ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ন্যায় বিত্তবানরাও গরিবদের পাশে দাড়াতে হবে

আওয়ার বাংলাদেশ
প্রকাশিত মার্চ ৩০, ২০২০
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ন্যায় বিত্তবানরাও গরিবদের পাশে দাড়াতে হবে

সৈয়দ বেলালী: বর্তমান বিশ্বে সব চেয়ে আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস “কোভিড-১৯“। যা আজ পুরা বিশ্বকে একযোগে চরমভাবে নাড়া দিয়েছে। অনেক রাষ্ট্রে লাশের মিছিল হচ্ছে৷ কোন কোন দেশে দৈনিক হাজারের মত মানুষ মৃত্যু বরন করছে৷ বলা চলে পুরা বিশ্ব স্তব্ধ হয়ে গেছে৷ সব কিছু থমকে পড়েছে৷ এক দেশ অপর দেশের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। এক পরিবার অপর পরিবারের সাথে দেখা-সাক্ষাত বন্ধ।

এমন পরিস্থিতি পুর্বে কখনো হয়েছে কিনা জানা নেই। এমন চরম পরিস্থিতি প্রিয় জম্মভুমি বাংলাদেশেও বিরাজমান, যার কারনে পুরা দেশ কার্যত স্থবীর হয়ে পড়েছে৷

লকডাউনের কারনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি  হচ্ছে দিনমজুর, নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত, স্বল্পআয়ের মানুষ গুলোর। যারা দিনে এনে দিনে খেত, তাদের পরিবারে বিরাজ করছে দুর্ভিক্ষের ন্যায় হাহাকার।

জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, দেশের দানবীর, শিল্পপতি তথা বিত্তবানদের জনগণের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দৃষ্টিতে অপরিহার্য। আমরা শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না৷ আমাদের সামর্থ্যানুযায়ী জনগণের পাশে থাকা জরুরী।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের অভাব নেই৷ রাজপথে বক্তব্য দিয়ে মুখে খই ফুটানো বক্তারও অভাব নেই। শুধু অভাব মানুষের পাশে থাকা নেতার। টকশোতে লম্বা লম্বা কথা বলা নেতার অভাব নেই৷ শুধু অভাব মানুষের দুঃখের সময় পাশে থাকার মত নেতার।

ইসলামী দলেরও অভাব নেই৷ মনে হয় শতের উপর হবে৷ আজকে মানুষের দুরাবস্থায় তাদের খুব কমই দেখা যাচ্ছে৷ এখনো অনেক ইসলামী  নেতাকে দেখা যাচ্ছে লম্বা লম্বা লেকচার দিতে৷ লাইভে এসে বক্তব্য শুনাতে।

এখন এসব বয়ান আর লেকচার মানুষ শুনতে চায় না৷ মানুষ চায় মুখে দু’মুঠো ডাল-ভাত। দেশে রাজনীতি করবেন৷ লম্বা লম্বা বক্তব্য দিবেন৷ কিন্ত দেশের ক্রান্তিকালে জনগণের পাশে থাকবেন না, এমন দল ও নেতা বাংলার জনগণ চায় না। জনগণ চায় যে দলের কথা ও কাজে মিল রয়েছে, তাদেরকে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশে যত দুর্যোগ এসেছে, প্রতিটি দুর্যোগে সামর্থ্য অনুযায়ী জনগণের পাশে ছিল৷ তারই ধারাবাহিকতায় আজকেও এই ক্রান্তিকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহতারাম আমীর মুফতী সৈয়দ মো. রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাইর নির্দেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, যুব আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলনের সারাদেশের প্রত্যেক শাখা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শুরু থেকেই জনগণের পাশে রয়েছে।

সংগঠনটি প্রথমিক পর্যায়ে দেশব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টির জন্য লিফলেট, মাইকিং, জনসংযোগ, মাস্ক, হেন্ডসেনিটাইজার, ভাইরাস নিরোধক স্প্রে, সাবান ইত্যাদী  বিতরন করেছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে শুরু করেছে হতদরিদ্র মানুষের মুখে দুমুঠো ডাল-ভাতের ব্যাবস্থা করতে, যা চলমান রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই, যারা দেশের প্রত্যেকটি দুর্যোগে সর্ব প্রথমে ঝাপিয়ে পড়েন জনগণের পাশে। অন্য সব  সংগঠনগুলা যদি এমন মানবিক গুনাবলি সম্পন্ন হতো, তাহলে দুর্যোগে জনগণের কষ্ট করতে হত না।

তাই সবাইকে অনুরোধ করবো, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে’র ন্যায় আপনারাও সামর্থ্য অনুযায়ী হতদরিদ্র মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিকট অনুরোধ থাকবে, সরকারী সাহায্য  বিতরনের দায়িত্ব সেনাবাহিনির হাতে দিন৷ জনগনের আস্থা এখনো সেনাবাহিনির উপর রয়েছে।
কিন্ত আপনার মন্ত্রী, এমপি, চেয়ারম্যান, মেম্বার ও দলীয় নেতাদের উপর মানুষের আস্থা নেই।  কারনে বিগত দিনে তারা কোন সুযোগ হাতছাড়া করেনি৷ দুর্নীতি আর জুলুমের সয়লাব ঘটিয়েছে৷

লেখকঃ
সৈয়দ হাবিব উল্লাহ বেলালী
দাম্মাম, সৌদিআরব।

Sharing is caring!