ইসলামের দৃষ্টিতে গুজব

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ২৯, ২০২০
ইসলামের দৃষ্টিতে গুজব

শাহ্ মুহাঃ আব্দুল্লাহ: রাত ১২ টার পর কেউ যদি আপনার আরামের ঘুম সাঙ্গ করে কালোজিরা ও গুল মরিচের তিক্ত বিস্বাদ চা পান করায় তাহলে কেমন হবে? অথবা ফজরের আগে জোর করে গোটা তিনেক কাঁচা থানকুনি পাতা খাওয়ানো টা সত্যিই বিদঘুটে ব্যাপার না?

দুঃখজনক হলেও সত্যি, বর্তমানে এরকম সহ নানান অপৃতিকর ঘটনা গুজবের কারনে ঘটছে। একদল স্বার্থবাদী দল সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ছড়াচ্ছে এরকম কিছু গুজব যার কাঙ্খিত উপকারীতা শূন্যের কোঠায়, এমনকি বাহ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনেকেই।

শান্তির ধর্ম ইসলামে গুজব রটনাকারী ও যারা প্রচার করে উভয়কেই নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কাছে যদি কোনো ফাসেক ব্যক্তি কোনো সংবাদ নিয়ে আসে তাহলে তোমরা তা যাচাই বাছাই করে দেখবে, যেন অজ্ঞতা বশত কোনো সম্প্রদায়কে ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও। (সুরা হুজরাত-৬)

অর্থাৎ কোনো সংবাদ দেখলে বা শুনলেই তা যাচাই বাছাই ছাড়া বিশ্বাস করা অনুচিত। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেছেন- “যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নাই, তার অনুসরণ করোনা। নিশ্চয়ই কান, চোখ, অন্তর এগুলো সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।” (বনি ইসরাইল_৩৬)
অর্থাৎ, কোনো তথ্য সঠিক ভাবে না জেনে তার অনুসরণ করা কোরআন পরিপন্থী।

সমাজের কেউ গুজব সমর্থন করে না। এমনকি আইনের দৃষ্টিতেও গুজব রটনা অপরাধের কাজ। অনেকের মধ্যে দেখা যায়, তারা প্রচারিত কোনো সংবাদ নিজের মতের অনুকূলে হলে তা যাচাই বাছাই এর প্রয়োজন বোধ করে না। পাওয়া মাত্রই প্রচার শুরু করে। ইসলাম এই প্রবণতা পরিহারের নির্দেশ দিয়েছে। গুজব প্রচারকারী কে হাদীসে পাপী ও মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সব শোনা কথা যাচাই বাছাই ছাড়া বলা মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট”৷ (আবু দাউদ-৪৯৯২)
হাদীস বিশারদ গন এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, কোনো কথা শুনেই প্রচারের প্রবনতা মানুষকে মিথ্যায় লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়।

বর্তমানে যাচাই বাছাই ছাড়া কথা বলা ও প্রচার অহরহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মানুষের মধ্যে গুজব প্রচারই হলো ভয়ংকর তম মিথ্যা।” (মুসলিম-১৯৭২)

মিথ্যা সকল ধরনের পাপের মুল। আর মিথ্যা মানুষকে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করে। তাই সবার উচিত গুজব রটনা ও প্রচার পরিহার করা। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বা যেকোনো উপায়ে গুজব বা বিভ্রান্তকর কোনো তথ্য ছড়িয়ে পড়লে মুসলমানদের উচিত তাতে আক্রান্ত না হওয়া এবং তা প্রচারে সহযোগিতা না করা বরং যথাযথ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা নিয়ে তা সমাধানের চেষ্টা করা।

 

লেখক:-শাহ্ মুহাঃ আব্দুল্লাহ

তরুণ কবি ও লেখক

শিক্ষার্থী: দারুন নাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, ডেমরা,ঢাকা।

Sharing is caring!