ইসলামী শরীয়াহ আইনে ধর্ষণের বিচার করতে হবে: হেফাজত হাটহাজারী শাখা

আওয়ার বাংলাদেশ ২৪
প্রকাশিত অক্টোবর ৫, ২০২০
ইসলামী শরীয়াহ আইনে ধর্ষণের বিচার করতে হবে: হেফাজত হাটহাজারী শাখা

আলমগীর ইসলামাবাদী 

বিশেষ প্রতিনিধি

সম্প্রতি সিলেট-নোয়াখালি সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘটিত নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদ ও শরীয়াহ আইনে ধর্ষণের বিচার দাবীতে আজ সোমবার (০৫ অক্টোবর ২০২০) বাদ আসর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ হাটহাজারী উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে হেফাজত হাটহাজারী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী বলেন,সারাদেশে যেভাবে নারী নির্যাতন ঘটনা ঘটছে তাতে আমরা উদ্বিগ্ন।সম্প্রতি নোয়াখালীর ঘটনাটি আইয়্যামে জাহেলিয়ার বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।এভাবে একটি সমাজ,একটি দেশ চলতে পারেনা।সারা দেশে বিচারের জন্য ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দেড় লক্ষাধিক মামলা ঝুলে আছে। এসব মামলার বিচার চলছে ঢিমেতালে। বছরে নিষ্পত্তি হচ্ছে মাত্র ৩.৬৬ শতাংশ মামলা। আর সাজা পাচ্ছে হাজারে মাত্র সাড়ে চারজন। সাজার হার ০.৪৫ শতাংশ। আইনে ত্রুটি, পুলিশি তদন্তে ত্রুটি এবং অবহেলা, ফরেনসিক টেস্টের সীমাবদ্ধতা, প্রভাবশালীদের চাপ এবং সামাজিক কারণে এ রকম হচ্ছে বলে মনে করে ধর্ষণের শিকার নারী ও তার পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়া মানবাধিকার সংগঠনগুলো।১৬০ বছর আগে প্রণীত ধর্ষণের সংজ্ঞা ও শাস্তি উভয়ই ধর্ষণ প্রতিরোধে সহায়ক নয়।ধর্ষণকে বিশেষ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশ্বের অনেক দেশ কঠোর শাস্তির বিধান করলেও বাংলাদেশের আইন ও বিচারে ধর্ষণ আর দশটা অপরাধের মতোই বিবেচিত হয়েছে।

বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণের সঙ্গে মৃত্যু না হলে মৃত্যুদণ্ড নেই। শুধু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। ধর্ষণ সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধের একটি। ধর্ষণ শারীরিক নিপীড়নের পাশাপাশি ভিকটিমকে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত করে। বিনা দোষে ধর্ষিতাকে সমাজে হেয় হতে হয়। ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে এবং দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধানের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশের সরকার অতি কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে।

চীনে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে ধর্ষকের যৌনাঙ্গ কেটে দেওয়া হয়। ইরানে সাধারণত ধর্ষককে জনসমক্ষে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে অথবা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আফগানিস্তানে ধর্ষণের শাস্তি রায়ের চার দিনের মধ্যে কার্যকর করা হয়। আর শাস্তিটি হলো ধর্ষকের মাথায় গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। উত্তর কোরিয়া ধর্ষণের বিচার বা শাস্তির জন্য বিন্দুমাত্র কালক্ষেপণ করে না। সেখানে ধর্ষককে ফায়ারিং স্কোয়াডে নিয়ে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। সৌদি আরবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে রায় ঘোষণার পর দ্রুত জনসমক্ষে শিরশ্ছেদ করে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতে যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের সাজা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড। এ ক্ষেত্রে কোনো ক্ষমা নেই, ধর্ষণ করলেই অপরাধ প্রমাণের সাত দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড পেতে হবে। মিসরে ধর্ষককে বরাবরই যেকোনো জনাকীর্ণ এলাকায় জনসমক্ষে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যেন অন্যরা সেটি দেখে ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।

হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারী উপজেলা শাখার সিনিয়র সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ আলী কাসেমীর সভাপতিত্বে ও মাওলানা কামরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আবু আহমদ,হেফাজতের উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম মেহেদী,যুগ্ন সম্পাদক মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ,দফতর সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ হোসাইন,সহ প্রচার সম্পাদক মাওলানা এমরান সিকদার,সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নিজাম সাইয়্যিদ,মাওলানা আসাদুল্লাহ মাওলানা ইকবাল গড়দুয়ায়ারী,মাওলানা হাবিব উল্লাহ,ছাত্রনেতা হাবিব আনোয়ার প্রমূখ।

Sharing is caring!