ইসলামের উদারতা

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯
ইসলামের উদারতা

মুহাম্মদ আব্দুর রহিম

বরিশাল:

ইসলাম সর্বদা উদারতাকে লালন করে। ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় আমীর এবং মজলিসে শুরা সম্পর্কে প্রকাশ্যে সমালোচনা করার অধিকার থাকে। আর এই সমালোচনা করার অধিকার রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের থাকে। কেননা ইসলামি রাষ্ট্রের খলিফাই কেবলমাত্র খলিফা নয়, বরং রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে জনসাধারণ নিজ নিজ খিলাফত অধিকার তার কাছে আমানত রেখেছে মাত্র। পক্ষান্তরে প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষই আল্লাহর খলীফা।
এজন্যই সর্বসাধারণ সমালোচনা করার অধিকার রাখে। এটা আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসুলের দেয়া।
রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “অত্যাচারী রাষ্ট্রনায়কের সম্মুখে স্পষ্ট সত্য বলা সবচেয়ে উত্তম জিহাদ”
ইসলামের ইতিহাস তালাশ করলে এর বাস্তব নমুনা পাওয়া যায়,
দ্বিতীয় খলীফা হযরত উমরের ঘটনা। তিনি খুতবা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ” হে মানুষ, আমার কথা শোন”
তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, “আপনার কথা আমরা শুনব না। আগে আপনি বলুন, যে জামা আপনি পরিধান করেছেন তার জন্য এত কাপড় আপনি কোথায় পেলেন? সরকারি পর্যায়ে যে কাপড় বন্টন হয়েছে তাতে তো এত কাপড় একজনের ভাগে পড়েনি!”
হযরত উমর (রাঃ) যথারীতি প্রমাণের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর এবং তাঁর পুত্রের কাপড় একত্রে করে জামা তৈরি করা হয়েছে।
তখন লোকেরা তাঁর কথা শুনতে মনঃস্থ করলো।

ইসলামে শুধু রাষ্ট্রযজ্ঞদের Public life সম্পর্কেই আলোচনা করার অধিকার দেয়না বরং Private life নিয়ে সমালোচনার অধিকার দেয়।
মানুষের জীবনকে ‘Private ‘ এবং ‘Public ‘ দুটি ভিন্ন ভাগে বিভক্ত করা এবং প্রাইভেট জীবনকে অন্তরালে রেখে কেবল পাবলিক জীবনের প্রতি গুরুত্ব দেয়া গণতান্ত্রিক যুগের কীর্তি।
ইসলাম এটাকে সমর্থন করে না। ইসলামের দৃষ্টিতে এই দুটি পার্ট একই জীবনের দুটি আলাদা ক্ষেত্র মাত্র। জীবনের এই উভয় ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য থাকা আবশ্যক। বিপরীতে সামাজিক ও সমষ্টিগত জীবনে কখনোই নীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব না।
ফর এক্সাম্পল, একজন লোক প্রাইভেট লাইফে চোর হলে সমাজ জীবনে সে সাধুতায় পরিবর্তন হতে পারে না। একজন লোক ব্যক্তি জীবনে প্রতারক হলে, সমাজজীবনে এসে সে ঈমানদার হয়ে যায় না। এটাই ইসলামি খেলাফতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কাউকে আমীর নিযুক্ত করার পূর্বে তার ব্যক্তিগত জীবন ও চরিত্র যাচাই করে নিতে হয়।
যেটা বস্তুতান্ত্রিক মতবাদে পাওয়া যায় না।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, স্ট্যালিনের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে রাশিয়ার প্রেস কোনো সমালোচনাই করতে পারে না। স্ট্যালিনের মৃত্যুর পরেও এই বিধান কার্যকর। এটাই কমিউনিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপ।

ইসলাম তার বিপরীত। স্বয়ং নবী (সাঃ) এর নিজস্ব কথা ও কাজের প্রতিকূলে যুক্তি প্রদর্শন হলে তা অনুসরণ প্রশংসনীয়।
বদরের যুদ্ধে তাই দেখা যায়। রাসুল সাঃ এক স্থানে ঘাটি স্থাপন করার পরে হযরত আমর ইবনে লুহাই এর কথায় তা স্থানান্তর করেছিলেন।
এটাই ইসলাম প্রদত্ত আযাদীর নমুনা।
কিন্তু রাশিয়ায় স্ট্যালিনের ন্যায় অন্যান্য কর্তাদের সম্পর্কে টু শব্দ করার অধিকার কারও নেই।
চীনের প্রধানমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, “চীনের অবস্থা রাশিয়ার ব্যতিক্রম নয়।”
এটাই হলো মানব রচিত আদর্শের প্রকৃত চেহারা। জনগণের উপর অমানুষিক জুলুম ও অক্টোপাসের বাঁধন দাঁড় করানোর অন্যতম এক বৈশিষ্ট্য।

তাই আসুন, ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠায় উজ্জীবিত হই। আল্লাহর ধরায় তার বিধান প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবরচিত সকল মতবাদের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব মানবতার মুক্তির ব্যবস্থা করে দেই।
আল্লাহ আপনাকে এই দায়িত্ব দিয়েই পৃথিবীতে প্রেরণ করেছে। দায়িত্ব দিয়েছেন খিলাফত প্রতিষ্ঠার। অন্যান্য জীব থেকে এটাই মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব।
মনে রাখতে হবে প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর সবাইকেই নিজ নিজ দায়িত্বের জবাব দিতে হবে।
রাসুল (সাঃ) বলেছেন,
” জেনে রাখ,তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বসম্পন্ন এবং প্রত্যেককেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে “(বুখারী)

Sharing is caring!