ইয়েমেন সংকটের হালচাল

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত অক্টোবর ৯, ২০১৯
ইয়েমেন সংকটের হালচাল

ইয়েমেন সংকটের শুরু মুলতঃ আরব বসন্তের মধ্য দিয়ে৷ ২০১১ সালে শিয়া সমর্থিত দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট আবু আব্দুল্লাহ সালেহকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়৷ তিনি তার ডেপুটি সুন্নি সমর্থিত মনসুর হাদীর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন৷ প্রেসিডেন্ট হাদী ক্ষমতা গ্রহনের পর তার বিরুদ্ধে শিয়া দমননীতি গ্রহনের অভিযোগ তুলে শিয়া হুতি বিদ্রোহীরা আন্দোলন শুরু করে৷ মুলতঃ সেনাবাহিনীর বহু পদস্থ কর্মকর্তা ছিলো সালেহ এর সমর্থক৷ তারাও আন্দোলনে যোগ দেয়৷ আন্দোলন এক পর্যায়ে সশস্ত্র যুদ্ধে রুপ নেয়৷ বিদ্রোহীরা প্রথম সাডা প্রদেশ দখলে নেয়৷ তারপর আস্তে আস্তে তারা রাজধানী সানা ও দখলে নিতে সক্ষম হয়৷ বর্তমানে ইয়েমেনের প্রায় ৮০% এলাকার নিয়ন্ত্রন হুতিদের হাতে৷ ২০১৫ সালে হুথিরা সালেহ সমর্থিত সরকার গঠন করে রাজধানী সানায়৷ এদিকে হাদী পালিয়ে এডেনে গিয়ে এডেনকে তার রাজধানী ঘোষনা করে৷ এদিকে, ইরান ইয়েমেনে হুথিদের সাহায্যের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টা করছে, এমন অভিযোগ এনে সৌদি আরবের নেতৃত্বে আটটি সুন্নি রাষ্ট্রের সমন্ময়ে গঠিত ‘আরব জোট’ ইয়েমেনে হামলা শুরু করে৷ ২০১৬ সালে শুরু করা এ হামলায় সহায়তা দিচ্ছে বিশ্ব সন্ত্রাসের মুলহোতা আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্স৷ জাতিসংঘের ধারনা অনুযায়ি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এ যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে৷ যার ৬৫% বেসামরিক লোক৷ ৩০% নারী ও শিশু৷ আকাশ, স্থল ও নৌপথে সৌদি জোট কর্তৃক অবরোধ আরোপের ফলে সেখানে মারাত্বক ‘দুর্ভিক্ষ’ দেখা দিয়েছে৷ কলেরা রোগ মহামারি আকার ধারন করেছে৷ মানুষ গাছের পাতা ও ছাল সিদ্ধ করে খেয়ে জিবনধারনের চেষ্টা করছে৷ দুর্ভিক্ষের কারনে সেখানকার ৪ লাখ শিশু মৃত্যু ঝুকিতে রয়েছে৷ সৌদি জোট প্রতিদিন ইয়েমেনে বিমান হামলা চালাচ্ছে৷ জবাবে হুতী বিদ্রোহীরা ড্রোন হামলা চালাচ্ছে৷ গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়৷ যার প্রভাবে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়৷ সৌদি আরবের দাবি, ইয়েমেনের হুতিরা ইরানের সহায়তায় এ হামলা চালিয়েছে৷ ইরান এ অভিযোগ অস্বিকার করেছে৷ সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, গত মাসে তাদের কাছে কয়েক হাজার সৌদি সৈন্য আত্মসমর্পন করেছে৷ বহু সৈন্য নিহত হয়েছে৷ সৌদি আরব এ বিষয়ে এখনো মুখ খুলেনি৷ মুলতঃ ইয়েমেনে চলছে পশ্চিমা বিশ্বের ‘মুসলিম নিধন ও মুসলিম দেশ ধ্বংসে’র নীলনকশার বাস্তবায়ন৷ পশ্চিমা মদদপুষ্ট “আরব জোট” সেখানে হত্যাকান্ড চালাচ্ছে৷ জাতিসংঘ এ সংকট মোকাবেলায় কার্যকরি কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা৷ ইয়েমেন সংকটে মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষে পাশ হওয়া সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে সরাসরি ভেটো দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ ইরাক, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, সিরিয়াসহ সারা বিশ্বে মুসলিম দেশগুলোর উপর হামলা ও হত্যাযজ্ঞ চালানোর মুলহোতা আমেরিকা, ইউরোপ, চীন, রাশিয়া ইয়েমেন সংকটে সরাসরি মদদ দিয়ে যাচ্ছে৷ আর মুসলিম দেশের প্রধানরা তাদের গোলামী করে ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে আছে৷

লেখকঃ

মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ

বিশিষ্ঠ লেখক ও সংগঠক,

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক

আওয়ারবাংলাদেশ24.কম

Sharing is caring!