লাহ মোখতার

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০
একুশে ফেব্রুয়ারী; কিছু ভাবনা…-হাবীবুল্লাহ মোখতার

সম্পাদকীয়: আমি ইসলাম, দেশ ও জাতীয় চেতনা লালন করি৷ আমি মনে করি, মুসলিম হিসেবে আল্লাহর আইন আমার শিরোধার্য৷ আবার নাগরিক হিসেবে দেশের আইন মানা আমার কর্তব্য৷ আমি এমন সমাজ ও পরিবেশ চাই, যেখানে ইসলাম ও দেশীয় আইন সামঞ্জস্যপুর্ন৷ যদি দেশীয় কোন আইন ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে আল্লাহর আইন গ্রহনযোগ্য৷ মানবরচিত আইন পরিত্যাজ্য৷ ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারী ঢাকার বুকে বাংলা ভাষার জন্য যারা জিবন দিয়েছেন, তাদের জন্য দোয়া করি, আল্লাহ তাদের সব ভুল ক্ষমা করে জান্নাত নসীব করুন৷ ঠিক যে জায়গায় তারা জিবন দিলেন, সেখানে পরবর্তিতে শহীদ মিনার নামে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা হয়েছে৷ তার আদলে সারাদেশে শহিদ মিনার আছে৷ প্রতি বছর বিভিন্ন দিবসে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়৷ প্রশ্ন হচ্ছে, কেন ফুল দেয়া হয়? কোন নিয়তে দেয়া হয়? এর দ্বারা লাভটা কী? উত্তরে হয়তো বিভিন্ন যুক্তি আসবে৷ কিন্তু সব যুক্তি বাদ দিয়ে যদি প্রশ্ন করা হয়, ইসলাম কী এইকাজ সমর্থন করে? উত্তর হবে “না”৷ হিন্দুরা মুর্তির সামনে ফুল রেখে আল্লাহকে স্মরন করে৷ এটা শিরক৷ আর ইসলাম আল্লাহর সাথে শিরককে সমর্থন করেনা৷ ইসলামে আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক সরাসরি৷ কোন মধ্যস্ততা গ্রহনযোগ্য নয়৷ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মরন করা, ইসলামী রীতি পরিপন্থি৷ এর দ্বারা শহীদদের কোন লাভ হয়না৷ আর আল্লাহ বলেন, “আল্লাহর নিকট ইসলামই একমাত্র জিবনবিধান”৷ তাছাড়া দিবস উদযাপনের নামে নাচ, গান, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, অযথা টাকা নষ্ট, সময় নষ্ট, ইবাদতে বিঘ্নতা ইত্যাদী কারনে প্রচলিত পদ্ধতিতে দিবস পালন ইসলাম কোনোভাবেই সমর্থন করেনা৷ এক্ষেত্রে প্রানপ্রিয় সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচীগুলো খুবই সোন্দর ও ইসলাম সমর্থিত৷ শহীদ পরিবারের সাথে স্বাক্ষাত, শহীদদের জন্য ক্বোরআন খতম ও দোয়া, কবর যেয়ারত- এসব কর্মসূচীগুলো যুগোপযুগী, ইসলাম সমর্থিত৷ আমাদের সমাজে এসব রীতি চালু হওয়া দরকার এবং ইসলাম বিরোধী নীতিগুলো বিলুপ্ত হওয়া দরকার৷

  • লেখক:-
  • ব্যবস্থাপনা পরিচালক
  • আওয়ার বাংলাদেশ ২৪.কম

Sharing is caring!