ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি যাকাত, দারিদ্র বিমোচনের প্রধান হাতিয়ার

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মে ৭, ২০২০
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি যাকাত, দারিদ্র বিমোচনের প্রধান হাতিয়ার

মুফতী ইয়াছিন বিন আহমদ:

আল্লাহ তায়ালার ফরজ বিধান সমুহের মধ্যে একটি হলো যাকাত। আল কুরআনে আল্লাহ পাক বিরাশি বার সালাতের পাশাপাশি যাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া একজন পুরিপূর্ণ ঈমানদারের গুনাবলী প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, “তারা সালাত কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে”৷

রাসুল সাঃ যাকাতকে ইসলামের অন্যতম ‘রুকন’ বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “ইসলাম হলো এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, হজ্ব আদায় করা এবং রমযানে রোজা রাখা৷”
(বোখারী, মুসলিম)

ইসলামের ইতিহাসে সালাতের উপর আমল এক ওয়াক্তের জন্যও বন্ধ হয়নি, তদ্রূপ যাকাতের উপর আমলও নিয়মিত চলে আসছে শতাব্দীর পর শতাব্দী। সালাত ও যাকাত কে আল্লাহ তায়ালা ইমানের পূর্ণাঙ্গতা, আল্লাহর আনুগত্য, মুসলমানদের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধের আলামত আখ্যায়িত করে ইরশাদ করেছেন, “যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও৷ নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক ক্ষমাশীল, দয়াময়”। (সুরা তাওবা:৫)

যাকাত দিতে হবে কেন?

যাকাত ফরজ হওয়ার পর তা আদায় না করলে ফরজ ছেড়ে দেওয়ার গুনাহ হবে। যদি অস্বীকার করে,তাহলে সে কাফির হয়ে যাবে। কারণ যাকাত ইসলামের মৌলিক স্তম্ভের একটি। আর ইসলামের স্তম্ভসমুহ অস্বিকারকারী নিঃসন্দেহে কাফের। তবে ফরজ জেনেও যদি আদায় না করে তাহলে উক্ত ব্যক্তি কাফির না হলেও ফাসেক বলে সাভ্যস্ত হবে,
সুত্র: দুররে মুহতার 2/224, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া 1/179, তাতার খানিয়া 2/237, হেদায়া 1/196, মাবছুত 1/191

কি পরিমাণ মাল থাকলে যাকাত ওয়াজিব হবে:

যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় খরচ ছাড়া সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা বা সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মালিক হলে বা এর সমমূল্যের অর্থ যা বাংলাদেশী টাকায় রুপার বর্তমান বাজার দর হিসেবে ৬৩০০০ টাকা আর স্বর্ণের বর্তমান বাজার দর হিসেবে ৩৭০০০ টাকার মালিক হলে অথবা এই দুটো মিলে যদি রুপার নেসাবের মালিক হয় তার উপর যাকাত ফরজ হবে ৷ এমনি ভাবে পরিমাণ মূল্যের ব্যবসায়িক পন্যের মালিক হলে, তার উপরও যাকাত ফরজ হবে।

যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত:

১/ স্বাধীন হওয়া ৷
২/মুসলমান হওয়া। (কাফেরদের থেকে যাকাত তলব করা হবেনা)
৩/ আকলমন্দ তথা জ্ঞানী হওয়া। (পাগলের উপর যাকাত ফরজ নয়)
4/প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। (শিশুদের উপর যাকাত ফরজ নয়) সুত্র: ফতুয়ায়ে আলমগীরি 1/172

যাকাতের পরিমাণ:

যাকাতের পরিমান হলো পুরো সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ অর্থাৎ প্রতি হাজারে পঁচিশ টাকা, এক লাখে আড়াই হাজার টাকা করে যাকাত দিতে হবে।

কোন ধরনের সম্পদে যাকাত ওয়াজিব নয়:

নিম্নোক্ত সম্পদ ও আসবাব পত্রের উপর যাকাত ওয়াজিব হয় না৷ এগুলোর মুল্য যতই হোকনা কেন৷
১/ বসবাসের ঘর৷
২/ব্যবহারযোগ্য জিনিস৷ যেমন কাপড়, চাদর ও বিছানা ইত্যাদি।
৩/ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাব পত্র (ফ্রিজ, কুলার, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি)।
৪/ যানবাহন (গাড়ি, মোটরসাইকেল, বাই সাইকেল ইত্যাদি)।
৫/ আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে রাখা হাতিয়ার।
৬/ঘরের পানাহার পাত্র।
৭/ সাজসজ্জার পাত্র।
১০/হীরা, মনি, মুক্তা।
১১/ অধ্যয়নের কিতাব।
১২/শিল্প কারখানার হাতিয়ার ও মেশিন, কারখানা, ফ্যাক্টরিতে ভাড়ায় চালিত বাস ও ট্রাক, কৃষকদের ট্রাক্টর ও চাষাবাদের যন্ত্রপাতি ইত্যাদি। সুত্র: ফতুয়ায়ে আলমগীরি 1/172

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে যাকাতের মাসয়ালা বুঝে যাকাত আদায় করার তাওফিক দান করুন৷ আমিন৷

লেখক
শিক্ষা সচিব, মদিনাতুল উলুম কারিমিয়া মাদরাসা, ফেনী।

Sharing is caring!