ঈদে ভাই-বোনকে কাপড় দিতে না পারায় নববধূর আত্মহত্যা

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ২৬, ২০২০
ঈদে ভাই-বোনকে কাপড় দিতে না পারায় নববধূর আত্মহত্যা

আলমগীর ইসলামাবাদী
(চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি):
দুই বছরের ভাই ও তিনবছরের বোনকে এবার ঈদে জামা উপহার দিতে চেয়েছিলেন বড় বোন জেসমিন আক্তার। জেসমিনের বিয়ে হয়েছে এক মাস আগে। টানাপোড়েনের সংসার হলেও ঈদকে সামনে রেখে স্বামী জিয়াউর রহমানের কাছে নববধূ জেসমিনের চাওয়া ছিল তার দুই ভাই-বোনসহ নিজের কাপড়। কিন্তু স্বামী জিয়াউর নববধূ জেসমিনকে ঈদের শাড়ি কিনে দিলেও অভাবের কারণে নববধূর চাওয়া পূরণ করতে পারেন নি।

এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। আর এটাই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায় ওই পরিবারের। রাগে-অভিমানে স্বামীর দেওয়া ঈদের নতুন শাড়ির আঁচল গলায় পেঁচিয়ে নববধূ জেসমিন আকতার শোয়ার ঘরে (১৯) ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ হাঈদগাঁও এলাকার গুচ্ছ গ্রামের ভাড়া বাসায় সোমবার মর্মস্পর্শী এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেকে পাঠিয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১ মাস আগে কক্সবাজার জেলার জিয়াউর রহমানের সাথে পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের সুমনের মেয়ে জেসমিন আকতারের বিয়ে হয়। জিয়াউর পটিয়াতে দিনমজুরের কাজ করায় ভাড়া বাসা নিয়ে থাকেন হাঈদগাঁও গ্রামে।

প্রতিদিন হাড়ভাঙা দিনমজুরের কাজ করে নববধূকে নিয়ে মোটামুটি সচ্ছলভাবেই দিন কাটছিল জিয়াউরের। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দিনমজুরের কাজ না পাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়তে হয় জিয়াউরকে। ফলে কিছুটা বেকায়দায় পড়েন তিনি।

পটিয়া থানার এসআই নুরুল আমিন বলেন, শোয়ার ঘরের কক্ষ থেকে গলায় নতুন শাড়ির আঁচল প্যাচানো অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চমেকে পাঠানো হয়েছে। স্ত্রীর ইচ্ছা ছিল তার ছোট ভাই-বোনকে ঈদের কাপড় কিনে দেওয়ার। কিন্তু স্বামী ইচ্ছা পূরণ না করাতে স্বামীর প্রতি অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে। থানায় অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

Sharing is caring!