একটি সন্ধা: সাইয়াদুর রহমান

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৯, ২০২০
একটি সন্ধা: সাইয়াদুর রহমান

প্রবন্ধ: সদ্য ঝেকে বসা অন্ধকার ভেদ করে প্রাণপণে ছুটে চলছি সম্মুখপানে। দুই মিনিট পরে রাস্তার ধারে দাদুকে দেখতে পেলাম। গন্তব্য আদর্শ বাজার। রাস্তায় বিভিন্ন আলাপচারিতার মধ্যে কখন যে বাজারে এসে গেছি টেরই পেলা‌ম না।

কাল আমাদের মসজিদের আয়োজনে দ্বিতীয় বাৎসরিক তাফসীরুল কুরআন মাহফিল। তাই,দাদু আমাকে নিয়ে বাজার করতে এসেছে। দাদুর রিটার্ন হওয়ার প্রায় ১০ বছর হয়ে গেলো। বয়সও কম হইনি। তবুও তিনি এখনো আগের মতোই সতেজ। ভাবটা এমন যেনো এখনো তিনি সুস্থ-সবল।

যাইহোক, আমরা বাজারে প্রবেশ করি। প্রথমে যাই মুদি দোকানে। পর্যায়ক্রমে চিনি, মুড়ি, বিস্কিট, চানাচুর ক্রয় করি। খুচরা খরচপাতি আরকি। অতঃপর যাই ময়রার দোকানে। গ্রামের ঐতিহ্যবাহী গুড়ের জিলাপি ক্রয় করি। এবং দুইজনে ভাগাভাগি করে খাই। দাদুর ডায়াবেটিস। কিন্তু মিস্টির প্রতি অন্যরকম একটা আকর্ষণ তার। দাদীর অগোচরে কত যে মিস্টি খেয়ে সাবার করে তার অন্ত নেই। জিলাপি খাওয়া শেষে দাদু ডাল-পুরি অর্ডার করে। এগুলোও ভাগাভাগী করে। ভাগাভাগি করে খাওয়ার মজাই আলাদা।

সবশেষে দাদু চা চাইলেন‌ দোকানীর কাছে। চা পান করছিলাম আর একটা বিষয় ভাবছিলাম। সেটা হলো, গ্রামের ময়রার দোকান বলেন আর চায়ের দোকানই বলেন সন্ধাবেলায় এতে যেমনটা হয় সন্ধাবেলায় এমনটা শহরের কোনো ফাইভ‌ স্টার হোটেলেও হয়না।‌ চা পান শেষে বেড়িয়ে পরলাম দোকান থেকে। এরপর ঔষধের ‌দোকানে যাই। দাদুর কিছু ঔষধ কেনার ছিলো। বাজারে বেশ কয়েকটি ঔষধের দোকান আছে। যে দোকানে যাই কাঙ্খিত ঔষধ সেখানে ছিলোনা।

তাই, বাজারের পূর্বমাথায় অবস্থিত আতাউর চাচার দোকান থেকে ঔষধ‌ কিনি। দাদুর পরিচিত কাছের কয়েকজনের‌ সঙ্গে দেখা হলো। দাদু তাদের‌ প্রত্যেকের সাথে আমার‌ পরিচয় করিয়ে দেন। যদিও আগে থেকেই আমি‌ তাদেরকে ‌চিনি তথাপি এবারের‌ পরিচয়টা হলো দাদুর নাতি হিসেবে। একজনকে‌ দাদু রসিকতার সাথে বললো, “নাতির‌‌‌ এখনই বউ দেখার দরকার নাই”। শ্রোতা অনেক হাসলেন দাদুর কথায় সঙ্গে আমিও।

এখন বাড়ি ফেরার পালা। দাদু বললেন এবার অটোতে ফিরবো। কিন্তু অটো আসতেছিলো না। তাই অপেক্ষা করতেছিলা‌ম। একটু পরে একটা ভ্যানগাড়ি আসে। দাদু ভ্যানটি থামায় এবং ভ্যানে উঠে পড়ে সঙ্গে আমিও। দুইদিকে দুইজন উঠে সামনে পা দুলিয়ে বসি। ভ্যানে উঠে নানু বাড়ির ওইদিকের ভ্যানগুলোর কথা মনে পড়ে গেলো। খোলাহাটির ওইদিকের সব ভ্যানে যাত্রি বসে ঠিক একই কায়দায়। ভ্যানওয়ালা ভ্যান টানছিলো দূরন্ত গতিতে। দেখতে দেখতে বাড়ির সামনে এসে পরি। ভাড়া মিটিয়ে নেমে পড়ি। শেষ হয় আমাদের সন্ধা যাত্রা।

 

লেখক:-

সাইয়াদুর রহমান

তরুণ কবি, লেখক ও সাহিত্যিক

শিক্ষার্থী: দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা ডেমরা, ঢাকা।

Sharing is caring!